নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়া-চীনের বিতণ্ডা

· Prothom Alo

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এমন এক সময়ে তাদের মধ্যে এ বিতণ্ডা হলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

Visit aportal.club for more information.

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার পরিষদের ১৫ সদস্যের বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা তদারকি কমিটির ইরানবিরোধী আলোচনা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে প্রভাবশালী দেশ রাশিয়া ও চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব খাটিয়ে অন্য সদস্যদেশগুলোকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ায় রাশিয়া ও চীনের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। আলোচনার পক্ষে ভোট দেয় ১১টি দেশ। আর বিপক্ষে ভোট দেয় ২ দেশ। দুটি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস অভিযোগ করেন, মস্কো ও বেইজিং ‘১৭৩৭ কমিটিকে’ বাধা দিয়ে তেহরানকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পরিষদের নিষেধাজ্ঞা তদারকি কমিটি ‘১৭৩৭ কমিটি’ নামে পরিচিত।

ওয়ালৎস বলেন, ‘জাতিসংঘের সব সদস্যদেশের উচিত ইরানের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির লেনদেন বন্ধ ও ২৩ সংশ্লিষ্ট আর্থিক সম্পদ জব্দ করা।’ এই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইরানের ওপর আবার আরোপিত এসব বিধিনিষেধ উদ্দেশ্যমূলক নয়। ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সন্ত্রাসবাদে দেশটির ক্রমাগত মদদ রুখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

ওয়ালৎস বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদে একটি কার্যকর নিষেধাজ্ঞা কমিটি থাকুক, তা চীন ও রাশিয়া চায় না। তারা তাদের অংশীদার ইরানকে রক্ষা করতে চায়। একই সঙ্গে তারা দেশটির সঙ্গে নিষিদ্ধ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখতে চায়।’ ওয়ালৎস উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র নেই, এমন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ ও মজুত করেছে। এমনকি এই মজুত পরিদর্শনে দেশটি আইএইএকে অনুমতি দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘উন্মাদনা’ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথিত পরিকল্পনা নিয়ে ভিত্তিহীন আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যা দাবি করছে, আইএইএর কোনো প্রতিবেদনে এমন প্রমাণ মেলেনি।’ নেবেনজিয়া বলেন, ‘তেহরানের বিরুদ্ধে আরও একটি সামরিক অভিযান চালানোর অভিপ্রায় থেকে এসব করা হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এবং এর বাইরে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।’

চীনের প্রতিনিধি ফু কং ওয়াশিংটনকে এই সংকটের ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি শক্তি প্রয়োগ করেছে। ফলে সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সব সময় শান্তিপূর্ণ’। তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো চেষ্টা তাঁরা মেনে নেবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছেন। চলতি মাসে তিনি দাবি করেন, গত জুনে ইরানকে রুখে না দিলে দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়ে ফেলত। তাই তাদের এ কর্মসূচি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তবে কয়েকটি সূত্র বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পের এ দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছে, ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাটা যৌক্তিক। কারণ, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে। ফ্রান্স বলেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ, সে বিষয়ে এখন আর কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না আইএইএ। ফ্রান্সের দাবি, তেহরানের কাছে বর্তমানে ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরির মতো পর্যাপ্ত ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে।

Read full story at source