‘আর্জেন্টিনার পতাকা বেশি বিক্রি করেছি’
· Prothom Alo

প্রতিদিন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গাবতলী, সংসদ ভবন এলাকা, ফার্মগেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পতাকা বিক্রেতাদের দেখা যায়।
১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন হয় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। সেদিনই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসেছিলেন দেলোয়ার মাবরুর।
Visit freshyourfeel.com for more information.
৫৫ বছর বয়সী দেলোয়ার মাবরুরের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। তিনি পেশায় দিনমজুর। অর্থের বিনিময়ে শ্রম বিক্রি করে সংসার চালান। ঢাকায় তাঁর আসার উদ্দেশ্য কিছু বাড়তি অর্থ আয় করা।
গতকাল শনিবার ভ্রাম্যমাণ পতাকা বিক্রেতা দেলোয়ারের সঙ্গে দেখা হয় রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায়। তিনি একটি লাঠিতে কিছু পতাকা ঝুলিয়ে বাকি পতাকাগুলো আরেকটি ব্যাগে নিয়ে হাঁটছিলেন। দেলোয়ার জানান, প্রতিদিন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গাবতলী, সংসদ ভবন এলাকা, ফার্মগেটসহ রাজধানীর এ–মাথা থেকে ও–মাথায় হেঁটে পতাকা বিক্রি করেন।
এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ হাজার টাকার পতাকা। কোন দেশের পতাকা বিক্রি বেশি হচ্ছে, সেটা জানতে চাইলে প্রথম মুচকি হেসে বলতে চাননি। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি বলেন, ‘আইছি তো ১০-১২ দিন হইছে। আর্জেন্টিনার পতাকা বেশি বিক্রি করেছি।’
দেলোয়ার মাবরুর এবারই পতাকা বিক্রির জন্য ঢাকায় এসেছেন। তিনি এক মাসের জন্য রায়েরবাজার এলাকায় একটি মেসে উঠেছেন। সেখানে এক মাসের জন্য ৮০০ টাকা অগ্রিম ভাড়া দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে গ্রাম থেকে আরও তিনজন এসেছেন। তাঁরা মোট চারজন রায়ের বাজারের সেই আধা পাকা ঘরটি এক মাসের জন্য ভাড়া নিয়েছেন।
বাড়তি আয়ের আশায় বিভিন্ন দলের পতাকা বিক্রি করেন মো. বোরহান। গতকাল নীলক্ষেত এলাকায়দেলোয়ার মাবরুর জানান, গ্রামে তিনি প্রতিদিন শ্রম দিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা উপার্জন করেন। যেই টাকা উপার্জন করেন, সেই টাকায় তার সংসার চলে না। সংসারে টানাটানি। তাই কিছুটা বাড়তি আয়ের আশায় তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর পর পতাকা বিক্রি ভালো থাকলেও এখন ধীরে ধীরে বিক্রি কমছে বলেও জানান দেলোয়ার মাবরুর। তিনি বলেন, ‘আইজকা সব থেইকা কম বেচছি; আর দুইডি দিন দেহুম। এমন থাকলে চইল্লা যামু।’
দেলোয়ার মাবরুরের ব্যবসায় ঝুঁকি বেশি নিতে চাননি। গ্রাম থেকে তাঁরা যে চারজন একসঙ্গে এসেছিলেন; সবাই পরিচিত একজনের কাছ থেকে চুক্তিতে পতাকা নিয়েছেন। চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যা বেচতে পারুম, ওগুলোর টেহা দিমু। বাকিডি ফেরত দিমু।’
‘বড় পতাকাডা ধরলে টাহা আউগ্যায়’
দেলোয়ার মাবরুরের মতো বাড়তি আয়ের আশায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে পাঁচ দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন ৫৭ বছর বয়সী কাজী কামরুল ইসলাম। তিনি পেশায় হাঁড়িপাতিল বিক্রেতা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে কয়েক দিনের জন্য পতাকা বিক্রি করতে এসেছেন ঢাকায়।
কাজী কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা এর আগের তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপেও পতাকা বিক্রির জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। তবে এবার তাঁর আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে। কারণ, তিনি পতাকা বিক্রির অবস্থা বুঝে ঢাকায় এসেছিলেন।
প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করেন কাজী কামরুল ইসলাম। আর্জেন্টিনা জেতার পর পতাকা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ থেকে কাজী কামরুল ইসলামের পরিচিত আরও আটজন ঢাকায় এসেছেন এবার। তারাও সবাই বিশ্বকাপ চলাকালে পতাকা বিক্রি করছেন। বাকিরা উঠেছেন জিগাতলায়।
‘এহন স্লো হয়া গেছে’
বিশ্বকাপ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি জমে উঠলেও ধীরে ধীরে সেটি কমছে বলে জানান পতাকার আরেক বিক্রেতা মো. বোরহান। তিনি রাজধানীর নীলক্ষেতে ফুটপাতে খাতা–কলমসহ বিভিন্ন স্টেশনারি বিক্রি করেন। পতাকা বিক্রির অবস্থা কেমন জানতে চাইলে বোরহান বলেন, ‘শুরুতে চলছিল। এহন স্লো হয়া গেছে।’
১৯ বছর বয়সী মো. বোরহানের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনি থাকেন নীলক্ষেত এলাকায় তাঁর বোনের সঙ্গে। বোরহানরা তিন ভাই। বাকি দুই ভাই নীলক্ষেতের বই মার্কেটে বইয়ের দোকানে কাজ করেন। বোরহান যে দোকানটি পরিচালনা করেন, সেটি তাঁর বোনের স্বামীর। বোনের বাসায় থাকা-খাওয়াসহ মাসে ১০ হাজার টাকা বেতনে এই দোকানে কাজ করেন।
বোরহানের কাছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল, জার্মানি, ইরান, সৌদি আরব, মরক্কোসহ ২০টি দেশের পতাকা আছে। প্রতিটি পতাকা তিনি বিক্রি করছিলেন ১২০ থেকে ২৫০ টাকায়।
কোন দলের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে বোরহান বলেন, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা বিক্রি প্রায় সমান সমান।