ফেব্রুয়ারিতেও প্রবাসী আয় এসেছে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি
· Prothom Alo
![]()
সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ৩ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন বা ৩০২ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
Visit aportal.club for more information.
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন বা ২৫২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি) দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার।
এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩১৭ কোটি ডলার। আর গত ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের চেয়ে জানুয়ারিতে এবং জানুয়ারির চেয়ে ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় আসা কমেছে। গত ডিসেম্বরের আগের পাঁচ মাসে প্রবাসী আয় ছিল তিন বিলিয়ন ডলারের কম।
* চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার।* গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত দেশে দুই ঈদের আগে প্রবাসী আয় বেশি আসে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দু–তিন মাসে প্রবাসী আয়ের গতি বেশ ভালো ছিল। যেসব দেশে বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকেই বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হয়, যা পরে প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশে আসা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চে। ওই সময় ঈদুল ফিতর সামনে রেখে প্রবাসীরা এই অর্থ দেশে পাঠিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে দেশে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। এই আয় বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুতের প্রায় সমান।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।