টেড টার্নার ও জেন ফন্ডার বিয়ে কেন ভেঙে যায়
· Prothom Alo

বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার নিউজ নেটওয়ার্ক সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন। তিনি মানবতার কল্যাণেও কাজ করেছেন। গতকাল বুধবার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। টার্নার এন্টারপ্রাইজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। আলোচিত এই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন অনেক তারকাও। তাঁদের মধ্যে আছেন টেড টার্নারের সাবেক স্ত্রী ও অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেন ফন্ডাও।
গতকাল এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ফন্ডা লিখেছেন, টার্নার তাঁর জীবনে ‘একজন দুঃসাহসী জলদস্যুর মতো’ প্রবেশ করেছিলেন এবং তার পর থেকে তাঁর জীবন আর আগের মতো থাকেনি।
Visit newsbetsport.bond for more information.
ফন্ডার ভাষায়, ‘তিনি আমাকে নিজের প্রয়োজন বোধ করিয়েছিলেন। এর আগে কেউ আমাকে এভাবে বোঝায়নি যে আমার প্রয়োজন আছে। আর তিনি তো সাধারণ কেউ ছিলেন না—তিনি ছিলেন সিএনএন ও টার্নার ক্ল্যাসিক মুভিজের স্রষ্টা, বিশ্বের অন্যতম সেরা নাবিক।’
ফন্ডার আরও লেখেন, টার্নার তাঁকে আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছিলেন। একই সঙ্গে টার্নারের ভেতরের কোমলতা ও দুর্বলতা প্রকাশ করার ক্ষমতারও প্রশংসা করেন ফন্ডা। তাঁর মতে, ‘পুরুষদের সাধারণত নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করতে শেখানো হয় না। কিন্তু সেটাই ছিল টেডের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
শেষে ফন্ডা লেখেন, ‘শান্তিতে ঘুমাও, প্রিয় টেড। তুমি ভালোবাসা পেয়েছ, আমরা তোমাকে মনে রাখব।’
টেড টার্নারটেড টার্নার ও জেন ফন্ডার সম্পর্ক ছিল নব্বইয়ের দশকের হলিউড ও মিডিয়া জগতের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। ১৯৯১ সালে তাঁরা বিয়ে করেন, ২০০১ সালে বিচ্ছেদ হলেও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা দুজনেই বহুবার বলেছেন।
সম্প্রতি টার্নারের মৃত্যুর পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ফন্ডার পুরোনো সাক্ষাৎকার ও স্মৃতিচারণা উঠে এসেছে। সেখানে তিনি বলেন, টার্নার ছিলেন দারুণ একজন মানুষ, যিনি তাঁর ভেতরের হাস্যরসের দিকটাকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন বিশাল বন্য প্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্যোক্তা।
টার্নারের সবচেয়ে বড় নেশাগুলোর একটি ছিল বাইসন। ফন্ডা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিয়ের সময় টার্নারের কাছে প্রায় ১০ হাজার বাইসন ছিল। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ হাজারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশাল র্যাঞ্চ কিনে সেখানে বাইসনসহ নানা বিপন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ ও পোকামাকড় সংরক্ষণের কাজ করতেন।
জেন ফন্ডা। রয়টার্সফন্ডা পরে স্বীকার করেন, টার্নারের সঙ্গে জীবন কাটানো সহজ ও বিলাসবহুল হতে পারত, কিন্তু তিনি নিজের পরিচয় ও সত্তাকে হারিয়ে ফেলছিলেন বলে মনে করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘যদি আমি থেকে যেতাম, তাহলে আমি কখনো নিজের সত্যিকারের সত্তায় পৌঁছাতে পারতাম না।’
সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা কে এই টেড টার্নারতাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও টার্নার পরে নিজের স্মৃতিকথা ‘কল মি টেড’–এ লেখেন, মূল সমস্যা ছিল যোগাযোগের ঘাটতি ও আলাদা জীবনযাপন। ফন্ডাও বলেন, তিনি সারা জীবন অন্য কারও পৃথিবীতে ভেসে বেড়াতে চাননি।
মজার বিষয় হলো, শুরুতে তাঁরা একে অপরকে খুব একটা পছন্দই করতেন না। পরে সম্পর্ক গভীর হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার একবার বলেছিলেন, সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ‘সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর একটি’ হয়ে উঠেছিল।
পেজ সিক্স ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে