আর্থিক খাতের জন্য সাহসী ও যুগান্তকারী বাজেট, বিএবির বিবৃতি

· Prothom Alo

বিএবি বলেছে, অনিয়মের মাধ্যমে যারা ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করেছে, তা স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে আর্থিক খাতের জন্য একটি সাহসী ও যুগান্তকারী হিসেবে অভিহিত করেছে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃ মূলধনীকরণের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, সুশাসন সংস্কার এবং বন্ড-মার্কেট-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রশংসা করেছে সংগঠনটি।

Visit amunra-online.pl for more information.

সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে বাজেট নিয়ে এই মতামত তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বেসরকারি ঢাকা ব্যাংক ও বিএবির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।

বিএবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যাংক খাত থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ দ্রুত উদ্ধার, খেলাপিদের পুনর্বাসন রোধে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা, ব্যাংকের জন্য ন্যায্য ও ধারাবাহিক কর ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাত যাতে ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিএবি বলেছে, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমাতে করপোরেট ও মিউনিসিপ্যাল বন্ড মার্কেটের উন্নয়নকে স্বাগত জানায় সংগঠনটি। এ ছাড়া আমানতের ওপর আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং প্রতি ঋণ সুবিধার জন্য আবগারি শুল্ক একক মাশুল হিসেবে যৌক্তিকীকরণের সিদ্ধান্তে আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতারা উপকৃত হবেন।

জাতীয় বাজেটকে সংস্কারমুখী ও সাহসী আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানালেও আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়নে আটটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জোর দিয়েছে বিএবি। সংগঠনটি বলেছে, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কেবল তহবিল জোগালেই হবে না, আর্থিক খাতের প্রকৃত সংস্কার ও বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এসব সংকটের সুরাহা করা জরুরি। বিএবি যেসব বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তার মধ্যে রয়েছে লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধার ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অনিয়মের মাধ্যমে যারা ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করেছে, তা স্বচ্ছভাবে নিষ্পত্তি করা, খেলাপি ঋণ কমাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্দশার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা যাতে আর এই খাতে প্রবেশের সুযোগ না পায়, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর করহার কমানো, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক লভ্যাংশ কর মওকুফ এবং বোনাস লভ্যাংশের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার, প্রভিশনিং ঘাটতিকে করযোগ্য আয়ের বাইরে রাখা, ডিজিটাল ও নগদবিহীন সমাজ গঠনে ব্যাংকগুলোর ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে শুল্ক ও করমুক্ত রাখা।

বিবৃতিতে বিএবি জানায়, শক্তিশালী ব্যাংক ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি হতে পারে না, আর আস্থা ছাড়া শক্তিশালী ব্যাংক হতে পারে না। ব্যাংক খাত থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধার এবং সরকারের ব্যাংকঋণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই বাজেট দেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে থাকবে।

Read full story at source