কীভাবে ঠিক করা হয় ম্যাচের হোম-অ্যাওয়ে জার্সি
· Prothom Alo

বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্সি নিয়ে কাহিনির শেষ নেই। আর্জেন্টিনা খেলেছে হলুদ জার্সিতে, ফ্রান্স সবুজে আর মেক্সিকো নীল-সাদায়। দুই দলের জার্সি মিলে যাওয়ায় ক্লাব থেকে ধার করা জার্সিতেও খেলতে হয়েছে দলগুলোকে। যে কারণে ফিফা ম্যাচের অনেক আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেয়, কোন দল খেলবে কোন জার্সি পরে। রঙিন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার শুরুর পর থেকে কড়াকড়ি যেন আরও বেশি। কিন্তু কীভাবে ম্যাচের জার্সি ঠিক করে ফিফা, তা কি জানো?
Visit rouesnews.click for more information.
জার্সির অদলবদল নিয়ে এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের উদাহরণটা সবচেয়ে জুতসই হবে। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে দেখা গেছে চিরচেনা ব্রাজিলের জার্সিতে। হলুদ জার্সি, নীল শর্টস, সাদা মোজায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিল পরেছিল অ্যাওয়ে জার্সি—নীল জার্সি, নীল শর্টস আর নীল মোজা। তৃতীয় ম্যাচে আবার অন্য কম্বিনেশন। হলুদ জার্সি ছিল ঠিকই, কিন্তু শর্টস পরেছে সাদা, সঙ্গে সাদা মোজা। এর কারণ কী?
বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচগুলো কেন খেলা হয় বিশেষ বল দিয়ে মেক্সিকোর অ্যাওয়ে জার্সিহোম ও অ্যাওয়ে জার্সি
বিশ্বকাপের আগেই প্রতিটি দলকে তাদের হোম ও অ্যাওয়ে জার্সির পুরো সেট জমা দিতে হয় ফিফার কাছে। হোম কিট মূলত দেশের ঐতিহ্যবাহী রং বা জার্সির জন্য ব্যবহার করা হয়। আর অ্যাওয়ে কিট হতে পারে নিত্যনতুন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, একটি জার্সি যদি গাঢ় রঙের হয়, তবে অন্যটি অবশ্যই হালকা অথবা একদম বিপরীত রঙের হতে হবে।
বর্ণান্ধ ও সাদা–কালো টেলিভিশনের জন্য পরীক্ষা
দুই দলের জার্সি পাওয়ার পর একটি পরীক্ষায় বসে ফিফা। কোনোভাবেই যেন দুই দলের জার্সি, শর্টস ও মোজা কাছাকাছি রঙের না হয়। যাতে সাদা–কালো পর্দাতেও খেলা খুব ভালোভাবে দেখা যায়। এমনকি যাঁরা কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধ, তাঁরা যেন সহজে খেলোয়াড়দের আলাদা করতে পারেন, সে জন্য ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’ নামের বিশেষ যন্ত্র দিয়ে জার্সির রঙের তীব্রতা মেপে দেখা হয়।
গোলরক্ষক ও রেফারি
পুরো ম্যাচে সবচেয়ে ভালোভাবে চোখে পড়ে গোলরক্ষক ও রেফারিদের। তাঁরা যেন মাঠের বাকি ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে মিশে না যান, তাই দুই গোলরক্ষকের জার্সিও হয় ব্যতিক্রম। সবশেষে সবাই রং বেছে নেওয়ার পর ঠিক করা হয় রেফারির জার্সি।
বিশ্বকাপের ড্রেসিংরুম কেমন হয়, কী কী থাকেমেসি এখানে হোম জার্সিটাকেই বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে সিম্পল অথচ স্টাইলিশ উপায়েফিফার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচের জন্য একটি দলকে ‘হোম টিম’ এবং অন্য দলকে ‘অ্যাওয়ে টিম’ হিসেবে ঠিক করা থাকে। জার্সি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায় হোম টিম। যদি প্রতিপক্ষ দলের হোম জার্সি মিলে যায়, তবে পরতে হয় অ্যাওয়ে জার্সি। আবার যদি দেখা যায়, জার্সির রং আলাদা হলেও দুই দলের শর্টস বা মোজার রং এক হয়ে গেয়েছে (ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচের মতো), তবে কোনো এক দলকে জার্সি ও শর্টস মিক্স করে পরতে বলা হয়।
নয় কোনো গোপন বার্তা
জার্সিতে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান বা ছবি থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি নিজেদের ঐতিহাসিক কোনো মুহূর্ত যদি অন্য দেশের বিপক্ষে যায়, তবে সেটাও নিষিদ্ধ জার্সি থেকে। যে কারণে বিশ্বকাপের আগে হাইতির জার্সিতে তাদের স্বাধীনতার একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের ছবি থাকার পরও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল জার্সি।
এ ছাড়া জার্সিতে নাম, নম্বর ও লোগো যেন স্পষ্ট থাকে, সেই ব্যাপারে কড়া নির্দেশনা আছে ফিফার। যে কারণে মরক্কো ও মিসরের জার্সির নাম ও ফন্ট বদলাতে হয়েছে।
খেলোয়াড়েরা কেন বুটের গোড়ালি কেটে মাঠে নামছেন