শিল্পের উচ্চ সুরক্ষা দেওয়া থেকে বের হওয়া উচিত
· Prothom Alo

সভায় বক্তারা বলেন, একটি দায়বদ্ধ, বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে, যা প্রকৃত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
Visit freshyourfeel.org for more information.
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় শিল্পকে উচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত, যাতে শিল্প নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। উচ্চ সুরক্ষামূলক শুল্কের পরিবর্তে সমন্বিত বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ ও করনীতির মাধ্যমে রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ প্রয়োজন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্যনীতি, শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগের প্রভাব ও ভোক্তা কল্যাণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আজ সোমবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘সংরক্ষণবাদ চিরকাল চলতে পারে না। এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির সময় আমাদের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিল্পকে অনির্দিষ্টকাল সুরক্ষা দেওয়া নয়, বরং এমন শিল্প গড়ে তোলা, যা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ে আছি, আমাদের নীতি থেকে বাস্তবায়নে যেতে হবে। জ্বালানিসংকট সমাধান করতে হবে। একটি দায়বদ্ধ, বিশ্বাসযোগ্য ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে, যা প্রকৃত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।’
মূল প্রবন্ধে পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার দেশের শুল্ককাঠামো, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি উন্নয়ন কৌশল সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান কাঠামো উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
জাইদী সাত্তার বলেন, আমদানি সুরক্ষার কারণে ভোক্তাপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি, যার ফলে ভোক্তাকল্যাণে ক্ষতি হচ্ছে জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বাংলাদেশের মূল্যস্তর ভারতের চেয়েও বেশি হওয়ায় মার্কিন ডলারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাংলাদেশে ভারতের তুলনায় কম।
অনুষ্ঠানে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, উচ্চ সুরক্ষামূলক শুল্কের পরিবর্তে সমন্বিত বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ ও করনীতির মাধ্যমে রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ প্রয়োজন। তিনি রাজস্ব ও প্রবৃদ্ধি কৌশলের মধ্যে সামঞ্জস্য, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভোক্তাকল্যাণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবসা ও কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়ার নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ নীতিনির্ধারণে এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত সুরক্ষা রপ্তানি বহুমুখীকরণে বাধা সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) বাড়তে থাকায় বাংলাদেশকে আরও উন্মুক্ত বাণিজ্য পরিবেশের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, কিছু শিল্প অত্যধিক সুরক্ষা পেলেও অন্য অনেক শিল্প কোনো সুরক্ষাই পায় না। তিনি আরও বলেন, কার্যকর কর সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে এনবিআরের মূল ভূমিকা হওয়া উচিত নীতিনির্ধারণ নয়, বরং বাস্তবায়ন।
ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ স্থানীয় শিল্প, বিশেষত ওষুধশিল্পের মাধ্যমে আমদানি বিকল্পায়ন ভোক্তাদের জন্য উপকারী হবে।