কাল এসএসসি শুরু, এত গরমে মাথা ঠান্ডা রাখব কীভাবে
· Prothom Alo

কথায় আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। দিনটা কেমন যাবে, সেটা সকালেই টের পাওয়া যায়। এখন প্রযুক্তি হাতের মুঠোয় থাকায় কাল, পরশু বা এক সপ্তাহ পর দিনটা কেমন যাবে, সেটাও আগেভাগে জানা যায়। বিশেষ করে আবহাওয়ার ব্যাপারটা। আজ ঢাকায় সকাল শুরু হয়েছে প্রচণ্ড গরমের মধ্য দিয়ে। সকাল নয়টায় ঢাকার মোহম্মদপুরে তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি হলেও অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ১২টায় কারওয়ান বাজারে এসে দেখা গেল, তাপমাত্রা বেড়ে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। অনুভূত তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস! রাজশাহীতে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস! কাল ২১ এপ্রিল ঢাকার তাপমাত্রা আজকের মতোই থাকবে।
Visit afrikasportnews.co.za for more information.
কাল যারা এসএসসি পরীক্ষায় বসবে, তোমাদের সকাল শুরু হবে একটু ভিন্নভাবে। অনেক দিন ধরে এই দিনটার জন্য তোমরা অপেক্ষা করেছো। প্রস্তুতি নিয়েছো। তোমার পরীক্ষা খুব ভালো হোক, এই আশা করি। পরিবারের সদস্যরা তোমাদের সঙ্গে নিশ্চয়ই আছেন। তাঁরা পরীক্ষার হলের বাইরে অপেক্ষা করবেন। ধরে নিচ্ছি তোমার পরীক্ষার হল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না। তোমার হলে হয়তো ফ্যান থাকবে। কিন্তু রুমের তাপমাত্রা বা কক্ষের তাপ যেখানে ৪১ ডিগ্রি অনুভূত হচ্ছে, সেখানে মাথা ঠান্ডা রাখা খুব কঠিন হতে পারে। তাই তোমাকে সচেতন হতে হবে।
কয়েদিদের খাবার থেকে লবস্টার যেভাবে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠল৪১ ডিগ্রি মানে কী?
৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আমাদের দেশের জন্য মারাত্মক তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) আশপাশে থাকে। যখন বাইরের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তখন শরীর নিজেকে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। শিশু-কিশোরেরা এই সময়ে সবচেয়ে দুর্বল বা অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।
৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শরীরে যা ঘটে
হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি: এটি সবচেয়ে বড় বিপদ। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পার হলে ঘাম হওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ সময় মস্তিষ্ক ও শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তুমি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ একটা পরীক্ষা দিচ্ছো, তোমার মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। শরীর ঠান্ডা রাখতে হবে।
ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: প্রচণ্ড ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। এতে শিশু-কিশোরেরা দ্রুত ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তুমি যদি পরীক্ষার সময় ডিহাইড্রেশনে ভোগো, তাহলে তুমি খাতায় লিখতে অসুবিধায় পড়বে। তাই তোমার প্রস্তুতি থাকা উচিত। পানির পট রাখবে, যেটায় পানি ঠান্ডা থাকে। জুস ও ড্রিংক রাখবে যেন পিপাসা মেটাতে পারো।
মাংসপেশিতে খিঁচুনি: শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে হাত-পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা বা খিঁচুনি হতে পারে।
