হাজারীবাগ হাটে বিক্রি বেশি ছোট ও মাঝারি গরু
· Prothom Alo
প্রায় ৩২ মণ (১ হাজার ২৮০ কেজি) ওজনের ফ্রিজিয়ান জাতের বিশালাকৃতির একটি গরু। কুচকুচে কালো রঙের গরুটির নাম ‘কালাপাহাড়’। চার বছর বয়সী গরুটি দুই বছর আগে কিনেছিলেন পাবনার সাঁথিয়ার খামারি জাকির হোসেন মোল্লা। এরপর নিজ বাড়িতেই আরও দুই বছর লালন-পালন করে বড় করেছেন।
Visit palladian.co.za for more information.
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার কালাপাহাড়কে নিয়ে তিনি আসেন রাজধানীর হাজারীবাগ পশুর হাটে। এর পর থেকেই বিশালদেহী গরুটি সবার নজর কেড়েছে। কৌতূহলী অনেকে দাম জানতে চাইছেন। তবে ১২ লাখ টাকা দাম শুনে বেশির ভাগ মানুষ আর দরদাম করছেন না।
গতকাল সোমবার বিকেলে হাজারীবাগ হাটে কথা হয় খামারি জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষ আসে, ছবি তোলে, দাম শুধু জিগায়। কিন্তু দাম আর কেউ কয় না। সবাই দাম শুইনাই চইলা যায়।’
মো. জিন্নাহ, বিক্রেতাক্রেতারা যে দাম বলতাছে, ওই দামের চেয়ে ১৫-২০ হাজার টাকা বেশি দিয়া গরু কিনতে হইছে।তবে শুধু কালাপাহাড় নয়, হাটে আরও ১৮টি গরু এনেছেন জাকির হোসেন ও তাঁর ভাই। দেশি জাতের এসব গরুর বেশির ভাগই মাঝারি আকারের। ওজন পাঁচ থেকে সাত মণের মধ্যে। জাকির হোসেন জানান, বড় গরুর তুলনায় মাঝারি গরুতেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এরই মধ্যে প্রায় ছয় মণ ওজনের দুটি গরু বিক্রি করেছেন তিনি। গত রোববার চার লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন।
গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হাজারীবাগ পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে বড় গরু ঘিরে কৌতূহল আছে। অনেকেই বড় গরুর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, দাম জানতে চাইছেন। কিন্তু দরদাম ও বেচাকেনা বেশি হচ্ছে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর। বিক্রেতাদের ভাষ্য, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা দামের গরুর চাহিদা বেশি।
নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ গতকাল হাজারীবাগ পশুর হাট থেকে মাঝারি আকারের একটি গরু কেনেন। প্রায় সোয়া পাঁচ মণ ওজনের গরুটির দাম পড়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার একই ধরনের গরুর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি মনে হচ্ছে।
খামারি জাকির হোসেনমানুষ আসে, ছবি তোলে, দাম শুধু জিগায়। কিন্তু দাম আর কেউ কয় না। সবাই দাম শুইনাই চইলা যায়।মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি
পাবনার আতাইকুলা থেকে ৩৪টি গরু নিয়ে হাজারীবাগ পশুর হাটে এসেছেন মো. জিন্নাহ। গত রোববার তিনি ১৪টি গরু বিক্রি করতে পারলেও গতকাল বিকেল পর্যন্ত আর বিক্রি হয়নি বলে জানালেন। বিক্রি হওয়া গরুগুলোর মধ্যে ১০টিই ছিল ছোট আকারের। এসব গরু তিনি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে বিক্রি করেছেন। এ ছাড়া মাঝারি আকারের চারটি গরু বিক্রি হয়েছে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায়।
মো. জিন্নাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্রেতারা যে দাম বলতাছে, ওই দামের চেয়ে ১৫-২০ হাজার টাকা বেশি দিয়া গরু কিনতে হইছে। ক্রেতারা যে দাম বলতাছে, ওই দামে গরু বেচলে আসল টাকাও উঠব না।’
মাঝারি ও ছোট আকারের ১৪টি গরু নিয়ে হাজারীবাগ পশুর হাটে এসেছেন পাবনার আরেক পাইকার মোজাম্মেল হক। তাঁর আনা গরুগুলোর ওজন সাড়ে তিন মণ থেকে পাঁচ মণের মধ্যে। গত রোববার সারা দিনে সাতটি গরু বিক্রি করতে পারলেও গতকাল একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি বলে জানালেন।
মোজাম্মেল হক জানান, পাঁচ মণ ওজনের একটি গরু তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। সাড়ে চার মণের গরু বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। আর তিন মণ ওজনের গরুগুলো বিক্রি করেছেন ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। এই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, ‘রোববার সাড়ে তিন মণের যে গরুর দাম ক্রেতারা ১ লাখ ১৫-২০ হাজার টাকা বলছিল, আজ একই গরুর দাম এক লাখ টাকা বা তারও কম বলতাছে।’
মাঝারি ও ছোট আকারের ১৪টি গরু নিয়ে হাজারীবাগ পশুর হাটে এসেছেন পাবনার আরেক পাইকার মোজাম্মেল হক। তাঁর আনা গরুগুলোর ওজন সাড়ে তিন মণ থেকে পাঁচ মণের মধ্যে। গত রোববার সারা দিনে সাতটি গরু বিক্রি করতে পারলেও গতকাল একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি বলে জানালেন।