মসৃণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে সম্ভাব্য উত্তরসূরি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

· Prothom Alo

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া কিয়ার স্টারমার গতকাল মঙ্গলবার তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে ‘সুশৃঙ্খল’ রাখার লক্ষ্যে এমন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়ের পর এটাই ছিল দুই নেতার প্রথম সাক্ষাৎ।

Visit sportbet.rodeo for more information.

স্টারমার ও বার্নহামের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা এ বৈঠকের খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস। একই সময় স্টারমার লেবার পার্টির শীর্ষ পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরুর অনুমোদন দিয়েছেন, যেন তাঁরা সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।

বার্নহামকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিতে চান না জ্যেষ্ঠ লেবার এমপিরা

তবে এখন পর্যন্ত একমাত্র বার্নহামই বলেছেন যে তিনি দলীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। যদি আর কেউ লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসার জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা না করেন, তবে বার্নহাম আগামী ১৭ জুলাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন।

বার্নহামের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেছেন, যদি মেকারফিল্ডের আইনপ্রণেতা (অ্যান্ডি বার্নহাম) প্রধানমন্ত্রী হন, তবে তিনি বর্তমান অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসকে মন্ত্রিসভায় একটি জুনিয়র পদ দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।

ওই সহযোগী বিবিসিকে বলেন, ‘র‍্যাচেলকে অ্যান্ডি সত্যিই সম্মান করেন এবং আমি নিশ্চিত যে তিনি তাঁকে তাঁর শীর্ষ টিমে রাখতে চাইবেন।’

তবে বার্নহামের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রিভসের দলেরও মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়েছিল।

র‍্যাচেল রিভসের পরিবর্তে কে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে আছে এড মিলিব্যান্ড, ওয়েস স্ট্রিটিং, জন হিলি ও ইভেট কুপার।

এ ছাড়া বার্নহামের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মতে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে লেবার পার্টির মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য জেমস পার্নেলকে ডাউনিং স্ট্রিটে তাঁর চিফ অব স্টাফস হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন।

জেমস পার্নেল ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে গর্ডন ব্রাউন সরকারের অধীন সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টার অঞ্চলের আইনপ্রণেতার পদ ছাড়ার পর তিনি বিবিসির একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সাম্প্রতিক সময়ে কৌশল নির্ধারণ ও লবিং প্রতিষ্ঠান ফ্লিন্ট গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।

যুক্তরাজ্যে সাধারণত সাধারণ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতাদের সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেছেন, সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থীদের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠক যত দ্রুত সম্ভব শুরু হবে। আগামী ১৬ জুলাই লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

মুখপাত্র আরও বলেন, মূলত ‘সরকার গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার’ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ আলোচনা হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিংও থাকবে। তিনি বলেন, অ্যান্ডি বার্নহাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৈঠকের অনুরোধ করেছেন কি না, তা তিনি জানেন না। তবে এমন সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মাত্রই নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিজ দল লেবার পার্টির এমপিদের সমর্থন হারানোর পর গত সোমবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। বলেছেন, দলের নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। যুক্তরাজ্যের শাসনব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, সে দলের নেতাই সাধারণত দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।

সোমবার স্টারমার বলেছেন, তিনি তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনে সময়সীমা নির্ধারণ করতে লেবার পার্টির পরিচালনা পর্ষদকে বলেছেন। ৯ জুলাই মনোনয়নপ্রক্রিয়া শুরু এবং ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তা শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার বলেছেন, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি যেন সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এটাই তাঁর কামনা।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার আরও বলেন, তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহে সরকারের সামনে থাকা জটিল ও কঠিন বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করবেন, যেন তাঁর উত্তরসূরির কাজ সহজ হয়। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যতটা সম্ভব মসৃণ ও সহজ করে তুলতেও কাজ করবেন।

এ ছাড়া নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সরকার কোনো বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত বা উল্লেখযোগ্য ব্যয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও জানান স্টারমার।

Read full story at source