ঈদযাত্রা: মহাসড়কগুলোতে গাড়ির চাপ আছে, তবে যানজট নেই
· Prothom Alo
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মহাসড়কে ঘরমুখী যাত্রী বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে থাকা সব কটি মহাসড়কে আজ রোববার যানবাহনের চাপ ছিল বেশ। কোথাও গাড়ি দ্রুতগতিতে পার হয়েছে, আবার কোথাও ছিল ধীরগতি। তবে হাইওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় মহাসড়কগুলোতে রাত আটটা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
Visit freshyourfeel.org for more information.
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে আজ অফিস শেষে বিকেল থেকে মহাসড়কগুলোতে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘুরে খবর পাঠিয়েছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা।
গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে বিকেলের পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।
অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত যানবাহনের ব্যাপক চাপ আছে। এসব এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে রোববার কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। তবে আগামীকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের কারখানা ধাপে ধাপে ছুটি শুরু হবে। সন্ধ্যার পর থেকে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকায় চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও ভোগড়া সীমান্তের কয়েকটি অংশে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। তবে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
ঈদের ছুটি কাটাতে রংপুরে যাচ্ছিলেন চাকরিজীবী মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিকেলের পর গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে কয়েক জায়গায় গাড়ি ধীরে চলেছে। তারপরও আগের বছরের মতো যানজট নেই। আশা করছি স্বাভাবিক সময়ের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছাতে পারব।’
নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোথাও যানবাহনের চাপ তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আশরাফুল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ টিম মাঠে থাকবে। পশুর হাটের কারণে কোথাও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার
আজ বিকেল থেকে শিল্পাঞ্চল সাভার, হেমায়েতপুর, নবীনগর, বাইপাইল, বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এতে ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়কে বেড়েছে দূরপাল্লার পরিবহনের সংখ্যা।
সন্ধ্যায় নবীনগরে দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বাস কাউন্টার থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট কিনে বাসের জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছেন। অনেকে টিকিট না পেয়ে ভিন্ন উপায়ে গন্তব্যে যেতে টার্মিনালে অপেক্ষা করছেন।
গাইবান্ধা যেতে নবীনগর দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করছিলেন পোশাকশ্রমিক সাথী আক্তার। টিকিট কিনতে এসে টিকিট পাননি তিনি। তিনি অপেক্ষা করছিলেন টিকিট ছাড়া বাসের জন্য। এ ক্ষেত্রে বাসের ভাড়া বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাথী আক্তার বলেন, ‘আমি আর আমার ভাই অনেকক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে আছি গাড়ির জন্য। বাসগুলো ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। আমরা আগে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় যেতাম।’
ঢাকার সাভারের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে আজ রোববার বিকেল থেকে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। নবীনগর দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে তোলারাজশাহীগামী আরকে স্পেশাল পরিবহনের চালক হৃদয় আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাউন্টার নেই। আমরা ঈদ উপলক্ষে বের হয়েছি। লোকাল হয়ে যেতে যেতে সড়ক থেকে যাত্রী ওঠাব। ৫০০ টাকা করে যাত্রী নিচ্ছি। রাস্তায় যাত্রীর মোটামুটি একটা চাপ তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তায় আসার সময় এলেঙ্গা এবং বাইপাইলের মোড়ে দুইটা জ্যাম পেয়েছি। এ দুই জায়গায় কাজ চলতেছে। এ জন্য এ রকম জ্যাম হতে পারে। কালকে (সোমবার) যাত্রীর চাপ অনেক বেশি বাড়বে, তখন জ্যামও বাড়বে।’
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শাহজাহান মিয়া বলেন, মহাসড়কে ধীরে ধীরে যাত্রী ও গাড়ির চাপ বাড়ছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী যানজট হওয়ার আশঙ্কা তেমন নেই। ঘরমুখী যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে থানা-পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ফোর্স কাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জ
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায়ের কারণে যানবাহনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের কাজ ও বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ভোগান্তি হচ্ছে। যাত্রামুড়া, বরপা ও ভুলতায় মহাসড়কের বেশ কয়েকটি জায়গায় সড়ক সংকীর্ণ আছে এবং খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। মহাসড়কের সাইড শোল্ডারিং গর্ত হয়ে যানবাহন চলাচলের ঝুঁকি বাড়ছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শামীম শেখ প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে। ঈদকে সামনে রেখে যানজট এড়াতে স্বেচ্ছাসেবীসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। মহাসড়কে চাপ থাকলেও মানুষ যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গত রোববার থেকে ছয় লেন প্রকল্পের কাজ বন্ধ আছে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হলে সেগুলো দ্রুতই মেরামত করা হচ্ছে। সড়কের দুপাশের সাইড শোল্ডারিংয়ে গাড়ি নামিয়ে দেওয়ায় মাটিতে গর্ত সৃষ্টি হয়। এটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজটের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।’