বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে শিল্পে ছাড়ের ছড়াছড়ি

· Prothom Alo

সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিকস শিল্প বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর, জুয়েলারি, জাহাজ, ড্রেজারসহ রপ্তানিমুখী বিভিন্ন খাত শুল্ক ও করছাড়ের মতো সুবিধা পেয়েছে বাজেটে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত নতুন করে আরও সুবিধা পেয়েছে। 

দেশের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। এতে করে নতুন কর্মসংস্থান কম হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফেরাতে ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের আস্থা ফেরাতে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধার হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

Visit extonnews.click for more information.

ইলেকট্রনিক পণ্য: মোবাইল ফোন, রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। আবার ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লোট গ্লাস আমদানিতে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং খাতে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, সব নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও আগাম কর ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহতি থাকবে। এতে করে সম্ভাবনাময় খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হতে পারে। 

ডিজিটাল পণ্য: প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস খাতে দেশীয় শিল্পের বিকাশের জন্য কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি ২০৩০ সারের পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনার ইত্যাদি প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের স্থানীয় উৎপাদনে শর্ত সাপেক্ষে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা আরও চার বছর থাকবে। 

গাড়ি সংযোজন শিল্প: বিযুক্ত (সিকেডি) অবস্থায় বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ক্ষেত্রে প্রস্তুত গাড়ির তুলনায় কম করহার নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচটি শ্রেণির জন্য যথাক্রমে ৫২, ৬৪ দশমিক ২৫, ৯৬ দশমিক ১০, ১৩৫ দশমিক ৯১ এবং ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। আবার পরিবেশবান্ধব গাড়ি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে শুল্ক–করে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। 

জুয়েলারি শিল্প: জুয়েলারি শিল্পকে আনুষ্ঠানিক করার অংশ হিসেবে সোনার অলংকারে ভ্যাট কমানো হয়েছে। এত দিন অলংকার কেনাবেচায় ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো। এখন প্রতি ভরিতে আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে। 

তৈরি পোশাক ও বস্ত্র: প্রতিবছর বন্ডের অডিট (নিরীক্ষা) থেকে রেহাই পাচ্ছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প। বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে পলিয়েস্টার টেক্সচার্ড সুতা ও পলিয়েস্টারের তৈরি অন্যান্য সুতা এবং পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার পণ্য আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। 

রপ্তানিমুখী শিল্প: তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত কাঁচামাল আমদানিতে বন্ড সুবিধা পাবে। এ জন্য বিদ্যমান বন্ড সংক্রান্ত বিধিবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। চামড়া পণ্য ও জুতা; টেরিটাওয়েল, লিলেন ও হোম টেক্সটাইল শিল্প প্রতিষ্ঠানের জেনারেল বন্ডের মেয়াদ হবে এক বছরের পরিবর্তে তিন বছর। এ ছাড়া ১০টি খাত বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পাবে। 

Read full story at source