৫০০ ডলার থেকে তিনি এখন ৯০০ কোটি টাকার মালিক
· Prothom Alo

রেসলার থেকে অভিনেতা—ডোয়াইন জনসনের পর চমকে দিয়েছেন আরও এক তারকা। তিনি আর কেউ নন, জন সিনা। আলো ফেলা যাক তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
শুরুটা ছিল একেবারেই সাধারণ
১৯৭৭ সালের ২৩ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট নিউবেরিতে জন্মগ্রহণ করেন জন সিনা। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর বাবা জন সিনা সিনিয়র ছিলেন রেসলিংয়ের ধারাভাষ্যকার ও প্রমোটর। ফলে ছোটবেলা থেকেই কুস্তির প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল।
তবে জীবনটা শুরু থেকেই সহজ ছিল না। স্কুলজীবনে জন শারীরিক গঠনের কারণে প্রায়ই সহপাঠীদের কাছে হাসির পাত্র হতেন। সেই সময়েই জন সিনা জিমে যাওয়া শুরু করেন, নিজের শরীর গঠনে মন দেন। এই সিদ্ধান্তই পরবর্তী সময় তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
কলেজে জন ফুটবল খেলতেন। স্প্রিংফিল্ড কলেজে পড়ার সময় সিনা একজন প্রতিভাবান ডিফেন্সিভ লাইনম্যান হিসেবে পরিচিতি পান। কিন্তু পেশাদার ফুটবলে বড় কিছু করতে না পারায় তিনি নতুন পথ খুঁজতে থাকেন।
শূন্য থেকে শুরু, পকেটে ছিল মাত্র ৫০০ ডলার
কলেজ শেষ করে মাত্র ৫০০ ডলার নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান সিনা। লক্ষ্য—বডিবিল্ডিং ও ফিটনেস ক্যারিয়ার গড়া। সেই সময় তিনি একটি জিমে কাজ করতেন, পাশাপাশি লিমোজিন চালাতেন। জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা তিনি বহুবার সাক্ষাৎকারে বলেছেন—কখনো কখনো গাড়ির ভেতরেই রাত কাটাতে হতো।
এই সময়েই জনের জীবনে আসে কুস্তির সুযোগ। ডব্লিউডব্লিউইয়ের ডেভেলপমেন্টাল সিস্টেমে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর নতুন অধ্যায়।
ডব্লিউডব্লিউইতে উত্থান
২০০২ সালে ডব্লিউডব্লিউইতে মূল রোস্টারে অভিষেক হয় জন সিনার। শুরুতে খুব একটা সাফল্য পাননি। কিন্তু ‘ডক্টর অব থাগানমিকস’ চরিত্রে র্যাপ-স্টাইলের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একের পর এক চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে তিনি হয়ে ওঠেন ডব্লিউডব্লিউইয়ের জনপ্রিয় মুখ। সিনা মোট ১৬ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন, যা কিংবদন্তি রিক ফ্লেয়ারের রেকর্ডের সমান।
‘নেভার গিপ আপ’, ‘হাসল, নেভার গিভ আপ’, ‘হাসল, লয়ালিটি, রেসপেক্ট’—এই স্লোগানগুলো শুধু রিংয়ের মধ্যে নয়, ভক্তদের জীবনেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
রিংয়ের বাইরে: অভিনয়ে নতুন পরিচয়
রেসলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয়জগতেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন সিনা। প্রথম দিকে কিছু অ্যাকশনধর্মী ছবিতে অভিনয় করলেও ধীরে ধীরে কমেডি ও চরিত্রভিত্তিক অভিনয়ে নিজেকে প্রমাণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য মেরিন’, ‘বাম্বলবি’, ‘এফ নাইন’, ‘দ্য সুইসাইড স্কোয়াড’। বিশেষ করে ‘দ্য সুইসাইড স্কোয়াড’-এ ‘পিসমেকার’ চরিত্রে অভিনয় করে নতুনভাবে দর্শকদের মন জয় করেন। পরে এই চরিত্র নিয়েই তৈরি হয় জনপ্রিয় সিরিজ ‘পিসমেকার’।
র্যাপার সিনা: এক ভিন্ন পরিচয়
অনেকে জানেন না, জন সিনা একজন র্যাপারও। ২০০৫ সালে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবাম ‘ইউ কান্ট সি মি’ বিলবোর্ড চার্টেও জায়গা করে নেয়। ডব্লিউডব্লিউইতে তাঁর র্যাপ-স্টাইলের প্রবেশই ছিল এই সংগীতচর্চার সূচনা।
রেকর্ড গড়া দাতব্য কাজ
জন সিনার আরেকটি বড় পরিচয় তাঁর মানবিক কাজ। তিনি ‘মেক আ উইশ ফাউন্ডেশন’-এর হয়ে সবচেয়ে বেশি ইচ্ছাপূরণ করা সেলিব্রিটি। ৬৫০-এর বেশি শিশুদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড।
ব্যক্তিগত জীবন: আলো-আঁধারির গল্প
জন সিনার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল ডব্লিউডব্লিউই তারকা নিক্কি বেলার সঙ্গে। তাঁদের বাগ্দান পর্যন্ত হয়েছিল, কিন্তু পরে সম্পর্ক ভেঙে যায়।
বর্তমানে তিনি শে শারিয়াজদের সঙ্গে বিবাহিত। যদিও ব্যক্তিগত জীবনকে অনেকটাই আড়ালে রাখেন।
এই অভিনেতা ছিলেন পেশাদার আগুন–খাদকসমালোচনা ও বিতর্ক
সিনার ক্যারিয়ারে বিতর্কও কম নয়। ডব্লিউডব্লিউইতে তাঁর দীর্ঘদিনের আধিপত্য অনেক ভক্তের কাছে একঘেয়ে মনে হয়েছিল। ‘সুপার সিনা’ ইমেজ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। এ ছাড়া চীনের প্রসঙ্গে তাঁর এক মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি পরে ক্ষমা চান।
জন সিনা বহুবার বলেছেন তিনি মহামানব নন, অল্প বয়সে তিনি অনেক ভুল করেছেন। তবে এখন তিনি আগের চেয়ে অনেক পরিণত। মাত্র ৫০০ ডলার পকেটে নিয়ে শুরু করা সেই জন সিনা এখন ৯০০ কোটি টাকার মালিক। সিনা জানিয়েছেন, নিজে সংগ্রাম করে আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, সেটা নিয়ে তিনি গর্বিত।
আইএমডিবি, পিপলডটকম, ভ্যারাইটি অবলম্বনে