মনোযোগ হারানো: অতিরিক্ত গরমে মস্তিষ্ক ঠিকঠাক কাজ করতে পারে না। ফলে লিখতে গিয়ে মনোযোগ কমে যেতে পারে, মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। মাথা ঘোরা বা বমি ভাব হতে পারে। তাই তোমাকে খুব সাবধানে থাকতে হবে।
চায়ের কাপে আগে দুধ না চাসুস্থ থাকতে যা করতে হবে
১. তৃষ্ণা না পেলেও বারবার পানি পান করতে হবে
শিশু-কিশোরদের জন্য লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা লবণ-চিনির মিশ্রণ খুব ভালো। বাজারে পাওয়া যায় এমন রঙিন কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ, এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে ফেলে।
২. সঠিক পোশাক নির্বাচন করতে হবে
একদম পাতলা ও ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরতে হবে। সিনথেটিক বা গাঢ় রঙের কাপড় তাপ শোষণ করে শরীরকে আরও গরম করে দেয়। সাদা বা হালকা রঙের পোশাক তাপ প্রতিফলিত করে শরীর ঠান্ডা রাখে। তোমরা সম্ভবত স্কুলের পোশাক পরে পরীক্ষায় বসবে। সে ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা পোশাক পরার চেষ্টা করো। কেমন দেখা যাচ্ছে, তার তুলনায় ভালো থাকা জরুরি।
৩. সকালের খাবার গুরুত্বপূর্ণ
তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া এবং ভারী খাবার এই সময়ে হজম হতে সমস্যা করে। তাই সহজপাচ্য খাবার, যেমন শাকসবজি, তরল ডাল ও ফলমূল বেশি খেতে হবে। তরমুজ, শসা বা বাঙ্গিজাতীয় ফল এই গরমে দারুণ কাজ দেয়। সকালে তুমি যে খাবার প্রতিদিন খাও, সেটা খাওয়া উচিত পরীক্ষার দিনে। নতুন ধরনের খাবার তোমার শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ মুহূর্তে রিভিশনের চাপে না খেয়ে পরীক্ষার হলে যাওয়ার মতো বোকামি নিশ্চয়ই করবে না।
৬. গোসল করে বের হতে হবে
শরীর ঠান্ডা রাখতে সকালে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করে পরীক্ষার জন্য বের হতে হবে। ছাতা নিয়ে বের হবে। ছোট্ট হাতের ফ্যান ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটাও ব্যবহার করতে পারো। মুখে পানির ঝাপটা দিতে পারো যেকোনো সময়, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখা যেহেতু লক্ষ্য। সেটা সচেতনভাবেই করা উচিত।
গাড়ি কীভাবে বাতাস দূষিত করে, সমাধান কীপ্রখর রোদে হাঁসফাঁস অবস্থা। গরম থেকে বাঁচতে হাতে ব্যাটারিচালিত পাখা নিয়ে স্কুলের পথে এক শিক্ষার্থী। বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া, ৭ এপ্রিল। ছবি: সোয়েল রানাকখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
যদি কারও মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি, কিন্তু ঘাম হচ্ছে না।
প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব।
দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস বা হার্টবিট বেড়ে যাওয়া।
প্রলাপ বকা বা অচেতন হয়ে পড়া।
পরীক্ষা হলের বাইরে যাঁরা অপেক্ষা করবেন
ধরে নিচ্ছি পরীক্ষার হলের বাইরে অভিভাবকেরা অপেক্ষায় থাকবেন। তাঁদের সন্তান বা পরিবারের সদস্য এসএসসি পরীক্ষায় বসেছে। তাঁরা ভাবতে পারেন পরীক্ষার হলে কিছু যদি দরকার হয় বা ছেলে-মেয়ে যদি অসুস্থ হয়ে যায়! এই গরমে তাঁদের এমন ভাবনা অমূলক নয়। তবে প্রচণ্ড গরমে পরীক্ষার হলের বাইরে তাঁদের অপেক্ষা যদি করতেই হয়, তবে খুব সাবধানতার সঙ্গে করা উচিত। অপেক্ষার দায়িত্ব এমন কাউকে দেওয়া উচিত, যাঁরা বয়সে তরুণ। শক্তসমর্থ বা ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী। প্রচণ্ড গরমে যাঁরা সামলে নিতে পারবেন। বয়স্ক বা অসুস্থ বা শিশুদের বাইরে অপেক্ষা করা উচিত নয়। অপেক্ষা করলে কোনো ছায়া ও বাতাসযুক্ত জায়গায় করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মানুষ কেন ভাইরাল হতে চায়