‘পরিত্যক্ত’ মালিহা থেকে যেভাবে ‘রাজকন্যা’র মতো বেড়ে উঠছে ইমেরা

· Prothom Alo

ভোরের আলো গড়িয়ে পড়তেই ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় ‘ইমু পাখি’, ‘ময়না পাখি’ শব্দে ডাক শোনা যায়। মেজাজ ভালো থাকলে সেই ডাকে সাড়া দেয় ছোট্ট একটি শিশু। আর সাড়া না দিলে মুখ গোমড়া করে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। তার ছোট্ট রাগ, ছোট্ট আবদারেই যেন পুরো বাসা জেগে ওঠে—এক রাজকন্যার মতোই যার দখলে এখন চারপাশের সব মনোযোগ।

Visit saltysenoritaaz.org for more information.

এই কন্যাশিশুর নাম ইমেরা সারার, যাকে সবাই আদর করে ডাকেন ‘ইমু পাখি’ ও ‘ময়না পাখি’ নামে। বয়স আনুমানিক দেড় বছর। ‘আনুমানিক’ বলা হচ্ছে, কারণ জন্মের পরপরই তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া হয়েছিল। পরে ‘পরিত্যক্ত’ হিসেবে সরকারের ছোটমণি নিবাসে আশ্রয় পায় এই শিশু, নাম দেওয়া হয় মালিহা। সেই শিশুই এখন ইমেরা সারার নামে রাজকন্যার মতোই বড় হচ্ছে ফার্মাসিস্ট সামশাদ সুলতানার পরিবারে।

ছোটমণি নিবাস থেকে পরিবারে ফেরার দিন উপতত্ত্বাবধায়ক জুবলি বেগমের কোলে ইমেরা। তখন তার বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস

মালিহা থেকে যেভাবে ইমেরা সারার

ছোটমণি নিবাসে থাকার সময়ই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মালিহার জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। ঢাকার পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ১৮৯০ সালের অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন এবং ২০২৩ সালের পারিবারিক আদালত আইনের আওতায় তার অভিভাবকত্ব দেওয়া হয় ফার্মাসিস্ট সামশাদ সুলতানা খানমকে।

ছোটমণি নিবাসে থাকার সময়ই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মালিহার জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। ঢাকার পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ১৮৯০ সালের অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন এবং ২০২৩ সালের পারিবারিক আদালত আইনের আওতায় তাকে অভিভাবকত্ব দেওয়া হয় ফার্মাসিস্ট সামশাদ সুলতানা খানমের কাছে।

গত বছরের ২১ মে পাওয়া এই আইনি স্বীকৃতির পর মালিহার নতুন নাম হয়—ইমেরা সারার। অভিভাবক সনদে উল্লেখ করা হয়, তার জন্ম আনুমানিক ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর। সামশাদই এখন তার আইনগত অভিভাবক, যিনি তাকে শরীর ও জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

‘গর্ভে নয়, ব্রেনে ধারণ করেছি’

৮ এপ্রিল রাজধানীর মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগে সামশাদ সুলতানার মা মাহমুদা বেগমের বাসায় কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। সামশাদ সুলতানা শুনিয়েছেন পরিত্যক্ত শিশু থেকে রাজকন্যা হয়ে ওঠা ইমেরার জীবনের গল্প।

সামশাদ বলেন, সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ছোটমণি নিবাসে ইমেরার নাম ছিল মালিহা। সন্তানের জন্মের পর অন্য পরিবারের মতোই তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটা করে শিশুটির নাম রাখেন ইমেরা সারার। ইমেরা এখন আধো আধো কথা বলা শিখেছে। নিজে থেকেই সে সামশাদকে বাবা আর নানি মাহমুদা বেগমকে দাদা বলে ডাকে।

সামশাদই এখন তার আইনগত অভিভাবক, মা

সামশাদ সুলতানা বলেন, ‘আমিও আমার বাবাকে আব্বা আর মাকে বাবা ডাকি। আমার মেয়েও আমাকে বাবা ডাকে। অবিবাহিত আমিই ওর মা, আমিই ওর বাবা। ওকে গর্ভে নয়, ব্রেনে ধারণ করেছি।’

