দুই রোহিঙ্গা শিশুর অনিশ্চিত যাত্রার গল্প, আজ ঢাকায় দেখা যাবে সেই সিনেমা

· Prothom Alo

অচেনা পথ, অনিশ্চিত গন্তব্য, আর ভয় বুকে এগিয়ে চলা। দুই ছোট্ট শিশুর সেই যাত্রা কেবল বেঁচে থাকার গল্প নয়, বরং একটি জাতির বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিধ্বনি। রোহিঙ্গাদের এমনই এক গভীর মানবিক কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘লে ফ্লর দু মাংগিয়ে—লস্ট ল্যান্ড’।

একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া এ সিনেমার ঢাকা প্রিমিয়ার আজ। সিনেমাটি বিকেল পাঁচটায় দেখা যাবে রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার অডিটোরিয়াম নুভেল ভাগে। আসনসংখ্যা সীমিত থাকায় ধারণক্ষমতা পূর্ণ হলে প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে। প্রদর্শনীর পর থাকবে আলোচনা পর্ব। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইউএনএইচসিআর, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা এবং ফরাসি দূতাবাসের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ফরাসি ও ইংরেজি সাবটাইটেলসহ প্রদর্শিত হবে।

Visit moryak.biz for more information.

জাপানি নির্মাতা আকিও ফুজিমোতো পরিচালিত এই চলচ্চিত্র ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত। মিয়ানমারের সংঘাত, রাখাইনে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিতে উঠে এসেছে দুই রোহিঙ্গা শিশু—সোমিরা ও তার ছোট ভাই শাফির বেঁচে থাকার লড়াই। মালয়েশিয়ায় থাকা চাচার কাছে পৌঁছাতে তারা সাগর ও স্থলপথে পাড়ি দেয় বিপজ্জনক এক যাত্রায়। পাচারকারীদের ভয়, শোষণ আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হওয়া এই গল্প ধীরে ধীরে রোহিঙ্গা বাস্তবতার এক প্রতীকে পরিণত হয়।

গত বছর সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত রেড সি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পঞ্চম আসরে সেরা চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গোল্ডেন ইউসর’ জিতেছে এটি। এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের হরাইজনস বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারে বিশেষ জুরি পুরস্কারও অর্জন করে ছবিটি।

‘লস্ট ল্যান্ড’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

ফুজিমোতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিবাসীজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত। তাঁর ‘প্যাসেজ অব লাইফ’ ও ‘অ্যালং দ্য সি’ চলচ্চিত্রেও বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে উঠে এসেছে। নতুন ছবিতে তিনি শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জটিল সংকটকে সহজ ও আবেগঘন করে তুলেছেন। বলতে চেয়েছেন বাস্তুচ্যুতি ও বিভাজনের মধ্যেও মানবিকতার আলো নিভে যায় না; বরং সহমর্মিতাই হয়ে ওঠে মানুষের শেষ আশ্রয়।

চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে মালয়েশিয়ায়; পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরেও কিছু দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অপেশাদার অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণ ছবিটিকে বাস্তবতার ছোঁয়া দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমালোচকেরা। স্ক্রিন ডেইলি সিনেমাটির রিভিউয়ে লিখেছে, ‘সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে দুই রোহিঙ্গা ভাইবোন—৯ বছরের সোমিরা এবং ৪ বছরের ছোট ভাই শাফি।

গাজায় ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের সঙ্গে সেদিন কী ঘটেছিল

তাদের লক্ষ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বহু দূরের মালয়েশিয়ায় থাকা এক আত্মীয়ের কাছে পৌঁছানো। গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে একটি নৌকায় করে তাদের পালিয়ে যাওয়া। সঙ্গে থাকে দাদু ও এক খালা। কিন্তু খুব দ্রুতই এই প্রাপ্তবয়স্ক সঙ্গীরা গল্প থেকে ছিটকে যায়, আর দুই শিশু একা হয়ে পড়ে বিশাল অজানা পৃথিবীর সামনে। চলচ্চিত্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের পেছনের গল্প ব্যাখ্যা করে না—কেন তারা পালাচ্ছে, কী ভয় থেকে তারা বেরিয়ে আসছে—এসব কিছুই সরাসরি বলা হয় না।

ফলে দর্শককে নিজের মতো করে অনুমান করতে হয় তাদের বাস্তবতা। শিশুদের কাছে তাদের গন্তব্য সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। শুধু বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় একজন আত্মীয় আছে। এই অজানা গন্তব্যই তাদের যাত্রার একমাত্র ভরসা। সিনেমাটির বড় শক্তি প্রায় ডকুমেন্টারি ধাঁচে গল্পের উপস্থাপন। সিনেমাটি আবেগকে জোর করে তৈরি করতে চায় না; বরং দূর থেকে পর্যবেক্ষণের মতো করে ঘটনাগুলো দেখায়।’

Read full story at source