রাজনীতির পরিবর্তন না হলে নারীদের অবস্থার পরিবর্তন হবে না

· Prothom Alo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার প্রার্থীর মধ্যে ৮৭ জন ছিলেন নারী। তাঁদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন সাতজন। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন তিনজন নারী। অথচ মোট ভোটারের ৫১ শতাংশ বা তার বেশি নারী। রাজনীতির এই চিত্র এবং এই সংসদ যদি পরিবর্তন না করা যায়, তাহলে নারীর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার এ কথা বলেন। ‘আক্রমণ, বিদ্বেষ, আধিপত্যের বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামে সিপিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এ সভায় সভাপ্রধান ছিলেন তিনি।

Visit likesport.biz for more information.

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসনে সিপিবির প্রার্থী ছিলেন জলি তালুকদার। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা এবং সন্ত্রাসী, মাস্তানি ও প্রশাসনিক কারসাজি—এসবের সঙ্গে নারীরা পারেন না।

নারীদের পুরুষতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকে দেখা হয় মন্তব্য করে সিপিবির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, সংসদে সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারীকে ভয়ংকরভাবে পুরুষতান্ত্রিক পুরুষেরাই নির্বাচিত করেন। এ ক্ষেত্রে সরাসরি নির্বাচন দাবি করেন তিনি।

এ সময় জলি তালুকদার বলেন, বাংলাদেশে ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনাবলির পেছনের মূল কারণটা আসলে রাজনীতি। একটা দেশের বা রাষ্ট্রের রাজনীতির চরিত্রটা কী, তার ওপর নির্ভর করে সেই দেশে নারীদের অবস্থা কী রকম হবে।

সিপিবির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘আজকে সরকারি দলে যাঁরা আছেন, তাঁদের আমরা জানি। বিরোধী দলে যাঁরা আছেন, তাঁরা তো মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধের শক্তি, ঘাতক শক্তি। আমাদের লাখো মা-বোনকে ধর্ষণ ও নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত। তারা আজকে বিরোধী দলে চলে গেছে বাংলাদেশে।’

প্রগতিশীল শক্তিগুলোর আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে থাকার প্রবণতার বিরোধিতা করে সিপিবির এই নেত্রী বলেন, ‘আজকে আপনি জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করে দেশ বাঁচাইছেন! এটাকে দেশ বাঁচানো বলে? এর চেয়ে একটা বিকল্পধারা যদি নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও আমরা গড়ে তুলতে পারতাম, দেশের অবস্থা পরিবর্তন হতো।’

তিন জায়গায় হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে

সিপিবি আয়োজিত এ আলোচনায় অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, বাংলাদেশে পটপরিবর্তন হয়, দেশ অগ্রসরও হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিহিংসা ও হয়রানির রাজনীতি ও বাস্তবতা চলতেই থাকে। তিনি আরও বলেন, ‘সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আমরা যাদের পছন্দ করি না, তাদের সঙ্গে অন্যায় হলেও পাশে দাঁড়াতে হবে।’

জনপরিসর, কর্মস্থল ও পরিবার—এই তিনটি জায়গাতেই হয়রানির বিরুদ্ধে নারীসহ সবাইকে লড়াই করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন সারা হোসেন। পাশাপাশি বৈষম্য নিরসনে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভার শুরুতে একটি ধারণাপত্র তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত। চিকিৎসক আখতার বানু, সিপিবি ও কৃষক সমিতির সদস্য লাকী আক্তার, সিপিবির ঢাকা দক্ষিণের নারী শাখার সম্পাদক মমতা চক্রবর্তী, বস্তিবাসী ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট কুলসুম বেগম প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন।

Read full story at source