যে খাবার খেয়ে তৈরি হয়েছে হলান্ডের শক্তিশালী শরীর: জানুন গোলমেশিনের ডায়েট রহস্য

· Prothom Alo

ফুটবল মাঠে আর্লিং হলান্ডকে দেখলে অনেক সময় মনে হয়, তিনি যেন আধুনিক ফুটবলের এক শক্তিশালী যোদ্ধা। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের গতি, শক্তি এবং গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরের প্রতি অসাধারণ যত্ন।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একের পর এক গোল করে আলোচনায় থাকা হলান্ডের ফিটনেস রুটিন সবসময়ই ভক্তদের আগ্রহের বিষয়। সম্প্রতি মাঠের একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসে তার পেশিবহুল শরীর, ফিটনেস এবং কঠোর জীবনযাপন।

Visit michezonews.co.za for more information.

৬ হাজার ক্যালোরির শক্তির রহস্য

একজন সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ক্যালোরির প্রয়োজন যেখানে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ক্যালোরির মধ্যে, সেখানে একজন এলিট ফুটবলার হিসেবে হলান্ডের শরীরের চাহিদা অনেক বেশি। জানা যায়, তার দৈনিক খাদ্যতালিকায় প্রায় ৬ হাজার ক্যালোরি থাকে।

তবে বিষয়টি শুধু বেশি খাওয়ার নয়। হলান্ড গুরুত্ব দেন খাবারের মান ও পুষ্টির ওপর। তার খাদ্যতালিকায় থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, লাল মাংস, ডিম, দুধ, মধু এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার। বিশেষ করে গরুর কলিজা ও হৃদপিণ্ডের মতো খাবারও তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

কেন কলিজা ও হৃদপিণ্ড?

হলান্ডের খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো অর্গান মিট বা প্রাণীর অভ্যন্তরীণ অঙ্গের মাংস। কলিজাকে বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে ধরা হয়, কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২, আয়রন এবং ফলেট। অন্যদিকে হৃদপিণ্ডের মাংসে পাওয়া যায় প্রোটিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
হলান্ডের দর্শন হলো যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে থাকা। তার মতে, শরীরকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুত রাখতে খাবারের গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হলান্ডের ‘ম্যাজিক পোশন’

তার খাদ্যাভ্যাসের আরেকটি আলোচিত অংশ হলো ‘ম্যাজিক পোশন’। এটি মূলত দুধভিত্তিক একটি পানীয়, যেখানে প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয় থাকে। কাঁচা মধু, দুধ এবং অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি এই পানীয়কে তিনি শক্তি ও রিকভারির অংশ হিসেবে দেখেন।

এছাড়া ভারতীয় খাবারের প্রতিও তার রয়েছে বিশেষ আগ্রহ। এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতীয় খাবার পছন্দ করেন। বিশেষ করে ল্যাম্ব চপস, বাটার চিকেন এবং গার্লিক নানের মতো খাবার তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

শুধু ট্রেনিং নয়, রিকভারিও গুরুত্বপূর্ণ

হলান্ডের ফিটনেস দর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো রিকভারি। তার মতে, শুধু কঠোর অনুশীলন করলেই হবে না, শরীরকে সঠিকভাবে বিশ্রাম দেওয়াও জরুরি।
তার রুটিনে রয়েছে–

• আইস বাথ

• সাউনা থেরাপি

• রেড লাইট থেরাপি

• ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপি

• পর্যাপ্ত ঘুম

এই রিকভারি পদ্ধতিগুলো তাকে দীর্ঘ মৌসুমে শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

শক্তির সঙ্গে নমনীয়তার ভারসাম্য

অনেকেই মনে করেন, হলান্ডের মতো শক্তিশালী ফুটবলারের জন্য শুধু পাওয়ার ট্রেনিংই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে তিনি শরীরের নমনীয়তার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন।
বিশেষ করে হিপ ও গ্রোয়েন অঞ্চলের নমনীয়তা বাড়ানোর অনুশীলন তাকে দ্রুত দিক পরিবর্তন, বিস্ফোরক স্প্রিন্ট এবং প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে গোল করার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।

সবাই কি হলান্ডের ডায়েট অনুসরণ করতে পারবেন?

হলান্ডের খাদ্যাভ্যাস মূলত একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি। তাই প্রতিদিন ৬ হাজার ক্যালোরি গ্রহণ বা তার মতো খাদ্যতালিকা সাধারণ মানুষের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।

তবে তার জীবনধারা থেকে নেওয়ার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে-
প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং রিকভারির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।

আর্লিং হলান্ড শুধু মাঠের গোলমেশিন নন, তিনি নিজের শরীরকে কীভাবে একটি পারফরম্যান্স মেশিনে পরিণত করতে হয় তারও উদাহরণ। প্রতিভার সঙ্গে শৃঙ্খলা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং কঠোর পরিশ্রম-এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার।

হয়তো সবাই হলান্ডের মতো দিনে ৬ হাজার ক্যালোরি খেতে পারবেন না। কিন্তু নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের প্রতি তার যে দায়িত্বশীলতা সেটি যেকোনো মানুষের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস।

Read full story at source