মুমিনের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনে যে ৬ অভ্যাস

· Prothom Alo

সম্পদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও অনেকেই মানসিক অশান্তি, উদ্বেগ ও সম্পর্কের সংকটে ভুগছেন। অন্যদিকে সীমিত আয় করেও অনেক মানুষ শান্ত ও পরিতৃপ্ত মনে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করছেন।

Visit rouesnews.click for more information.

এর কারণ হলো, প্রকৃত স্বাচ্ছন্দ্য শুধু বাহ্যিক উপকরণে নয়; বরং আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের মধ্যে নিহিত। তাই একজন মুমিনের জন্য প্রয়োজন নিজেকে এমন অভ্যাসে গড়ে তোলা, যা তার জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অভ্যাস উল্লেখ করা হলো—

১. আল্লাহর জিকির

অন্তরের শান্তি কোনো বস্তুর মাধ্যমে অর্জন করা যায় না, বরং আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর প্রতি আস্থার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়। পবিত্র কোরআন ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রা’দ, আয়াত: ২৮)

কোরআনের বর্ণনায় মুমিনের ১০ গুণ

২. নিয়মিত নামাজ আদায়

জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করার অন্যতম অভ্যাস হলো নামাজ। এটি কেবল একটি ইবাদত নয়; এটি সময়ানুবর্তিতা, আত্মসংযম ও শৃঙ্খলার অনুশীলন।

একজন নামাজি ব্যক্তি প্রতিদিন পাঁচবার নিজের জীবনকে আত্মসমালোচনার মুখোমুখি করেন। ফলে তাঁর জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব আসে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)

৩. সততা ও সত্যবাদিতা

এটি এমন অভ্যাস, যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য কল্যাণকর। আজকের সমাজে অবিশ্বাস, প্রতারণা ও দুর্নীতির অন্যতম কারণ সততার অনুপস্থিতি। অথচ এই সততাই মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সত্য মানুষকে নেক কাজের পথ দেখায় এবং নেকি জান্নাতের পথে পরিচালিত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৯৪)

৪. ধৈর্য ধারণ

দুনিয়াটা মুমিনের জন্য পরীক্ষার কেন্দ্র। ইহজীবনে প্রত্যেক মানুষই পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তখন হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের অপরিহার্য দায়িত্ব। কেননা ধৈর্য এমন গুণ, যা কঠিন সময়কে সহজ করে তোলে।

তাই ধৈর্যশীল মানুষ সাময়িক ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েন না; বরং সংকটকে উন্নতির সোপান হিসেবে গ্রহণ করেন। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

বিপদে মুমিনের প্রথম করণীয় কী

৫. কৃতজ্ঞতা আদায়

কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে অন্তরে সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়। এটি আল্লাহর নেয়ামতের মর্যাদা উপলব্ধি করতে শেখায়। কৃতজ্ঞতার অভ্যাস অতৃপ্তির হতাশাকে দূর করে দেয়। ফলে একদিকে যেমন মনের ভেতর প্রশান্তি কাজ করে, অন্যদিকে শুকরিয়া আদায়ের কারণে নেয়ামতও বৃদ্ধি পায়।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি তোমাদের আরও বেশি দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে জেনে রেখো আমার শাস্তি অনেক কঠিন।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)

৬. পরিমিত জীবনযাপন

মিতব্যয়িতা মানুষকে স্বাবলম্বী করে এবং নিশ্চিন্ত জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। এটি ইসলামের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ভোগবাদ ও অপচয় সাময়িক আনন্দ দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকট সৃষ্টি করে।

তাই মানুষের সার্বিক কল্যাণের বিবেচনায় পবিত্র কোরআনে পরিমিত জীবনযাপনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)

সবশেষে বলা যায়, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করার জন্য কোনো জটিল দর্শনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন কিছু উত্তম অভ্যাস গড়ে তোলা। মূলত এসব অভ্যাসই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

বস্তুগত উন্নয়ন জীবনের একটি অংশ; কিন্তু আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়ন ছাড়া প্রকৃত সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে উত্তম অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে একটি শান্ত, সুশৃঙ্খল ও কল্যাণময় জীবনের সর্বোত্তম পথ।

  • মাহমুদ হাসান ফাহিম : শিক্ষক, বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদরাসা কমপ্লেক্স, টঙ্গী

যে ১০ কারণে আত্মার মৃত্যু হয়

Read full story at source