আপনারও কি আইসক্রিম ক্রেভিং হয়
· Prothom Alo
ভরসন্ধ্যা হোক কিংবা রাত তিনটা! হুট করে আপনার আইসক্রিম খেতে খুব ইচ্ছে করে? ইউটিউবে ব্লগ বা ফেসবুক রিলে এমন তথ্য দেখা যায় যে ক্যালসিয়াম বা বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হলেই তৈরি হয় আইসক্রিম ক্রেভিং। আসলেই কি তা ঠিক? বিশেষজ্ঞরাই-বা কী বলছে?
আইসক্রিমের ক্রেভিং হলে খানিকটা আইসক্রিম খেয়ে নেওয়াই ভালোস্বাভাবিকভাবে ক্ষুধা লাগার মোটামুটি একটা নির্দিষ্ট সময় থাকলেও ক্রেভিং হতে পারে যখন-তখন। ক্রেভিং হলো হুট করেই নির্দিষ্ট কোনো খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা। এটা কেন হয় জানেন?
যে খাবার আপনি খুব পছন্দ করেন, সেই খাবার শুধু রসনাই তৃপ্ত করে না, বরং আপনার শরীরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে দেয় ডোপামিনের মাত্রা। ডোপামিন হলো একধরনের হ্যাপি হরমোন। অর্থাৎ, এর কারণে আপনি ভালো লাগার একটা অনুভূতি পান। তা ছাড়া কিছু খাবার খেলে দেহে সাময়িকভাবে সেরোটোনিনের মাত্রাও বাড়ে। এটি আরেকটি হ্যাপি হরমোন। এমনটাই বলছিলেন স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন।
Visit milkshake.it.com for more information.
যে ৮ বৈশিষ্ট্য দেখে বুঝবেন, কারও ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স কম কি নাপ্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খেলে আইসক্রিমের মতো মিষ্টি খাবারের ক্রেভিং হতে পারেযখন কোনো কারণে মানসিক চাপে ভোগেন, তখন সেই চাপ থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে অবচেতনভাবেই আপনি পছন্দের খাবার খেতে চাইতে পারেন। দুশ্চিন্তা বা হতাশায় মোড়ানো কোনো মুহূর্তে আপনার মনে হতে পারে, একটা আইসক্রিম খেলেই মন ভালো হয়ে যাবে। তবে মানসিক চাপই ক্রেভিংয়ের একমাত্র কারণ নয়।
আরও যেসব কারণে ক্রেভিং হয়
ক্লান্ত বা অবসন্ন অবস্থায় আপনার শরীরে শর্করার মাত্রা কম থাকে, ওই মুহূর্তে আপনার পছন্দের খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে। ঘুম না হলে তখনো ঘটতে পারে একই ব্যাপার।
আপনি যদি খুব কড়াকড়িভাবে নিজের ওপর কোনো ডায়েট চাপিয়ে দেন, যাতে সীমিত হয়ে পড়ে রসনাতৃপ্তির সুযোগ, তখনো প্রিয় খাবারের জন্য ক্রেভিং হতে পারে।
আবার আপনি যদি প্রায়ই প্রক্রিয়াজাত খাবার খান, সে ক্ষেত্রেও আপনার আইসক্রিমের মতো মিষ্টি খাবারের ক্রেভিং হতে পারে। ফাস্ট ফুড, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, চিনি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাত খাবার। এগুলো খাওয়া হলে রক্তের শর্করার মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়। অল্প সময় পরে আবার কমেও যায়। দেহ তখন শর্করার শূন্যতা অনুভব করে আর মিষ্টিজাতীয় খাবার খোঁজে, যা খেলে রক্তের শর্করা দ্রুত বাড়বে।
নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের তারতম্যের কারণে ক্রেভিং হতে পারে।
খুব গরম আবহাওয়াতেও অনেকের আইসক্রিমের মতো খাবারের ক্রেভিং হতে পারে।
ওই মুহূর্তে কী করবেন?
কোনো বিশেষ খাবার খাওয়ার জন্য যখন-তখন ক্রেভিং হতে পারেহুট করে কোনো খাবারের ক্রেভিং হলে আপনার সেই খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত। এ কথা ঠিক যে আইসক্রিমের মতো খাবার স্বাস্থ্যকর নয়। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে তীব্র ইচ্ছা বারবার দমিয়ে রাখলে ভেতরে-ভেতরে সে ইচ্ছার তীব্রতা বাড়তেই থাকে।
তাই একসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেক বেশি আইসক্রিম খাওয়া হয়ে যায়। তা ছাড়া ওই তীব্র ইচ্ছাটা অপূর্ণ রাখার কারণে আপনার মনমেজাজ বিগড়েও যেতে পারে।
বুঝতেই পারছেন, আইসক্রিমের ক্রেভিং হলে খানিকটা আইসক্রিম খেয়ে নেওয়াই ভালো। তবে ওই মুহূর্তে হাতের কাছে আইসক্রিম না পেলে এমন কিছু খেয়ে নিন, যাতে রসনার তৃপ্তিও হয় আর রক্তের শর্করাও ধীরে ধীরে বাড়ে। যেমন, বাদামি পাউরুটির সঙ্গে পিনাট বাটার মাখিয়ে খেতে পারেন। খেতে পারেন সুস্বাদু কোনো ফল।
হালিম রান্নায় কি ওটস দেওয়া যায়? দেখুন রেসিপিক্রেভিং যদি প্রায়ই হয়
চকলেট-কফি আইসক্রিমযদি প্রায়ই আপনার ক্রেভিং হয়, তাহলে নিজের জীবনধারার দিকে একটু মনোযোগী হোন। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য একটু সময় রাখুন। বিশ্রাম নিন। পর্যাপ্ত ঘুমান।
সুষম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। খুব কঠিন ধরনের ডায়েট না করাই ভালো। খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বাদের দিকটাও খেয়াল রাখুন। একটানা লম্বা সময় না খেয়ে থাকবেন না। সময়মতো খাবার খান। পুষ্টিকর স্ন্যাকস রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।
এমন খাবার খাবেন, যা রক্তের শর্করা ধীরে ধীরে বাড়ায় এবং লম্বা সময় ধরে তা ধরে রাখে। যেমন গোটা শস্য (লাল চাল, লাল আটা, ওটস, কিনোয়া প্রভৃতি) থেকে তৈরি করা খাবার। প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল। বাদাম খাবেন। তিন বেলাই কোনো না কোনো আমিষ গ্রহণ করতে চেষ্টা করুন।
খুব একটা স্বাস্থ্যকর না হলেও আইসক্রিম বা এ ধরনের কোনো খাবার আপনি পছন্দ করতেই পারেন। নিজেকে সেই খাবার খাওয়ার সুযোগ দিতে পারেন সপ্তাহের একটা দিন। পরিমাণ রাখুন সীমিত। প্রিয় কোনো মানুষের সঙ্গেও ভাগ করে নিতে পারেন এক স্কুপ আইসক্রিম।