পদ্মায় বাসডুবি: পঞ্চম দিনের মতো শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান
· Prothom Alo

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। অন্যান্য দিনের মতো আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা তাঁদের কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে গতকাল শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলে। এ সময় দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের অবশিষ্ট পন্টুনটি সরিয়ে ফেলা হয়। সেসব স্থানেও শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে অনুসন্ধান চালানো হয়। সন্ধ্যার পর সাময়িকভাবে উদ্ধার কার্যক্রমে বিরতি দেওয়া হয়।
Visit newsbetting.bond for more information.
এর আগে গত বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে নদী পারাপারের জন্য দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ঘাটে থাকা একটি বড় ফেরি যানবাহন বোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ায় বাসটি অন্য ফেরির অপেক্ষায় ছিল। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি ‘হাসনা হেনা’ভেড়ে। ফেরি থেকে দুই-তিনটি যানবাহন নামানোর সময় অপেক্ষমাণ সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের দিকে এগিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
বুধবার মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটি টেনে পন্টুনে তোলে। এ সময় বাস থেকে ১৮ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা আরও ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পরপর ৪ জন যাত্রীকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক ২ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬ জনের মরদেহ বিনা ময়নাতদন্তে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীরা অন্যান্য দিনের মতো আজও সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবেন। আমরা যথারীতি সকাল থেকে ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান নিয়েছি। অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও আসছেন। সন্দেহজনক স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেসব স্থানে অনুসন্ধান করা হবে। তবে অভিযান কখন বা কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিখোঁজের তথ্য নেই। তারপরও কারও মনে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন না থাকে, সে জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অভিযান চলমান থাকবে। অভিযান কার্যক্রম শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এদিকে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার মুক্তা আক্তার সোহানা শোভা নামের এক নারী তাঁর বড় ভাই রিপন শেখের নিখোঁজের কথা জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপন শেখ মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। জেলা প্রশাসন বিস্তারিত অনুসন্ধান করে ওই দিন সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে রিপনের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে পারেনি। রিপন শেখ বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের মৃত আবদুল বারেক শেখের ছেলে।