সম্ভাবনাকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে

· Prothom Alo

কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারত। ঝিনুকের আদলে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা শুধু একটি রেলস্টেশন নয়, বরং দেশের পর্যটনশিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্টেশন এবং ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশাও ছিল অনেক। কিন্তু উদ্বোধনের আড়াই বছর পর বাস্তবতা বলছে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে প্রকল্পটির সম্ভাবনার বড় একটি অংশ এখনো অব্যবহৃত পড়ে আছে।

Visit turconews.click for more information.

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, রেলস্টেশনটি উদ্বোধনের সময় যে সুবিধাগুলোর কথা বলা হয়েছিল, তার অধিকাংশই এখনো কার্যকর হয়নি। তথ্যকেন্দ্র, শিশুদের বিনোদনকেন্দ্র, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, লকার–ব্যবস্থা, পদচারী–সেতু, নামাজের স্থান কিংবা চলন্ত সিঁড়ি—অনেক কিছুই বন্ধ বা অচল। যাত্রীদের জন্য নির্মিত সুবিশাল ভবন থাকলেও বাস্তবে তাঁদের ব্যবহার করতে হচ্ছে সীমিত সুযোগ-সুবিধা। একটিমাত্র প্রবেশ ও বহির্গমনের পথ ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিন যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রশ্ন হলো জনগণের অর্থে নির্মিত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে অপূর্ণাঙ্গ অবস্থায় পড়ে থাকবে? যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করে মার্চ মাসেই রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করে থাকে, তাহলে সেবাগুলো চালু করতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে কেন?

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ৭২টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টিতে গেটম্যান বা কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ফলে মাত্র ২১ মাসে ৩৩ জন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এটি কোনোভাবেই একটি আধুনিক রেলপথের চিত্র হতে পারে না। উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর নিরাপদ ও কার্যকর পরিচালনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অথচ জনবলসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে বছরে লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। অথচ ট্রেনের সংখ্যা এখনো সীমিত। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, আড়াই বছরেও পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা চালু করা যায়নি। লবণ, শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি কিংবা টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসা পণ্য সহজে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পরিবহনের যে সুযোগ এই রেলপথ সৃষ্টি করতে পারত, তা এখনো কেবল পরিকল্পনার মধ্যেই আটকে আছে।

সরকারের উচিত দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করা, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, পণ্য পরিবহন শুরু করা এবং প্রতিটি লেভেল ক্রসিংয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা। অন্যথায় ঝিনুক আকৃতির এই স্থাপনাটি উন্নয়নের প্রতীক না হয়ে অপূর্ণ পরিকল্পনা ও অব্যবস্থাপনার স্মারক হিসেবেই থেকে যাবে। উন্নয়নের প্রকৃত সৌন্দর্য স্থাপত্যে নয়, মানুষের উপকারে—এই সত্যটি ভুলে গেলে চলবে না।

Read full story at source