জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নামে যে মৌলের নাম

· Prothom Alo

পর্যায় সারণির ১১২ নম্বর মৌল কোপার্নিসিয়াম। কোপার্নিসিয়াম পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায়ের এবং ১২ নম্বর গ্রুপের একটি অতি ভারী, কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌল। এটি এমন একটি মৌল, যা প্রথাগত ধাতুর চেয়ে কিছুটা ভিন্নধর্মী আচরণের জন্য বিজ্ঞানীদের কাছে বেশ কৌতূহলের কারণ। ১৯৯৬ সালে জার্মানির ডার্মস্টাড শহরে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর হেভি আয়ন রিসার্চের বিজ্ঞানী সিগুর্ড হফম্যান এবং তাঁর দল প্রথম এই মৌলটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞানীরা দুই সপ্তাহ ধরে একটি ভারী আয়ন ত্বরক যন্ত্রে লেড-২০৮ লক্ষ্যবস্তুকে জিংক-৭০ আয়ন দিয়ে আঘাত করেন। জিংক আয়নগুলোর গতিবেগ ছিল সেকেন্ডে ৩০ হাজার কিলোমিটার। এই প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে কোপার্নিসিয়ামের ২৭৭ ভরের আইসোটোপ তৈরি হয়। এটি অত্যন্ত অস্থায়ী ছিল, যার অর্ধায়ু ছিল মাত্র ০.২৪ মিলিসেকেন্ড। এরপর এটি আলফা কণা নির্গত করে ডার্মস্টাটিয়াম-২৭৩-এ রূপান্তরিত হয়।

Visit esporist.org for more information.

১৬ শতকের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাস সৌরকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ধারণা দিয়ে বিশ্বকে বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর সম্মানে এই মৌলটির নাম রাখা হয় কোপার্নিসিয়াম। ২০০৯ সালের জুন মাসে আইইউপিএসির আবিষ্কারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর নামকরণ অনুমোদিত হয়।

কোপার্নিসিয়াম কেবল একটি তেজস্ক্রিয় ধাতু নয়, এর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য কিছুটা অদ্ভুত। সাধারণ ধাতুগুলোর মতো আচরণ না করে কোপার্নিসিয়াম অনেক ক্ষেত্রে একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো আচরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পারদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে। কোপার্নিসিয়ামের বেশ কয়েকটি আইসোটোপ রয়েছে। এদের মধ্যে কোপার্নিসিয়াম-২৮৫ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, যার অর্ধায়ু প্রায় ৩৪ সেকেন্ড। এ ছাড়া ফলেরিয়াম এবং লিভারমোরিয়ামের মতো অতিভারী মৌলগুলোর তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের ফলে কোপার্নিসিয়ামের ২৮৫ ও ২৮৪ আইসোটোপগুলো পাওয়া গেছে।

বর্তমানে কোপার্নিসিয়াম শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয়ে সীমাবদ্ধ। এটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না এবং মানুষের তৈরি করা পরমাণুর সংখ্যা খুবই সীমিত। মানবদেহ বা প্রাণিকুলের ওপর এর কোনো জৈবিক ভূমিকা নেই। এর অতি তেজস্ক্রিয়তা একে মানব ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

সূত্র: ব্রিটানিকা

Read full story at source