গাজীপুরে বন্ধ হলো ৮ হাজার শ্রমিকের কারখানা, কারণ কী
· Prothom Alo
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় আট হাজার শ্রমিকের কর্মস্থল করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের একটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার থেকে শ্রম আইন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্র জানায়, উপজেলার সালিপুরের রতনপুর এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে প্রায় আট হাজার শ্রমিক কাজ করেন। গত বুধবার কারখানা কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়।
Visit forestarrow.help for more information.
করণী ফ্যাশনস লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাউর রহমান খান বলেন, ‘শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানা খুলে দেওয়া হবে।’
এর আগে ১ জুলাই গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকার ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডের (ইউনিট-২) কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই দিন বাঘেরবাজার এলাকায় লিথী গ্রুপের পাঁচটি পোশাক কারখানাও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে মালিকপক্ষ। এতে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
শফিউল আলম, সভাপতি,বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখারকারখানায় শ্রমিকদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়নি। এর প্রতিবাদ করায় কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছে।করণী ফ্যাশনসের নোটিশে বলা হয়, ৮ জুলাই বিকেল থেকে গার্মেন্টস শাখার শ্রমিকেরা আকস্মিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখেন। পরদিন সকালে কারখানায় এলেও তাঁরা কাজে যোগ দেননি। কর্তৃপক্ষ বারবার কাজে ফেরার অনুরোধ জানালেও শ্রমিকেরা সাড়া দেননি। এ পরিস্থিতিতে শ্রম আইন ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ১১ জুলাই থেকে গার্মেন্টস শাখার কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কয়েক দিন ধরেই করণী ফ্যাশনসে শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এ তথ্য জানিয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’
ইউরোপে পোশাক রপ্তানি বেশি কমেছে বাংলাদেশেরশ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি মাসের বেতন একবারে না দিয়ে কিস্তিতে পরিশোধ করায় তাঁদের বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে সমস্যা হচ্ছে। এ ক্ষোভ থেকেই তাঁরা উৎপাদন বন্ধ রাখেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি শফিউল আলম শ্রমিকদের বরাত দিয়ে বলেন, কারখানায় শ্রমিকদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়নি। এর প্রতিবাদ করায় কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ করে দিয়েছে।