দূরপাল্লার মিসাইল ছুঁড়ে স্পেনের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন এনজো
· Prothom Alo

দূরপাল্লার মিসাইল ও ‘টোপো গিগিও’। এনজো ফার্নান্দেজ একের ভেতরে এই দুই। তবে আরও আছে। স্পেনের জন্য যার সবকিছুই ভয়ের কারণ।
Visit betsport24.es for more information.
ফার্নান্দেজকে নিয়ে মিসাইলের ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই দিতে হবে না। ২০২২ বিশ্বকাপেই সেটা দেখেছে বিশ্ব। সেই স্মৃতি ভুলে গেলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন ইংলিশ সমর্থকদের। সেমিফাইনালে ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার গোলটি তাঁদের মনে এখনো শেল হয়ে বিঁধে আছে।
স্পেনের ভয় শুধু ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার ‘মিসাইলে’ নয়। ম্যাচে হুটহাট দূরপাল্লার শটে গোল করাটা যদি চেলসির এই মিডফিল্ডারের ইউরোপিয়ান ধাঁচ হয়, তাহলে লাতিন শিকড়টা লুকিয়ে হৃদয়ে। যেটা সম্ভবত শুধু আকাশি–সাদা জার্সি পরলেই গনগনে সূর্যের মতো বেরিয়ে আসে। দুই দলের মিডফিল্ডারের মধ্যে ফার্নান্দেজই দৌড়েছেন সবচেয়ে বেশি। কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরতে হয় চার বছর আগে কাতারে।
সেবার আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হয়েছিলেন ফার্নান্দেজ। চার বছর পর সেই ফার্নান্দেজ এখন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডের ‘জেনারেল।’ দায়িত্ব বেশি বলে ছোটাছুটিও বেশি। প্রতিপক্ষ বক্সের আশপাশে একটু ফাঁকা জায়গা পেলেই শুধু পায়ের ‘আরপি রকেট লঞ্চারটি’ খোলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন এমন চারটি দূরপাল্লার শটের একটিতে সমতাসূচক গোল পেয়েছে আর্জেন্টিনা। স্পেনের সম্ভাব্য ভয়ের জায়গাও ঠিক এখানেই।
এনজোর সঙ্গে গোল উদ্যাপনে মেসিফার্নান্দেজ সব সময় গোল করেন না। কিন্তু তাঁর গোলগুলো ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে। শেষ ষোলোয় মিসরের বিপক্ষে যেমন ৯৩ মিনিটের জয়সূচক গোলটি। কিংবা সর্বশেষ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৮৭ মিনিটের গোল। আর্জেন্টিনা দলে এমনিতে গোল করার লোকের অভাব নেই। কিন্তু সবাই যখন ব্যর্থ, ফার্নান্দেজের সেরাটা যেন তখনই বেরিয়ে আসে!
ফার্নান্দেজের খেলাটা মাঠে এমনিতে সেভাবে টের না পাওয়া গেলেও চোখ আটকে যায় তাঁর পরিসংখ্যানে। আর্জেন্টিনা দলের চার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, ম্যাক আলিস্টার, রদ্রিগো দি পল ও ফার্নান্দেজ। এই চারজনের মধ্যে গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে গোলের হার (০.৩২), শট (১.৯), সুযোগ তৈরি (০.৬), লাইন ব্রেকিং (১০) পাসে এগিয়ে ফার্নান্দেজ। যদি রক্ষণে তাকানো যায়—প্রতি ৯০ মিনিটে ৪.৩টি করে বল দখল ও ১.৬টি করে ট্যাকল করেছেন। দৌড়েছেন ১০.৭ কিলোমিটার—যেটা দুই দল মিলিয়ে শুধু মার্ক কুকুরেয়াই তাঁর চেয়ে এগিয়ে।
পুতুলনাচের অদৃশ্য জাদুকর: স্পেনের আসল ‘কলকাঠি’ নাড়েন যিনিতবে আসল ব্যাপার অন্যখানে। ফার্নান্দেজ যেন অনেকটাই আশি–নব্বই দশকে তৈরি জাপানি মোটরসাইকেলের মতো। লোকমুখে একটি প্রচলিত কথা হলো, যত চালানো যায় এর ইঞ্জিন ততই ভালো বা শক্তিশালী হয়।
বিশ্বকাপের শুরুতে ফার্নান্দেজকে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনা যত ম্যাচ খেলেছে, ফার্নান্দেজও যেন ততই মিডফিল্ডে পেখম মেলে ধরেছেন। সেটা করতে করতে সর্বশেষ ইংল্যান্ড ম্যাচে দেখা গেল, দুই দল মিলিয়ে তাঁর চেয়ে বেশি বল স্পর্শ (১০৪) করতে পারেননি কেউ। সফল পাসের হারও ৯৮%!
যেভাবে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজইংল্যান্ড ম্যাচের পরই ফার্নান্দেজ বলেছিলেন, ‘আগের ম্যাচগুলোয় আমি ঠিক স্বস্তিতে ছিলাম না। গোল করা ছাড়াও খেলতে ভালো লেগেছে। দেখা যাক রোববার কী হয়!’
দেখতে দেখতে সেই দিনটা আজ চলেই এল। আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা নিশ্চয়ই খুব করে চাইছেন, ফার্নান্দেজ আজকে রাতেও গোল করে ‘টোপো গিগিও’র মতো উদ্যাপন করবেন। সেই যে ইংল্যান্ড ম্যাচে গোল করে ইংলিশ সমর্থকদের গ্যালারির সামনে গিয়ে হাত দুটো কানের ওপর তুলে সরু মুখ ও ঠোঁটে করা উদ্যাপনটি।
১৯৫৮ সালে ইতালিয়ান পাপেট শো ‘টোপো গিগিও’র মুখের আদলে করা এই উদ্যাপন ২০০১ সালে বোকা জুনিয়র্সে করেছিলেন হুয়ান রিকেলমে। পরে মেসিও সর্বশেষ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডাচদের বিপক্ষে একইভাবে জয় উদ্যাপন করেন। ফার্নান্দেজ সেটা ফাইনালেও টেনে নিতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মেসির রেকর্ড ভেঙে মেসিকেই উসকে দিলেন এমবাপ্পে