বিদ্যুৎ, জ্বালানির ‘অযৌক্তিক’ বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি

· Prothom Alo

বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্যকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। তারা সরকারের কাছে আট দফা দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কৃষিসেচ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সীমিত আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম প্রথম ২০০ ইউনিট পর্যন্ত না বাড়ানো।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ‘অযৌক্তিক বর্ধিত মূল্য’ প্রত্যাহারের দাবিতে আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এনপিএ।

Visit bettingx.club for more information.

সমাবেশে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য বাকী বিল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল, তখনো বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়তি ছিল। জ্বালানি তেল থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে সরকার। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যখন একটা অচলাবস্থা হলো, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পরিশোধ করে মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করবে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলো না। বিদ্যুতের দামের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা।

‘অযৌক্তিক’ দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে বিরোধী দল আলোচনা করছে না উল্লেখ করে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায় বলেন, ‘বাজেট আলোচনায় কে ওয়াশিং মেশিন পাবে, কে মাইক্রোয়েভ ওভেন পাবে, তা নিয়ে তারা ব্যস্ত।’

বিএনপি সরকারের ঘোষিত বাজেটকে ‘শেখ হাসিনার আমলের মতো জিডিপির প্রবৃদ্ধির গল্পনির্ভর বাজেট’ বলেও মন্তব্য করেন অনিক রায়। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে না, কারণ সরকারই ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা ঋণ নেবে।

‘অযৌক্তিক’ দাম বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে বিরোধী দল আলোচনা করছে না উল্লেখ করে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায় বলেন, ‘বাজেট আলোচনায় কে ওয়াশিং মেশিন পাবে, কে মাইক্রোয়েভ ওভেন পাবে, তা নিয়ে তারা ব্যস্ত।’

সমাবেশে এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আরেক সদস্য মেঘমল্লার বসু বলেন, এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাত, গবেষণা খাত বা শিক্ষা খাতের বরাদ্দে তুলনামূলক উন্নয়ন নিয়ে ইতিবাচক কথা বলা যায়। আবার বাজেটে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা একেবারেই গণবান্ধব নয় এবং জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকার শামিল। তেমন একটি বিষয় হচ্ছে জ্বালানি তেল, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি।

আট দফা দাবি

সমাবেশের শুরুতে এনপিএর পক্ষে একটি বিবৃতি পড়ে শোনান এই প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য শামীম আরা। বিবৃতিতে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনে আট দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে প্রথম দাবি হলো সাধারণ মানুষ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে যেমন তাঁদের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, ঠিক তেমনি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানিগুলোর অদক্ষতা, সিস্টেম ফেইলিওর বা লোডশেডিংয়ের কারণে জনগণ বিদ্যুৎবঞ্চিত হলে কোম্পানিগুলোকেও বাধ্যতামূলকভাবে গ্রাহকদের যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য বাকী বিল্লাহ। আজ শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে

এনপিএর দ্বিতীয় দাবি হচ্ছে, আবাসিক গ্রাহকদের মতো বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতেও প্রগ্রেসিভ রেট (ধাপভিত্তিক মূল্যহার) চালু করা। তৃতীয় দাবি, সারা দেশের ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার বা ইজিবাইকগুলোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।

এনপিএর অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা, দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানো; ক্যাপাসিটি পেমেন্টের নামে হাজার কোটি টাকা লোকসানের উৎস খুঁজতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইন বিশ্লেষণ করা এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে সব ধরনের রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক খবরদারি থেকে মুক্ত করে স্বাধীন রেগুলেটরি কমিশনে পরিণত করা।

Read full story at source