জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলা: টেকসই রূপান্তরে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

· Prothom Alo

দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে ৯টি পরিবারের কাছেই পৌঁছায় শীর্ষস্থানীয় একটি কোম্পানির পণ্য। এই বিশাল উপস্থিতির সুবাদে দায়বদ্ধতাও তাদের আকাশছোঁয়া। বলছিলাম, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইউবিএল) কথা। ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম তীরে কার্যক্রম শুরু করা কালুরঘাটের ফ্যাক্টরিটি স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের উৎপাদনসক্ষমতার অন্যতম প্রতীক। ১৯৭৩ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের ৩৯ দশমিক ২৫ শতাংশ মালিকানার অংশীদার বাংলাদেশ সরকার।

Visit h-doctor.club for more information.

কেবল ব্যবসাই নয়, পরিবেশ সুরক্ষায় বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে ইউনিলিভার। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত রূপান্তর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে নেওয়া দূরদর্শী উদ্যোগগুলো একটি সামগ্রিক পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করেছে। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ আগামীর নিরাপত্তা’।

পরিবেশ সুরক্ষায় প্রযুক্তি

২০১০ সাল থেকে কালুরঘাট ফ্যাক্টরি জ্বালানি, কার্বন নিঃসরণ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে চলেছে। এটি কেবলমাত্র পরিকল্পনা নয়; বরং প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশবান্ধব একটি কারখানার বাস্তবায়ন।

জ্বালানির অপচয় কমাতে কালুরঘাট ফ্যাক্টরিতে প্রচলিত স্টিমচালিত ভ্যাকুয়াম সিস্টেমের পরিবর্তে বসানো হয়েছে ‘ড্রাই ভ্যাকুয়াম পাম্প’, যা ১ হাজার ৩৬৯ গিগাজুল জ্বালানি সাশ্রয় করছে। এ ছাড়া ‘ম্যাগনেটিক বিয়ারিং চিলার’ব্যবহারের ফলে যান্ত্রিক ঘর্ষণজনিত ক্ষতি কমে বছরে প্রায় ৭ হাজার ৮৩৩ গিগাজুল জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে। জেনারেটরের এগজোস্ট থেকে নির্গত পরিত্যক্ত তাপকে এখন বিশেষ বয়লারের মাধ্যমে আবার স্টিম উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০১০ সালের তুলনায় সামগ্রিক জ্বালানির ব্যবহার ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যা প্রায় ১ দশমিক ৬১ মিলিয়ন গিগাজুল জ্বালানি সাশ্রয় করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি: ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ–ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে ১ মেগাওয়াটে (৮৯০ কিলোওয়াট পিক) উন্নীত করা হয়েছে।

কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: ‘আইআরইসি’ সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে গ্রিন এনার্জি নিশ্চিত করায় ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৫৬ কিলোটন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ এড়ানো গেছে।

চট্টগ্রামে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কালুরঘাট কারখানার কুলিং টাওয়ার

পানি ও বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার

একসময় যে পানি একবার ব্যবহার করেই ফেলে দেওয়া হতো, এখন তার প্রতিটি ফোঁটা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগে রিভার্স অসমোসিস (আরও) ও আল্ট্রাফিলট্রেশন (ইউএফ) মেমব্রেন সিস্টেম উন্নত করায় পানি পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

পানি সাশ্রয়: ২০১০ সালের বেজলাইনের তুলনায় পানির ব্যবহার ৩৩ শতাংশ কমে সাশ্রয় হয়েছে ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ লিটার। এ ছাড়া পুরো ফ্যাক্টরিতে ফ্লোমিটার বসিয়ে রিয়েল টাইমে পানির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে শক্তি: বর্জ্য পরিশোধনাগারে (ইটিপি) ডিজলভড এয়ার ফ্লোরেশন (ডিএএফ) ও মুভিং বেড বায়োফিল্ম রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি যুক্ত করায় কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (সিওডি) ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা দ্বিগুণ বেড়ে ১২ হাজার পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) হয়েছে। যা অতিরিক্ত জায়গা না বাড়িয়েই আরও জটিল বর্জ্য পরিশোধনে সহায়ক হয়েছে । ইটিপির স্লাজ এখন ফেলে না দিয়ে সিমেন্ট কারখানায় কো-প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একইভাবে কাগজের ড্রাম, প্লাস্টিক প্যালেট, কস্টিক ও ব্রাইনসহ বিভিন্ন উপকরণ পুনর্ব্যবহারের জন্য সরবরাহকারী অংশীদারদের সক্ষমতা উন্নয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে ফ্যাক্টরির প্রতি চার ইউনিট বর্জ্যের এক ইউনিটই পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। এই হার আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে কোম্পানিটি। এই অগ্রগতির পেছনে শুধু প্রযুক্তি নয়, কার্যকর ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই যাত্রাকে এগিয়ে নিচ্ছে মাসিক ডেটা অডিট, ক্রস ফাংশনাল পর্যালোচনা এবং পরিবেশগত কার্যক্রম। ওয়াটার ম্যাপিং প্রকল্প, ফ্লোমিটার ক্যালিব্রেশন এবং নতুন বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে।

