এই প্রযুক্তিকে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিন

· Prothom Alo

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট ও লোডশেডিংয়ে কৃষকের সেচকাজ ব্যাহত হচ্ছে, বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ। এমন পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রামের এক স্বশিক্ষিত উদ্ভাবক সোলেমান আলী তৈরি করেছেন ‘ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র’, যেটি দেশের কৃষি ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী সমাধান হতে পারে।

সোলেমানের তৈরি করা ভ্রাম্যমাণ সেচযন্ত্রটি স্থানীয়ভাবে কৃষকের চিরচেনা সেচ সমস্যার সহজ সমাধান দিয়েছে। যেহেতু এটি চাকা লাগানো এবং স্থানান্তরযোগ্য, তাই কৃষকের নিজের জমিতে আলাদা করে স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজন পড়ছে না। মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই যন্ত্র দিয়ে দিনে ১০ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব, যা দেশের প্রান্তিক কৃষকের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। 

Visit amunra-opinie.pl for more information.

এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো খরচ সাশ্রয়। প্রথাগত সেচপদ্ধতিতে যেখানে প্রতি বিঘায় খরচ হয় সাত থেকে আট হাজার টাকা, সেখানে সৌর সেচযন্ত্রে তা নেমে এসেছে মাত্র তিন হাজার টাকায়। পাশাপাশি ডিজেল কেনা বা লোডশেডিংয়ের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার বিড়ম্বনা থেকেও মুক্তি মিলেছে। সোলেমানের মতো উদ্ভাবকদের প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

সোলেমানের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক দশকের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। প্রথম শ্রেণির গণ্ডি না পেরোনো একজন মানুষ নিজের মেধা আর প্রযুক্তির প্রতি টান থেকে যে উদ্ভাবনটি করেছেন, তা প্রথাগত প্রকৌশলবিদ্যার জন্যও শিক্ষণীয়। কেবল কৃষি নয়, সোলেমান তাঁর বাড়িতেও সৌরশক্তির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন। ওয়েল্ডিং মেশিন থেকে শুরু করে এসি, ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক চুলা—সবই চলছে সূর্যের আলোয়। যেখানে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত, সেখানে এখন তা নেমে এসেছে মাত্র এক হাজার টাকার নিচে। এটি প্রমাণ করে যে যথাযথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে সৌরশক্তি জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। 

তবে সোলেমান আলীর মতো ব্যক্তিগত উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে, তা নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা ও সহযোগিতার ওপর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই প্রযুক্তিকে ইতিবাচক বললেও, মাঠপর্যায়ে এর ব্যাপক প্রসারের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি বা আর্থিক সহায়তার ফ্রেমওয়ার্ক এখনো দৃশ্যমান নয়। আমাদের দেশে উদ্ভাবকেরা প্রায়ই পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঝরে পড়েন। 

সোলেমানের এই প্রযুক্তিকে যদি বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া যায় এবং কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে এই সেচযন্ত্র কেনার সুযোগ করে দেওয়া হয়, তবে কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের উচিত এমন উদ্ভাবকদের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে উৎসাহিত করা। সোলেমান আলীকে আমাদের অভিবাদন।

Read full story at source