টিকার বয়সের আগেই হাম হচ্ছে শিশুদের, এই বয়সী শিশুর সুরক্ষায় কী করবেন

· Prothom Alo

হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর। সাম্প্রতিক সময়ে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরও হাম হচ্ছে। তাতে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। এই ছোট্ট শিশুদের সুরক্ষায় কী করা উচিত, সে সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

Visit asg-reflektory.pl for more information.

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের সব শিশুকে হামের টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়ে থাকে। ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে সাধারণত এ টিকা দেওয়া হয় না। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে।

খুব কম বয়সী শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কম থাকে। এই বয়সে হামের মতো জীবাণুর সংক্রমণে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সতর্কতার বিকল্প নেই।

কেন ৯ মাসের আগে হামের টিকা দেওয়া হয় না

একজন মানুষ হামের টিকা নিয়ে থাকলে কিংবা কখনো হামের জীবাণু দিয়ে সংক্রমিত হয়ে থাকলে তাঁর দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি হামের জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একজন নারীর দেহে এই অ্যান্টিবডি থেকে থাকলে তাঁর গর্ভে আসা সন্তানের দেহেও এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

জন্মের পর বেশ কয়েক মাস পর্যন্ত এই অ্যান্টিবডি ওই শিশুকে হামের জীবাণু থেকে সুরক্ষিত রাখে। কিন্তু এই সময়ে শিশুকে যদি হামের টিকা দেওয়া হয়, তাহলে মায়ের থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির কারণে টিকা আর কার্যকর হবে না। অর্থাৎ পরবর্তী জীবনে শিশুটি হামের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণেই এই টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস পূর্ণ হওয়ার পর।

তবে সংক্রমণ হতে পারে

যখন কোনো এলাকায় হামের জীবাণুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন ৯ মাসের কম বয়সী কিছু শিশুও হামে আক্রান্ত হতে পারে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকে—

  • প্রতিটি শিশুর মা যে হামের টিকার সব কটি ডোজ পেয়েছেন কিংবা হামের জীবাণু দিয়ে কখনো সংক্রমিত হয়েছেন, তা নয়। তাই সব মায়ের দেহে অ্যান্টিবডি থাকে না। তা ছাড়া টিকা দেওয়া হলেও সবার দেহে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি না-ও হতে পারে। তাই মায়ের কাছ থেকে সব শিশু অ্যান্টিবডি না-ও পেতে পারে।

  • সব শিশুর দেহেই যে একই বয়স পর্যন্ত তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি রয়ে যাবে, তা–ও শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায় না।

  • ভিটামিন এ–এর ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক কমে যায়। পুষ্টিহীনতায় ভোগা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল না খাওয়ানোর কারণে হামসহ বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যেভাবে সুরক্ষিত থাকবে ছোট্ট শিশু

শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালো

৯ মাসের কম বয়সী শিশুকে এই বিপর্যয়ের সময় সুরক্ষিত রাখতে খেয়াল রাখুন এসব বিষয়—

  • শিশু ও শিশুর ব্যবহার্য সামগ্রী স্পর্শ করার আগে দুই হাত সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।

  • খুব প্রয়োজন না হলে শিশুকে বাসার বাইরে নেবেন না।

  • বাসার কারও জ্বর বা র‍্যাশ হলে তাকে আলাদা ঘরে রাখুন। বিশেষ প্রয়োজনে শিশুর ঘরে যেতে হলে ওই ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

  • নিয়মমাফিক মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাস বয়স পূর্ণ হলে ভিটামিন এ–সমৃদ্ধ খাবারসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার শুরু করতে হবে।

  • শিশুর বয়স অনুযায়ী ডোজ হিসাব করে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে নেওয়া ভালো। এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বড়দেরও কি হাম হতে পারে? হলে কী করবেন

টিকাও প্রয়োজন হতে পারে

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের শিশুদের টিকা দেওয়া হয়
  • এলাকায় সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা ওই এলাকার বাসিন্দাদের সেই পরামর্শও দেবেন।

  • যেসব নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে, তাঁদের যদি হামের টিকার দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে না থাকে কিংবা কখনো হাম হওয়ার ইতিহাস না থাকে, তাহলে তাঁদের হামের টিকা নেওয়া প্রয়োজন। টিকা নেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে, সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে গর্ভধারণ করলে শিশু নিরাপদ থাকবে।

উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন

হামের উপসর্গ দেখা দিলে ওই শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। দ্রুততম সময়ে একজন শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধও ডোজ না জেনে ছোট শিশুকে সেবন করানোর সুযোগ নেই। মায়ের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করবেন না।

ডায়রিয়া, বারবার বমি হওয়া, কান পাকা (কান থেকে পুঁজ বা পানি পড়া), শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি বা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে দেরি করবেন না।

হাম কী, কেন ও কীভাবে ছড়ায় এবং শিশুর হাম হলে করণীয় জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

Read full story at source