যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইরাকের ম্যাচে সূচি বদলাতে বললেন কোচ
· Prothom Alo

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। আর মাত্র তিন মাস পর শুরু হবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল। যেখানে ৪২টি দল এরই মধ্যে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। আর ৬টি দলের বিশ্বকাপ খেলার ভাগ্য নির্ধারিত হবে প্লে–অফের মাধ্যমে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে ৪টি ও আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে ২টি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। সেই প্লে–অফের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আছে ইরাকেরও। কিন্তু ৪০ বছর পর ইরাকের আবার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ।
সূচি অনুযায়ী ইরাক ফুটবল দল আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মাটিতে সুরিনাম–বলিভিয়া ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচ জিততে পারলে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেবে দেশটি।
ইরান কি বিশ্বকাপে খেলবে, না খেললে কী হবেকিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় ইরাকের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরাক জাতীয় দলের প্রায় ৬০ শতাংশ খেলোয়াড় দেশের ভেতরের লিগে খেলেন। এখন বিমান চলাচল বন্ধের কারণে সব খেলোয়াড় নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে পারছেন না কোচ গ্রাহাম আরনল্ড, যিনি নিজেও আটকে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর মধ্যে স্থগিত করা হয়েছে হোস্টনের প্রস্তুতি ক্যাম্পও।
ইরাকের কোচ গ্রাহাম আরনল্ডইরাক দলের কোচ আরনল্ড বলেন, ‘এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ইরাকের বাইরে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফিফা যদি ম্যাচের সূচি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতির সময় পাব। সুরিনাম ও বলিভিয়া তাদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলবে। আমাদের জন্য ভালো বিকল্প হয় বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচটি খেলা।’
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে নিজেদের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে আরনল্ড আরও বলেন, ‘ইরাকের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কল্পনারও বাইরে। ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সুযোগ পেতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’
ইরানের বিশ্বকাপে খেলা না খেলাকে পাত্তা দিচ্ছেন না ট্রাম্পএদিকে ইরাক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আদনান দিরজাল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেন, ‘এটি এমন একটি ম্যাচ, যার ওপর পুরো জাতির স্বপ্ন নির্ভর করছে।’
বিশ্ব খেলোয়াড় ইউনিয়ন ফিফপ্রো জোর দিয়ে বলেছে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই সবার আগে। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বো বুশ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা কিছুটা কঠোর মনে হলেও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে। এই মুহূর্তে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইরাক লিগের সূচিও বিঘ্নিত হয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা ও দোভাষীরাও দেশ ছাড়তে পারছেন না। আরনল্ড সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের ছাড়া আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারব না। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য সেরা দল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।’
আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফের সূচি
সেমিফাইনালনিউ ক্যালেডোনিয়া-জ্যামাইকাবলিভিয়া-সুরিনাম
ফাইনালনিউ ক্যালেডোনিয়া/জ্যামাইকা-কঙ্গো ডিআর বলিভিয়া/সুরিনাম—ইরাক