হাঁটার সময় বেখেয়াল হয়ে পড়ছেন না তো?

· Prothom Alo

গভীর গর্ত না থাকলেও পথঘাটে ঘটতে পারে নানা দুর্ঘটনা। খানাখন্দে পা বেঁধে গিয়ে পড়ে যেতে পারেন যে কেউ। আবার মসৃণ পথেও পিচ্ছিল কিছুতে (যেমন কলার খোসা, পলিথিন প্রভৃতি) পা পড়লে ঘটতে পারে ভয়ংকর বিপদ।

Visit mchezo.life for more information.

সেই শিশুটির কথা মনে আছে? মা ছিলেন তার সঙ্গেই। কিন্তু বিপজ্জনক এক গর্তে পড়ে যায় শিশুটি। জীবনপ্রদীপ নিভে যায় সেখানেই। কিংবা আপনার কি সেই মায়ের কথা মনে পড়ে? পানি জমে থাকা পথে হাঁটতে গিয়ে যিনি খোলা ম্যানহোলে পড়ে গিয়েছিলেন? সন্তানদের কাছে আর ফেরা হয়নি তাঁর।

এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর পড়ে কষ্ট পাই আমরা। কারও কারও হয়তো চোখে জলও আসে। তবে সব একসময় ভুলেও যাই আমরা। খোলা ম্যানহোল, বিপজ্জনক গর্তের পাশ দিয়েই হেঁটে যাই নির্বিকার ভঙ্গিতে। যিনি হারান তাঁর আপনজনকে, তিনিই সারা জীবন বয়ে বেড়ান কষ্টের প্রচণ্ড ভারী এক বোঝা।

অনন্যা পান্ডের বাড়ির অন্দর কেমন, দেখুন ছবিতে

গভীর জায়গা? বিপজ্জনকই বটে

ধরা যাক, আপনার রোজকার চলার পথে একখানা ছোট গর্ত আছে। দেখতে দেখতে আপনি এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন যে আপনার মনে হয়, গর্তটা আপনার পথেরই অংশ। আশপাশের সবাই জানেন কোথায় পা ফেললে বিপদ এড়ানো যায়।

তবে তাড়াহুড়ায় ছুটতে গিয়ে হুট করেই একদিন দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন যেকোনো বয়সী মানুষ। গভীর গর্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকতে পারে। জমে থাকতে পারে বিষাক্ত গ্যাস। কিংবা থাকতে পারে জমা পানি। বুঝতেই পারছেন, সাদামাটা গর্তের আদলেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়াবহ এক মৃত্যুকূপ।

বাতাস কিংবা পানিজনিত কোনো সমস্যা না থাকলেও গর্তে পড়ে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড বা যেকোনো হাড়, লিভারসহ নানান অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক আঘাত লাগতে পারে। আঘাত বা রক্তক্ষরণের কারণেও মৃত্যু হয়। বেঁচে ফিরলেও ভয়ানক আঘাতের কারণে জীবন হয়ে পড়ে দুর্বিষহ।

গভীর গর্ত ছাড়াও পথে আছে নানা ফাঁদ

রাস্তায় জমে থাকা পানিতে বিদ্যুতের তার পড়ে গিয়ে থাকলে সেই পানিতে পা দিয়েও মৃত্যু হতে পারে নিমেষেই। রোদ ঝলমলে দিনেও ট্রাফিক আইন না মানা দুই চাকার বাহনে ধাক্কা লাগতে পারে হুট করে। বেপরোয়া যানবাহন চালকের জন্যও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার হুট করে মাথার ওপর ভারী কিছু পড়তে পারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে।

খাওয়ার পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলেই যে সুফল পাবেন

তাই বেখেয়াল হবেন না

প্রায়ই এমন সব দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তবে নিজেদের জীবনে সব সময় কি আমরা সতর্ক থাকি? হাঁটার সময় কখনো বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে থাকি, কখনো হেডফোনে থাকে প্রিয় কোনো ছন্দময় শব্দ। কখনো হাঁটতে হাঁটতে সেলফোনে কথা বলি, কোনো দিকে না তাকিয়ে রাস্তা পার হয়ে যাই।

কখনো তাড়াহুড়ায় ছুটি রুদ্ধশ্বাসে। কিন্তু জীবনের মূল্য সবকিছুর চেয়ে বেশি। সুস্থতাকে বলা হয় সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই চেনা বা অচেনা যেকোনো পথে চলার সময় সতর্ক থাকুন। তাড়াহুড়া করবেন না। সময় হাতে রেখে রওনা দিন গন্তব্যের উদ্দেশে। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হবেন না।

নিজের সঙ্গে থাকা শিশু, গর্ভবতী নারী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতি খেয়াল রাখুন। যত্ন করে আগলে রাখুন এই প্রিয় মানুষগুলোকে। নিজের চেনাজানা এলাকায় খানাখন্দ, বিপজ্জনক গর্ত, বৈদ্যুতিক তার, পিচ্ছিল আবর্জনা প্রভৃতি থাকলে সামাজিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে সচেষ্ট হোন। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রশাসন বিভাগের সহায়তা নিন।

বিয়ে-জন্মদিনে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলেই গুনতে হবে জনপ্রতি ২৫ টাকা

Read full story at source