জুয়া–বেটিং প্রতিরোধে সংসদে বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর কারাদণ্ড

· Prothom Alo

বিভিন্ন ধরনের জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে বিল আনা হয়েছে। এতে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধ অনুযায়ী ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ রহিত করে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ আইন করতে এ বিল আনা হয়েছে।

Visit newsbetting.bond for more information.

আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে তোলেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বিভিন্ন ধরনের জুয়ার সংজ্ঞার পাশাপাশি দণ্ডের উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭ দেড় শ বছরের বেশি পুরোনো একটি আইন। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নীতির কথা বলা আছে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মাঠপর্যায়ে আইনটি অধিকতর কার্যকরভাবে প্রয়োগের জন্য দণ্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে যুগোপযোগী করে সংশোধনের প্রস্তাব পাওয়া যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনটি অপর্যাপ্ত। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থ পাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও তরুণসমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সময়ের পরিবর্তনে জুয়ার বিস্তারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ হয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস, আর্থিক সামাজিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধকল্পে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে সমন্বিত ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজন।

Read full story at source