ফেসবুক আবেগঘন পোস্টের পর তরুণ সাংবাদিককে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার, পরে মৃত্যু

· Prothom Alo

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাংবাদিক মো. রাকিব হোসাইন (২৮) ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর মারা গেছেন। তিনি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার দশমিনা প্রতিনিধি ছিলেন। আজ রোববার ভোরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

রাকিবের বাড়ি গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকায়। তাঁর বাবা মো. মোক্তার হোসেন মেলকার। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি নানাবাড়ি দশমিনায় বসবাস করতেন। তাঁর মামা শওকত হোসেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি যুগান্তর পত্রিকায় কাজ করেন। পরে দৈনিক যায়যায়দিনের দশমিনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Visit rouesnews.click for more information.

স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন জানান, রোববার ভোর চারটার দিকে রাকিব তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। সেটি দেখে পরিচিতজনেরা উপজেলা সদরের মানিক মিয়া চত্বরে তাঁর ভাড়া বাসায় ছুটে যান। সেখান থেকে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে সকাল পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।

রাকিব মানিক মিয়া চত্বরের ওই বাসায় একাই থাকতেন। তিনি বাবা, দুই বোন ও এক ভাই রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দশমিনা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক সমিতি এবং বাউফল প্রেসক্লাব শোক প্রকাশ করেছে।

রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে দশমিনা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ রাঙাবালীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক স্বজনের দাবি, ঘরে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যে ব্যবহারের ওষুধ সেবনের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি (রাকিব) তাঁর ফেসবুক আইডিতে তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি; আর পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের হস্তক্ষেপে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

ফেসবুকে দেওয়া শেষ স্ট্যাটাসে রাকিব লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে? যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত।’ স্ট্যাটাসে তিনি মায়ের পাশে দাফনের ইচ্ছা, পরিবারের কিছু সদস্যের প্রতি ক্ষোভ এবং পরিচিত কয়েকজনের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘দুনিয়ার মায়া মানুষ কখন ছাড়ে, কেউ কি বলতে পারেন?’

Read full story at source