গাছে বাকল থাকে কেন

· Prothom Alo

আমাদের চারপাশে প্রতিদিন অসংখ্য গাছপালা দেখি। গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পাতায় নিজের খাদ্য তৈরি করে। অর্থাৎ, পাতা গাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। একইভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ডালপালা ও শক্ত কাণ্ডকে আমরা গাছের মেরুদণ্ড হিসেবে কল্পনা করতে পারি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, গাছের বাকল বা ছাল আসলে কী কাজে লাগে?

Visit asg-reflektory.pl for more information.

বাকল গাছের অন্যতম জটিল একটি অংশ। বাকল না থাকলে আমরা যেসব বড় বড় গাছ দেখতে পাই, সেগুলো টিকতেই পারত না। একেক গাছের বাকলের গঠন ও চেহারায় আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে। এতটাই আলাদা যে, অনেক ক্ষেত্রে শুধু বাকল দেখেই গাছের প্রজাতি চেনা যায়। কিছু গাছে সারা জীবন একই রকম বাকল দেখা যায়। আবার কিছু প্রজাতিতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকলের চেহারা ও গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায়, গাছের বাকল বলতে ভাসকুলার ক্যাম্বিয়ামের বাইরের সব টিস্যুকেই বোঝায়। বাকলের ভেতরের অংশ মূলত সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম দিয়ে গঠিত। এই অংশ মাত্র এক বছর পর্যন্ত খাদ্য পরিবহনের কাজ সক্রিয়ভাবে করতে পারে।

পুরোনো ফ্লোয়েমের কিছু কোষ থেকে আরেক ধরনের পার্শ্বীয় বিভাজনক্ষম টিস্যু তৈরি হয়। এদের বলে কর্ক ক্যাম্বিয়াম। এই কর্ক ক্যাম্বিয়াম থেকেই তৈরি হয় কর্ক কোষ। কর্ক কোষগুলো পুরোনো সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম কোষকে কাণ্ডের বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। সেখানে এগুলো চাপে পিষ্ট হয়, ছিঁড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মরে ঝরে পড়ে।

গাছ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, কখন ফুল ফুটবে
উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায়, গাছের বাকল বলতে ভাসকুলার ক্যাম্বিয়ামের বাইরের সব টিস্যুকেই বোঝায়। বাকলের ভেতরের অংশ মূলত সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম দিয়ে গঠিত।

কর্ক ক্যাম্বিয়ামের বাইরের সব টিস্যুকেই বাইরের বাকল হিসেবে ধরা হয়। এর মধ্যে অকার্যকর ফ্লোয়েম ও কর্ক কোষও থাকে। অনেক গাছে প্রথম বছরেই কর্ক তৈরি হয়ে খসখসে ধরনের বাকল গড়ে তোলে। তবে কিছু গাছে কয়েক বছর পর্যন্ত বাকল খসে পড়ে না। কর্ক ক্যাম্বিয়াম মূলত নানা ধরনের আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধক দেয়াল তৈরি করে। কিন্তু এই প্রতিরোধী স্বভাবের কারণেই এটি বাইরের সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম ও অন্যান্য টিস্যুকে ভেতরের কাঠের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ফলে সেগুলো কার্যত মৃত হয়ে যায়। এ কারণেই গাছের বাইরের ছাল বা বাকল সম্পূর্ণভাবে মৃত টিস্যু দিয়ে গঠিত। কর্ক কীভাবে তৈরি হয়, সেটাই মূলত বাকলের চেহারা নির্ধারণ করে। কিছু গাছে কর্ক ক্যাম্বিয়াম ও কর্ক টিস্যু খণ্ড খণ্ডভাবে অথবা একটির ওপর আরেকটি আচ্ছাদিত হয়ে গড়ে ওঠে। ফলে বাকল খসখসে ও আঁশের মতো স্তরযুক্ত দেখায়। পাইনগাছ ও নাশপাতিগাছে এ ধরনের বাকল দেখা যায়।

পাইনগাছের বাকল খসখসে ও আঁশের মতো স্তরযুক্ত

আবার কিছু গাছে কর্ক একটানা স্তর আকারে তৈরি হয়। পরে একসময় এই লম্বা বাকলগুলো যখন খুলে আসে, তখন সেগুলো দেখতে অনেকটা বড় চাদরের মতো মনে হয়।

আরও সহজভাবে বললে, গাছের বাকল আসলে দুটি ভিন্ন স্তর নিয়ে গঠিত। প্রথম অংশটির নাম ফ্লোয়েম। ফ্লোয়েম বেশ জটিল একধরনের টিস্যু। এর প্রধান কাজ গাছের তৈরি করা শর্করা ও হরমোনসহ নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ গাছের এক অংশ থেকে অন্য অংশে পৌঁছে দেওয়া। গাছের প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই ফ্লোয়েম গাছের ভেতরে সঞ্চালন করতে পারে। তাই গাছের জন্য বাকল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গাছ কি ঘুমায়
কিছু গাছের বাকল আবার পাতলা ও মসৃণ হয়। এগুলো প্রতিবছর লম্বা ফালি ফালি হয়ে খসে পড়ে। আবার কিছু গাছের বাকল হয় তুলনামূলকভাবে মোটা, খসখসে বা কোঁচকানো ধরনের।

দ্বিতীয় অংশটির নাম কর্ক। অনেক গাছে ফ্লোয়েম ও কর্ক একসঙ্গে মিশে থাকে। কর্কের প্রধান কাজ গাছকে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। পাশাপাশি এটি গাছের ভেতরের অংশকে অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার হাত থেকেও সুরক্ষা দেয়। আমাদের মতোই গাছও উপযুক্ত তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে।

কিছু গাছের বাকল আবার পাতলা ও মসৃণ হয়। এগুলো প্রতিবছর লম্বা ফালি ফালি হয়ে খসে পড়ে। আবার কিছু গাছের বাকল হয় তুলনামূলকভাবে মোটা, খসখসে বা কোঁচকানো ধরনের। মাসের পর মাস বা অনেক বছর ধরে অল্প অল্প করে খসে পড়ে। মজার ব্যাপার হলো, একটি সাপ যেভাবে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর নিজের দেহের খোলস পরিবর্তন করে, তেমনি গাছও বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিতভাবে নিজের বাকল পরিবর্তন করে।

গাছের বাকল আবার বিভিন্ন পোকামাকড়, মাকড়সা বা ছত্রাকের চমৎকার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এদের মধ্যে কিছু জীব গাছকে টিকে থাকতে ও সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। গাছের এই সহায়ক জীবদের জন্য বাকল নিরাপদ ও উপযুক্ত একটি বাসস্থান। এ ছাড়া বাকল গাছের কাণ্ডকে অতিরিক্ত পানি হারিয়ে শুকিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। আবার ভারী বৃষ্টি বা বন্যার সময় অতিরিক্ত পানি ভেতরে ঢুকতেও বাধা দেয়।

লেখক: শিক্ষার্থী, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসূত্র: ব্রিটানিকা ও দ্য কনভারসেশনমাটির নিচ থেকে বিরল উপাদান সংগ্রহ করে দেয় যে গাছ

Read full story at source