সামাজিক নিয়ম রক্ষায় প্রতীকী হিসেবে ইমেরার বাবার নামের জায়গায় মুহাম্মদ আবদুল্লাহ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সামশাদ। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো ‘আল্লাহর বান্দা’ বা ‘আল্লাহর দাস’। ভবিষ্যতে কোনো আবদুল্লাহ সত্যি সত্যি জীবনে এলে ইমেরার সবকিছু জেনেই তিনি আসবেন।

—সামশাদ সুলতানা খানম, ইমেরার আইনি অভিভাবকআমিও আমার বাবাকে আব্বা আর মাকে বাবা ডাকি। আমার মেয়েও আমাকে বাবা ডাকে। অবিবাহিত আমিই ওর মা, আমিই ওর বাবা। ওকে গর্ভে নয়, ব্রেনে ধারণ করেছি।

সমাজের প্রচলিত ধারণা ভেঙে সামশাদ সুলতানা স্পষ্ট করে বলেন, ইমেরার পরিচয় তিনি কখনো গোপন করবেন না। সামাজিক বাস্তবতায় এ ধরনের পরিত্যক্ত শিশুদের অভিভাবকত্ব পাওয়া অধিকাংশ মা–বাবা বিষয়টি গোপন করেন। সমাজের অনেকেই এমন বাচ্চাদের ধর্ম, বংশ ও মা–বাবা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলে। তিনি পরিচয় গোপন করার এই ‘ট্যাবু’ ভাঙতে চান। চান, ইমেরার মতো শিশুরা যেন সমাজে অচ্ছুত না হয়।

সামশাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। বর্তমানে তিনি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের আন্তর্জাতিক বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। সামশাদ এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার ২০টির মতো দেশে ভ্রমণ করেছেন। জাপানিজ, ফ্রেঞ্চ, আরবি ভাষা শিখেছেন। তাঁর তিনটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। অবসর সময়ে তিনি ফেসবুকে নিয়মিত ইমেরাকে নিয়ে লেখালেখি করেন।

ইমেরা কীভাবে ভালো থাকবে, তা নিয়েই সামশাদের পরিবারের সবাই ব্যস্ত থাকেন এখন। আর অন্য নানিদের মতোই ইমেরার পেছনে ঘুরঘুর করে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে সামশাদের মা মাহমুদা বেগমের।

ইমেরার পেছনে ঘুরঘুর করে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে নানি মাহমুদা বেগমের

অসুস্থতা পেরিয়ে নতুন প্রাণ

পরিচয়হীন শূন্য থেকে সাত বছর বয়সী পরিত্যক্ত বা পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া কিংবা ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের নিরাপদ ঠিকানা হয় ছোটমণি নিবাস। দেশের ছয় বিভাগে ছয়টি নিবাস আছে। এখানে থাকার পর সাত বছর বয়স হলে এই শিশুদের ঠাঁই হয় সরকারের শিশু পরিবারে। আর ইমেরার মতো কিছু শিশু আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো পরিবারের সদস্য হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। তবে সবার ভাগ্যে পরিবার জোটে না। কেউ কেউ বড় হয়ে ওঠে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই, আর অল্প কয়েকজন পায় নতুন ঘর, নতুন পরিচয়। ইমেরা সেই অল্প কয়েকজনের একজন।

—জুবলি বেগম, উপতত্ত্বাবধায়ক, আজিমপুর ছোটমণি নিবাসমালিহাকে মিরপুর থানার মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছিল। সামশাদই প্রথম নারী, যিনি অবিবাহিত হয়ে এ নিবাস থেকে এমন শিশুর অভিভাবকত্ব পেয়েছেন।

সামশাদ বলেন, তিনি আগে থেকেই শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ছোটমণি নিবাসে যেতেন। মনে মনে চাইতেন ওদের মধ্য থেকে কাউকে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করতে। ইমেরার সঙ্গে প্রথম যখন দেখা হয়, তখন সে ছিল মাত্র ৪৫ দিনের এক দুর্বল শিশু। অপুষ্টি ও অসুস্থতায় ভুগছিল।

ইমেরার আসল মা–বাবা খোঁজ নিতে আসেন কি না, সেই অপেক্ষায় থাকতেন সামশাদ। কিন্তু খোঁজ নিতে কেউ আসেননি। এ সময় নিয়মিত ওকে দেখে আসতেন তিনি। বাসায় ফিরে তাকে ঘিরে নানা রকম স্বপ্নে বুঁদ হয়ে থাকতেন। তার বয়স যখন প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস, তখন বাসায় নিয়ে যান।