চট্টগ্রামের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

চট্টগ্রামের মতো জনবহুল নগরীতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ইপসা) সহযোগিতায় ৪১টি ওয়ার্ডে একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিলিভার।

এই উদ্যোগের আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করা, উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথক্করণে উৎসাহ দেওয়া, বর্জ্যকর্মীদের জীবিকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্কুলার ইকোনমি বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কালুরঘাট কারখানা

জুন ২০২২ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এবং ৩০ শতাংশ হার্ড প্লাস্টিক। সংগৃহীত বর্জ্য প্রতি মাসে প্রায় ১৮০টি রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের জন্য ৮ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সংগ্রহে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া এবং সংরক্ষণ ও সংগ্রহে সহায়ক উপকরণও সরবরাহ করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৩ হাজার বর্জ্যকর্মীকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্৵নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। একই সঙ্গে প্রায় ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে ব্যবসায়িক সক্ষমতা উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার বর্জ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণ করা বর্জ্যকর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিবাচক জীবিকাগত উন্নয়নের কথা জানিয়েছেন। যার মধ্যে আয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস, উন্নত পুষ্টি এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ২০২৫ সাল থেকে ১ হাজার ৮২৭ অংশগ্রহণকারী গ্রুপ–স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধে৵ দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের জন্য ১০ হাজার টাকা, অঙ্গহানি বা স্থায়ী অক্ষমতার জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।

বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ স্ক্র্যাপ ক্রেতার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে এবং শতভাগ স্ক্র্যাপ ক্রেতার সক্রিয় ব্যাংক হিসাব আছে। পাশাপাশি ২৫ হাজারের বেশি পরিবারের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবার বর্জ্য পৃথক্করণ  করছে। চলতি বছরে আরও ১০ হাজার পরিবারের মধ্যে এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে ইউনিলিভার। এ ছাড়া ১১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থ্রি বিন–ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কালুরঘাট কারখানার জন্য সৌরবিদ্যুতের প্যানেল

তরুণদের সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন ওয়ার্ডজুড়ে ৪১০ সদস্যের একটি যুব স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ জন যুব স্বেচ্ছাসেবককে পরিবেশবিষয়ক লেখনীর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং চলতি বছর আরও ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিভিন্ন সম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে যুব স্বেচ্ছাসেবীদের স্বীকৃতি ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী শহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বর্জ্য এখনো সংগ্রহের বাইরে থেকে যায়, যা ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত ও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক পুনরুদ্ধার বৃদ্ধি, উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথক্করণ, কমিউনিটি সচেতনতা বৃদ্ধি, শক্তিশালী পুনর্ব্যবহার ভ্যালু চেইন তৈরি এবং বর্জ্যকর্মী, রিসাইক্লার ও স্ক্র্যাপ ক্রেতাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় করা হবে।

প্লাস্টিক বর্জ্য কমাচ্ছে ‘ইউ-রিফিল’

ভোক্তা পর্যায়ে প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহার কমাতে ইউনিলিভার চালু করেছে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উদ্যোগ ‘ইউ-রিফিল’।

এর মাধ্যমে ভোক্তারা তাঁদের ব্যবহৃত খালি বোতল বা পাত্র নিয়ে ডিজিটাল রিফিল মেশিনে আসবেন এবং সরাসরি সানসিল্ক, ডাভ শ্যাম্পু, লাইফবয় হ্যান্ডওয়াশ বা ভিম লিকুইড রিফিল করে নিয়ে যেতে পারেন।

যতবার ক্রয়, ততবার সাশ্রয়

নতুন বোতলের খরচ বেঁচে যাওয়ায় ভোক্তারা সরাসরি মূল৵ছাড় পাচ্ছেন। সানসিল্ক ও লাইফবয় হ্যান্ডওয়াশে প্রায় ১০ শতাংশ, ডাভ শ্যাম্পুতে প্রায় ৯ শতাংশ, ভিম লিকুইডে প্রায় ৮ শতাংশ সাশ্রয় করতে পারবেন ক্রতারা।

আন্তর্জাতিক অংশীদার ‘ট্রান্সফর্ম’ এবং স্থানীয় অংশীদার ‘ওমনি স্ট্র্যাটেজি’র সহায়তায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘ইউ-রিফিল ২.০’ চালু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা ও নরসিংদীতে ১৫০টি রিফিল মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ওমনি স্ট্র্যাটেজি ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু করে বড় বাজারের উপযোগী ১, ৩ ও ৫ লিটারের তিন ধরনের মেশিন তৈরি করেছে। বর্তমানে মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা ও দক্ষিণখানের প্রায় ৫০টি দোকানে এর পাইলট কার্যক্রম চলছে।

এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছেছে এবং ৭২ কেজির বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে ছড়ানো রোধ করা গেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি দোকানে এবং দীর্ঘ মেয়াদে সারা দেশে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার খুচরা দোকানে এই রিফিল স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে ইউনিলিভারের।

দেশে এমন বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সঠিক প্রযুক্তি, সুনির্দিষ্ট  পরিকল্পনা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশের সুরক্ষা—দুটিই একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব। টেকসই শিল্পায়নে উদাহরণ তৈরি করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কালুরঘাট ফ্যাক্টরি, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ‘ইউ-রিফিল’-এর মতো উদ্যোগগুলো।

Read full story at source