জঙ্গি সন্দেহে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুই যুবক রিমান্ডে

· Prothom Alo

জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুই যুবক সাহেদুল ইসলাম (৩৭) এবং রিশাদ আলীর (২৫) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

Visit afnews.co.za for more information.

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আদালতে বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম দুই যুবককে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে বিভিন্ন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মর্মে জানান। তাঁরা যেকোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করতে পারেন, এমন সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁরা বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, কোনো ইলেকট্রনিকস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন কি না, জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের জোগানদাতা কে বা কারা তা জানা, বাংলাদেশে তাঁদের অস্তিত্ব আছে কি না এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা জানার জন্য আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।

আদালতে শুনানিতে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক সিঙ্গাপুরে কাজ করেন। তাঁদের (দুই যুবক) এমন কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাঁদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং তারা কেন এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে, সেসব তথ্য উদ্‌ঘাটনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।’

এদিন আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক এক আসামিকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন সিঙ্গাপুর পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় নাম উল্লেখ করে রিশাদ আলী নামের এক আসামি আদালতকে বলেন, ২০২৩ সালে ফারাবী নামের এক লোককে নিয়ে ফেসবুকে লিখছিলেন এ জন্য। এ সময় বিচারক ফারাবীর পরিচয় জানতে চাইলে রিশাদ বলেন, তিনি বাংলাদেশের হেফাজত ইসলামের এক নেতা। তাঁকে বাংলাদেশের কারাগারে রাখা হয়েছিল। এখন তিনি কারামুক্ত।

শুনানি শেষে আদালত দুজনের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। পুলিশ জানায়, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহে সিঙ্গাপুর পুলিশ এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে সিঙ্গাপুর পুলিশ গতকাল বুধবার তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। দুই আসামির তিনটি মোবাইল ও পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

Read full story at source