সবচেয়ে বেশি বয়সে এমি অ্যাওয়ার্ডস জেতা ছাড়াও অ্যাটেনবরো যেসব পুরস্কার পেয়েছেন

· Prothom Alo

স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরোর ১০০তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বর্ণিল জীবনের অর্জন আর সম্মাননাগুলো নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন।

Visit moryak.biz for more information.

২০১৪ সাল পর্যন্ত স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো একটি অনন্য বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। তিনি হলেন পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি, যিনি টেলিভিশনের প্রতিটি পরিবর্তনের যুগের জন্য আলাদাভাবে বাফটা (BAFTA) পুরস্কার জিতেছেন।

সহজভাবে বলতে গেলে, টেলিভিশন যখন শুরুর দিকে সাদা–কালো ছিল, তখন তিনি পুরস্কার পেয়েছেন। এরপর যখন রঙিন টেলিভিশন এল, কিংবা তারও পরে যখন এইচডি বা থ্রি–ডি প্রযুক্তির যুগ শুরু হলো, প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যচিত্র তৈরির অসামান্য দক্ষতার জন্য তিনি এই সম্মাননা অর্জন করেছেন।

বাফটা বা ব্রিটিশ একাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস হলো যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। এটি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ভিডিও গেম এবং অন্যান্য দৃশ্যমান শিল্পে অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর দেওয়া হয়।

রানি এলিজাবেথের সঙ্গে ডেভিড অ্যাটেনবরো

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে প্রিয় এই প্রকৃতিবিদের ঝুলিতে রয়েছে অগণিত আন্তর্জাতিক সম্মাননা। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রধান কিছু পুরস্কার হলো:

বাফটা ফেলোশিপ (১৯৮০)

এটি ব্রিটিশ একাডেমির সর্বোচ্চ সম্মান। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন মাধ্যমে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে এই আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

কলিঙ্গা পুরস্কার (১৯৮১)

সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার জন্য ইউনেসকো তাঁকে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করে।

রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (১৯৮৩)

বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (FRS) নির্বাচিত হন।

কিউ আন্তর্জাতিক পদক (১৯৯৬)

বিজ্ঞান ও প্রকৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি এই পদক লাভ করেন।

মাইকেল ফ্যারাডে পুরস্কার (২০০৩)

রয়্যাল সোসাইটি তাঁকে এই পুরস্কার দেয় সাধারণ দর্শকদের কাছে বিজ্ঞানকে চমৎকারভাবে তুলে ধরার জন্য।

প্রকৃতিবিদ ডেভিড অ্যাটেনবরো কেন লন্ডন ছাড়া অন্য কোথাও থাকেন নাএমি পুরস্কার

বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক টিভি ব্যক্তিত্ব (২০১১)

অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং তাঁকে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এমি পুরস্কার (২০১১)

তাঁর বিখ্যাত তথ্যচিত্র ফার্স্ট লাইফ-এর জন্য তিনি একই সঙ্গে সেরা প্রকৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠান ও সেরা স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে দুটি এমি পুরস্কার জেতেন।

বাফটা টিভি পুরস্কার (২০১৪)

ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম অ্যালাইভ তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তিনি আবারও বাফটা জেতেন।

পিবডি পুরস্কার (২০১৫)

টেলিভিশন ও রেডিও মাধ্যমে শক্তিশালী ও উদ্দীপনামূলক গল্প বলার জন্য তাঁকে এই বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়।

এমি পুরস্কার (২০১৬)

রাইজ অব অ্যানিমেলস তথ্যচিত্রের মাধ্যমে সেরা প্রকৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠানের এমি জয় করেন তিনি।

ডেভিড অ্যাটেনবরো কেন সেরাপারফেক্ট ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড

বাফটা টিভি পুরস্কার (২০১৭ ও ২০১৮)

প্ল্যানেট আর্থ ৩ এবং ব্লু প্ল্যানেট ২–এর অসাধারণ সাফল্যের জন্য তিনি এই সম্মাননাগুলো লাভ করেন।

টানা তিন বছর প্রাইমটাইম এমি (২০১৮-২০২০)

ব্লু প্ল্যানেট ২আওয়ার প্ল্যানেট এবং সেভেন ওয়ার্ল্ডস, ওয়ান প্ল্যানেট—তিনটি সিরিজেই সেরা বর্ণনাকারী হিসেবে এমি জয় করেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ভারত (২০২০)

ওয়াইল্ড কর্ণাটকা তথ্যচিত্রে তাঁর জাদুকরি কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে সেরা বর্ণনাকারীর সম্মান দেওয়া হয়।

চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ (২০২১)

পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

এমি আজীবন সম্মাননা (২০২২)

৪৩তম নিউজ অ্যান্ড ডকুমেন্টারি এমি অ্যাওয়ার্ডসে তাঁকে আজীবন সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।

টিভি আইকন (২০২৫)

সম্প্রচার জগতে তাঁর অসামান্য প্রভাবের জন্য তিনি টিভি টাইমস অ্যাওয়ার্ডস থেকে এই স্বীকৃতি লাভ করেন।

সূত্র: ডিসকভার ওয়াইল্ড লাইফট্রাফিক জ্যাম যেভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে

Read full story at source