সামশাদ বলেন, তাকে যখন বাসায় আনা হয়, তখনো শরীরে ছিল নানা সমস্যা। পুরো শরীরে স্ক্যাবিস। পরে স্কয়ার হাসপাতালে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা আর তাঁদের যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে সে।

ইমেরার অভিভাবকত্ব নেওয়ার আগে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, আলেমসহ নানা মানুষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন সামশাদ। তিনি বলেন, অবিবাহিত একজন নারীর জন্য একটি শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুব একটা সহজ ছিল না। আর ইমেরা তার আশপাশের এই মানুষগুলোর মধ্যেই বড় হবে।

—মাহমুদা বেগম, সামশাদ সুলতানা খানমের মারুগ্‌ণ ইমেরাকে দেখে প্রথমে সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ওকে বাঁচানো যাবে কি না, তা নিয়েই চিন্তা হতো। তারপর আস্তে আস্তে এলোমেলো হয়ে যাওয়া এই পরিবারের একজন হয়ে ওঠে ইমেরা। সব হারিয়ে ওকে আমরা পেয়েছি। শুধু ইমেরা ভালো আছে তা–ই না, আমরাও ওকে পেয়ে নতুন করে বাঁচতে শুরু করেছি। ও আমাকে দাদা ডাকে।

রাজধানীর আজিমপুরে ছোটমণি নিবাসে ২০১৬ সালের শেষ থেকে দায়িত্ব পালন করছেন উপতত্ত্বাবধায়ক জুবলি বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা মালিহাকে মিরপুর থানার মাধ্যমে পেয়েছিলেন। সামশাদই প্রথম নারী, যিনি অবিবাহিত হয়ে এ নিবাস থেকে এমন শিশুর অভিভাবকত্ব পেয়েছেন।

জুবলি বেগম বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই, এখানে থাকা শিশুরা যেন একটি ভালো পরিবার পায়। বর্তমানে অনেকেই শিশুর অভিভাবকত্ব নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। আদালতের সংশ্লিষ্টরাও আগের তুলনায় অনেক সংবেদনশীল হয়েছেন।’

মা ও নানির সঙ্গে ইমেরা

শোকের ভেতর আলো

ইমেরা ঘরে আসার আগে সামশাদের পরিবারে নেমে এসেছিল একের পর এক শোক। তাঁরা চার বোন ও এক ভাই ছিলেন। বাবা সামছুল আলম ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের প্রধান। সামশাদ বাবা, মা ও বড় বোন শাহিদা সুলতানা খানমের সঙ্গে ২০২৪ সালে হজ করতে গিয়েছিলেন। হজের পর মক্কায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ তাঁরা বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যান। সেখানেই দাফন শেষে বাবাকে ছাড়া দেশে ফেরেন সামশাদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

সামশাদ বলেন, তাঁর একমাত্র বড় ভাই মাহবুবুল আলম নারায়ণগঞ্জে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর ৯ মাস পর অসুস্থ হয়ে এই ভাইও মারা যান। এমন গুমোট পরিবেশেই ইমেরার আগমন ঘটে পরিবারে। হাসতে ভুলে যাওয়া পরিবারটির সদস্যরা নতুন করে হাসতে শুরু করেন ইমেরাকে কেন্দ্র করে।

সামশাদ আরও বলেন, ‘হুট করে বাবা মারা গেলেন। একমাত্র ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। লিভার সিরোসিসে তাঁরও মৃত্যু হলো। অফিসে কাজের চাপ, প্রিয়জন হারানোর কষ্ট—এসব সামলাতে কাউন্সেলিংয়ের জন্য মনোবিজ্ঞানীর কাছেও গিয়েছি। মেয়েকে পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই মানসিক সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’

সামশাদ মা মাহমুদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রুগ্‌ণ ইমেরাকে দেখে প্রথমে সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ওকে বাঁচানো যাবে কি না, তা–ই নিয়েই চিন্তা হতো। তারপর আস্তে আস্তে এলোমেলো হয়ে যাওয়া এই পরিবারের একজন হয়ে ওঠে ইমেরা। সব হারিয়ে ওকে আমরা পেয়েছি। শুধু ইমেরা ভালো আছে তা–ই না, আমরাও ওকে পেয়ে নতুন করে বাঁচতে শুরু করেছি। ও আমাকে দাদা ডাকে।’

