মায়ের রান্না কেন আমাদের এত ভালো লাগে

· Prothom Alo

তুমি হয়তো খেয়াল করেছ, বাইরে কোনো রেস্টুরেন্টে অনেক দামি খাবার খাওয়ার পরও হঠাৎ একসময় মনে হয়—‘আহা, মায়ের হাতের মাছ-ভাতটাই আসলে সবচেয়ে ভালো ছিল!’

Visit extonnews.click for more information.

মজার ব্যাপার হলো, এই অনুভূতিটা শুধু তোমার না। পৃথিবীর প্রায় সব মানুষের কাছেই মায়ের রান্নার একটা আলাদা জায়গা আছে। কেউ মায়ের রান্না করা পোলাও-রোস্ট ভুলতে পারে না, কেউ খিচুড়ি-মাংস ভুলতে পারে না, কেউ ভুলতে পারে না গরম ভাতের সঙ্গে ডাল আর আলুভর্তা, কেউ আবার ঈদের সেমাই। কিন্তু কেন? সত্যিই কি মায়ের রান্না সবচেয়ে সুস্বাদু? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর উত্তর শুধু রান্নায় না, লুকিয়ে আছে আমাদের স্মৃতি, অনুভূতি আর ভালোবাসার ভেতরে।

সন্তানের না, মা–বাবার স্ক্রিন টাইম নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে

আমাদের মস্তিষ্ক খাবারের স্বাদকে শুধু জিব দিয়ে বিচার করে না। খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। ধরো, ছোটবেলায় তুমি জ্বর নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছ। মা তোমার জন্য গরম স্যুপ বানিয়ে এনে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। অথবা বৃষ্টির দিনে মা পেঁয়াজু ভেজে দিলেন। তখন খাবারের সঙ্গে নিরাপত্তা, আদর আর আরামের অনুভূতিও মিশে যায়।

পরে বড় হয়ে একই ধরনের গন্ধ পেলেই তোমার মস্তিষ্ক সেই পুরোনো স্মৃতিগুলো আবার মনে করিয়ে দেয়। তখন খাবারটা শুধু খাবার থাকে না, সেটা হয়ে যায় একটা অনুভূতি।

এ কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, মায়ের খুব সাধারণ রান্নাও অসাধারণ লাগে।

আরেকটা বিষয় আছে। মায়েরা সাধারণত পরিবারের মানুষের পছন্দ খুব ভালো জানেন। কে ঝাল কম খায়, কে ডালে একটু বেশি পাঁচফোড়ন পছন্দ করে, কার মাছের কাঁটা বেছে দিতে হয়—এসব ছোট ছোট বিষয় তাঁরা মনে রাখেন। ফলে রান্নাটা অনেক বেশি ‘পারসোনাল’ হয়ে যায়।

একজন নামী শেফ হয়তো দারুণ বিরিয়ানি রান্না করতে পারেন, কিন্তু তিনি তো জানেন না তুমি আলুটা নরম পছন্দ করো নাকি একটু শক্ত!

মা ও বিল্টুর কাণ্ডকারখানা

মায়ের রান্নার আরেকটা গোপন রহস্য হলো পরিচিতি। আমরা ছোটবেলা থেকে যেসব স্বাদের খাবার খেয়ে বড় হই, সেগুলোর সঙ্গে আমাদের একটা গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। তোমার কাছে হয়তো মায়ের ডাল পৃথিবীর সেরা ডাল। কিন্তু অন্য কারও কাছে সেটা সাধারণ লাগতে পারে। কারণ, তার জিব অন্য স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত।

খাবারের স্বাদ অনেকটাই অভ্যাসের ব্যাপার।

তবে শুধু বিজ্ঞান দিয়ে সব ব্যাখ্যা করা যায় না। এখানে আবেগও আছে। ভাবো তো, অনেক মা নিজের ক্লান্তি ভুলে রান্না করেন। কেউ হয়তো অফিস থেকে ফিরে রান্নাঘরে ঢোকেন। কেউ অসুস্থ শরীর নিয়েও সন্তানের জন্য প্রিয় খাবার বানান।

এসব জিনিস হয়তো আমরা সব সময় বুঝতে পারি না। কিন্তু কোথাও না কোথাও সেই যত্ন খাবারের ভেতর মিশে যায়।

অনেক মানুষ বিদেশে গিয়ে সবচেয়ে বেশি কী মিস করেন জানো? মায়ের রান্না। কারণ, সেখানে হয়তো সবকিছু আছে—বড় রাস্তা, সুন্দর শহর, নামী রেস্টুরেন্ট। কিন্তু নেই সেই পরিচিত গন্ধ। নেই দুপুরে মায়ের ডেকে বলা, ‘খেতে আয়।’ নেই গরম ভাতের ধোঁয়া।

তখন বোঝা যায়, মায়ের রান্না আসলে শুধু স্বাদের ব্যাপার না। এটা বাড়ির অনুভূতি।

মা ও ভাই–বোনকে বাঁচাতে ১৩ বছরের ছেলে সমুদ্রে সাঁতার কেটেছে চার ঘণ্টা

তবে মজার বিষয় হলো, সব মায়ের রান্না যে দারুণ হয়, এমনও না! অনেকেই হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমার মা তো লবণই ঠিকমতো দিতে পারেন না!’ কিন্তু তারপরও সেই রান্না তাদের কাছে প্রিয়। কারণ, মানুষ সব সময় নিখুঁত জিনিস ভালোবাসে না। মানুষ ভালোবাসে পরিচিত জিনিস, আপন জিনিস।

একটা গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন খুব মন খারাপ করে, তখন তারা ছোটবেলার পরিচিত খাবার খেতে চায়। মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘কমফোর্ট ফুড’। এই খাবার মানুষকে মানসিকভাবে শান্তি দেয়। আর আমাদের অনেকের কাছেই সেই কমফোর্ট ফুড হলো মায়ের রান্না।

তুমি যদি কখনো খেয়াল করো, দেখবে মায়ের রান্নার গন্ধও আলাদা লাগে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা সেই গন্ধ অনেক সময় পুরো বাসাকে অন্য রকম করে দেয়। কারণ, সেই গন্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার, গল্প, হাসি, অপেক্ষা আর একসঙ্গে বসে খাওয়ার মুহূর্ত।

তোমরা অনেকেই ধীরে ধীরে ব্যস্ত হয়ে পড়ছ। কেউ পড়াশোনায়, কেউ চাকরিতে, কেউ মোবাইল স্ক্রিনে। কিন্তু তারপরও পৃথিবীর নানা প্রান্তে তোমাদের মতো অসংখ্য মানুষ এখনো হঠাৎ করে মায়ের রান্নার কথা মনে করে নস্টালজিক হয়ে পড়ে। কারণ, মায়ের রান্নার আসল উপাদান শুধু মরিচ, লবণ আর তেল না। সেখানে একটু আদর থাকে। একটু চিন্তা থাকে। আর থাকে এমন এক ভালোবাসা, যেটা আলাদা করে মাপা যায় না।

আজাদের মা কেন ১৪ বছর একদানা ভাত খাননি

Read full story at source