উন্নয়নের নামে পাউবোর পরিবেশবিরোধী কাজ

· Prothom Alo

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী রাবনাবাদ এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে গিয়ে সামাজিক বনায়নের সাত শতাধিক গাছ খননযন্ত্র দিয়ে উপড়ে ফেলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। উপকূলীয় জানমাল রক্ষার দোহাই দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যে কাণ্ডটি ঘটিয়েছে, তা কোনোভাবেই মানা যায় না। উন্নয়নের একটি দিক রক্ষা করতে গিয়ে পরিবেশের সুরক্ষা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থকে এভাবে বলি দেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

বেড়িবাঁধ সংস্কার অত্যন্ত জরুরি—এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের আগে পটুয়াখালীর মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করা জানমাল রক্ষার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কয়েক শ গাছ ধ্বংস করা মোটেও যৌক্তিক হতে পারে না। বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছগুলো কাটার জন্য দরপত্র ডাকার প্রস্তুতি চলছিল এবং তাঁরা পাউবোর কাছে কিছু সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু পাউবো সেই সময়টুকু না দিয়ে খননযন্ত্র দিয়ে গাছগুলো এমনভাবে উপড়ে ফেলেছে যে সেগুলো এখন আর মূল্যবান কাঠ হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য নেই। ফলে কয়েক শ উপকারভোগী মানুষ, যাঁরা দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই বনায়ন রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছিলেন, তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

Visit bettingx.bond for more information.

পাউবো এবং বন বিভাগের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসলে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার একটি বড় প্রমাণ। পাউবো বলছে, তারা চিঠি দিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে কাজ শুরু করতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে বন বিভাগ বলছে, দরপত্র ডাকার নিয়ম মানার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। কথা হচ্ছে, শুধু চিঠি দিয়েই কেন নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করল পাউবো?

এই যে দুই দপ্তরের আমলাতান্ত্রিক রশি–টানাটানি, তার চূড়ান্ত বলি হলো পরিবেশ। অথচ উপকূলীয় এলাকায় গাছ কেবল কাঠের উৎস নয়, এটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে কাজ করে। বাঁধের সুরক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। অথচ সেই বাঁধ বাঁচাতে গিয়েই গাছ উজাড় করা হলো, যা একটি চরম স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত।

আমরা মনে করি, উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা এমনভাবে হওয়া উচিত যেখানে উন্নয়ন এবং পরিবেশ—উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। খননযন্ত্র দিয়ে এভাবে গাছ দুমড়েমুচড়ে ফেলা স্রেফ অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। যেসব উপকারভোগী সদস্য তাঁদের কষ্টার্জিত বনায়ন হারিয়েছেন, তাঁদের আর্থিক ক্ষতির সুরাহা করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় প্রকল্পে কাজের শুরুতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সভা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উন্নয়ন ও পরিবেশের কোনোটিই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছ অপসারণের অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে গাছগুলো নষ্ট করা হলো, তার একটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

Read full story at source