অবিবাহিত হয়েও একটি শিশুর মা হয়ে ওঠার পেছনে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে সামশাদ বলেন, ইমেরাকে নেওয়ার জন্য আইনি আবেদনে জিম্মাদার ছিলেন তাঁর বড় বোন খুলনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহিদা সুলতানা খানম। আর সুইডেন থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফেরা ছোট বোন সানজিদা সুলতানা খানম তখন নতুন মা হয়েছেন। ইমেরার দুধমা হিসেবে তিনিই বুকের দুধ খাওয়ান। সামশাদ অফিসের কাজে দেশের বাইরে গেলে ইমেরাকে দেখে রাখার জন্য সাভারে থাকা সানজিদার ডাক পড়ে ঢাকায়।

খালা ও দুধমা সানজিদা সুলতানার কোলে ইমেরা

মায়ের বাসায় বেড়াতে আসা সানজিদার সঙ্গেও কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁর ছেলের জন্মের দুই সপ্তাহের মাথায় ইমেরাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ‘ইমেরা মায়ের বুকের দুধ কীভাবে খেতে হয় ,তা–ই জানত না। শুরুতে খাওয়াতে পারি নাই। পরে পাম্পের সাহায্যে নিয়ে ফিডারে খাওয়াতাম। এখন আমি বলি, আমার দুই ছেলে–মেয়ে। মেয়ে আমাকে মাম্মা ডাকে।’

সামশাদ তাঁর কর্মস্থল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ইমেরাকে নিবাস থেকে আনার পর অফিসের সহকর্মীরা নানা উপহার দিয়ে বিষয়টি উদ্‌যাপন করেছেন। অফিসের কর্মীরা সন্তানসহ চিকিৎসায় বিশেষ সুবিধা পান। কিন্তু ইমেরাকে তো গর্ভে ধারণ করেননি সামশাদ। এরপরও তিনি ইমেরার জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ অন্যদের মতো ইমেরাকেও একই সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে অভিভাবকত্ব থাকলেও দত্তক আইনের অভাবে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। উত্তরাধিকার, পরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি—সব ক্ষেত্রেই রয়েছে জটিলতা।

এ কারণে সামশাদ বলেন, রাস্তায়, ডাস্টবিনে ও হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে যাওয়া নবজাতকের সংখ্যা বাড়ছে। আবার বন্ধ্যত্বসহ নানা কারণে অনেকেই সন্তান নিতে পারছেন না। আইনের অগোচরে টাকার বিনিময়ে শিশু বিক্রিও হচ্ছে। ইমেরার মতো সন্তানদের সম্পত্তি কাগজে দান না করলে তারা উত্তরাধিকার দাবি করতে পারে না, অভিভাবকত্ব পাওয়া মা–বাবার অনুপস্থিতিতে পরিবারের অন্য সদস্যরা চাইলে তাদের বঞ্চিত করতে পারে। ইমেরাদের সুরক্ষায় দত্তক আইন প্রণয়ন ও অভিভাবকত্ব প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সামশাদ তাঁর এই মেয়েকে নিয়ে মায়ের বাসায় থাকেন। সামশাদ বলেন, ‘নিজের নামে বাড়ি বানিয়েছি। মেয়েকে তার নানির বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাব, সে প্রস্তুতি চলছে।’

মেয়ের পাসপোর্ট করা, স্কুলে ভর্তি করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই হয়তো নানা প্রতিবন্ধকতা পোহাতে হবে উল্লেখ করে সামশাদ বলেন, ‘মেয়েকে মানসিকভাবে শক্তপোক্ত করে বড় করব, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। ইমেরা নামের অর্থ নেতা, আর সারার মানে হচ্ছে খাঁটি। আমি চাই, মেয়ে বড় হয়ে নেতৃত্ব দেবে।’

মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠি গত বছরের নভেম্বরে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সামশাদ। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘বড় হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে শুনবে, তারা কেউ ৮ কিংবা ৯ অথবা ১০ মাস তাদের মায়ের উদরে বেড়ে উঠেছে। তুমি তখন সগৌরবে নিজের গল্প শোনাবে।...একটাই অনুরোধ থাকবে, জীবনে চলার পথে অসত্য, অন্যায় আর অহমিকাকে কখনো প্রশ্রয় দিয়ো না। অন্তর থেকে জন্ম নেওয়া মানবশিশু তুমি, সারাটা জীবন সবার অন্তরের আলো হয়ে থেকো।’

Read full story at source