হিমশৈল বদলে দিচ্ছে গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র
· Prothom Alo

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহগুলো থেকে ২৫ বছর আগের তুলনায় এখন প্রায় চার গুণ বেশি হারে হিমশৈল বা বিশালকায় বরফখণ্ড সাগরে ভেঙে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বরফ গলে যাওয়ার এই ঘটনা কেবল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাই বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে সমুদ্রের তলদেশের গভীর বাস্তুতন্ত্র এবং সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। নেচারে প্রকাশিত টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডেনমার্কের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমবাহের উপরিভাগের পরিবর্তন এবং এর ফলে সাগরে হিমশৈলের চলাচল বৃদ্ধির সঙ্গে গভীর সমুদ্রের তলদেশে এক নতুন ধরনের সামুদ্রিক পরিবেশ বা কঠিন তলদেশীয় বাসস্থানের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডেনমার্কের গবেষক শফাকাত আব্বাস খান বলেন, গ্রিনল্যান্ডের বরফ যখন গলে, তখন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এর ফলে সৃষ্ট পরিবর্তন কেবল পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়, হিমবাহ থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রকেও সরাসরি প্রভাবিত করছে এবং পুরো আর্কটিক অঞ্চলকে বদলে দিচ্ছে। হিমবাহ থেকে খসে পড়া বিশালকায় হিমশৈলগুলো যখন সাগরে ভেসে বেড়ায়, তখন সেগুলো নিজেদের শরীরের ভেতরে থাকা টন টন পাথর, নুড়ি এবং পলি শত শত কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রের দিকে বয়ে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে বরফ গলে গেলে এই ভারী পাথরগুলো সমুদ্রের তলদেশে ডুবে যায়। কাদা আর বালুতে ভরা গভীর সমুদ্রের নরম তলদেশে এই শক্ত পাথরগুলো সামুদ্রিক বিভিন্ন জীব ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য চমৎকার কঠিন বাসস্থান হিসেবে কাজ করে, যা সেখানে নতুন এক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলছে।
Visit tr-sport.bond for more information.
গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সাভালবার্ডের মধ্যবর্তী ফ্রাম স্ট্রেইট এলাকায় ২০০০ সালের পর থেকে হিমশৈল বা আইসবার্গের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই শতাব্দীর শুরু থেকে প্রতি দশকে গ্রিনল্যান্ড এবং রাশিয়ান আর্কটিক থেকে উৎপন্ন হওয়া হিমশৈলের বড় বড় দলের সংখ্যা প্রায় ৪.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিবেশগত এই পরিবর্তনের একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অনেক নতুন এবং সংক্ষিপ্ত নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। তবে সাগরে হিমশৈলের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন রুটগুলোতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য বরফখণ্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানে দেখা গেছে, সমুদ্রের জমাটবাঁধা বরফের ভেতরে আটকে থাকা অনেক হিমশৈলের তলদেশে গলনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আইসবার্গের ভেতরের পলি ও পাথরের কারণে পানির রং পর্যন্ত বাদামি হয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি