মোংলায় ওসির বিরুদ্ধে ‘মদ্যপ অবস্থায়’ গালিগালাজ ও অশালীন আচরণের অভিযোগ
· Prothom Alo

বাগেরহাটের মোংলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গালিগালাজ ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার মধ্যস্থতায় থানায় বসে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সঙ্গে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা চলছে। তবে ওসি আতিকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় রাতের বেলা অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বন্ধ করতে দোকানপাটে যাওয়ার ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
Visit moryak.biz for more information.
মঙ্গলবার রাতের ঘটনার বিষয়ে মোংলা পৌর যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বকাপ খেলা দেখার জন্য তিনি রাতে বাইরে ছিলেন। তিনি ও পৌর তাঁতীদলের সদস্যসচিব আজিজুর রহমান চা পান করতে যান। রাত দুইটা থেকে সোয়া দুইটার দিকে ওসি সেখানে এসে দোকান খোলা কেন জানতে চান। একপর্যায়ে দোকানিকে দোকান বন্ধ করতে বলে চায়ের কাপ তাঁর দিকে ছুড়ে মারেন। দুই নেতা কেন বসে আছেন, সেটাও জানতে চান ওসি। একপর্যায়ে তিনি তাঁদের গালিগালাজ করতে থাকেন।
মোংলা শহরের রিজেকশন গলির জামালের চায়ের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজেও দোকানির দিকে চায়ের কাপ ছুড়ে মারার দৃশ্য দেখা যায়। কালো রঙের টি-শার্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরা ওসিকে তখন শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায় তাঁর সঙ্গে থাকা পোশাকধারী দুই পুলিশ সদস্যকে।
পৌর তাঁতীদলের সদস্যসচিব আজিজুর রহমানের ভাষ্য, ওসি বাজে অঙ্গভঙ্গি শুরু করেন এবং বিশ্রী কথাবার্তা বলতে থাকেন। তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। গালিগালাজ করেছেন অকথ্য ভাষায়, মা-বোন তুলে...। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ আরও চারজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা বলেন, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই দোকানের সামনে এসে দাঁড়ান। সেখানে রাতে দোকান খোলা না রাখার নির্দেশ দেন ওসি। দলীয় পরিচয় নিয়ে তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
ঘটনার সময় দোকানের সামনের রাস্তার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, ওসি ও তিন পুলিশ সদস্য সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় রাস্তার কয়েকজনের উদ্দেশে কিছু বলছেন। একপর্যায়ে তাঁদের দিকে ফিরে দুই হাত কোমরে দিয়ে দাঁড়ান। পরে গেঞ্জি তুলে অশ্লীল ভঙ্গিতে এগিয়ে যান। এ সময় সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে পেছন থেকে টেনে নিয়ে আসেন।
যুবদল নেতা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। কোনো অভিযোগ থাকলে উনি আমাদের ধরে থানায় নিয়ে যেতে পারতেন। প্রকাশ্যে গালিগালাজ করেছেন। এমন ব্যবহার ফ্যাসিস্ট আমলেও আমরা দেখিনি। আমরা তো দেখি, পুলিশ আসামির ডোপ টেস্ট করে। এখন আমি একজন পাবলিক হয়ে বলতে চাচ্ছি যে ওসি সাহেবের ডোপ টেস্ট করানো উচিত।’
বুধবার দুপুরে মীমাংসা বৈঠকের বিষয়ে পৌর বিএনপি ও মহিলা দলের দুই নেতাকে কল করলে তাঁরা ফোন ধরেননি।
অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘গভীর রাতে দোকানপাট খোলা থাকে, এলাকায় চুরিটুরি বেড়ে গেছে। এ জন্য এলাকায় বাজে আড্ডা বন্ধ করার জন্য দোকানপাটে গিছিলাম। আসলে স্বার্থান্বেষী মানুষের গায়ে আঘাত লাগলে যা করে আরকি। এটা সঠিক না, আসলে যেটা বলতেছে, আমি সরকারি চাকরি করি, যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও হয়েছে, আমি এগুলো কেন করতে যাব।’
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আসলে পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের কথা আসছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’