জিদান, এমবাপ্পেসহ দলবদলে যে ৫ ফুটবলারকে হারিয়ে আফসোস করেছে ক্লাবগুলো

· Prothom Alo


বিশ্বকাপ শেষ, ক্লাব ফুটবলও শুরু হয়নি। ফুটবল অনুরাগীদের এখন খোরাক বলতে শুধু দলবদলের বাজারের নানা খবর। ইউরোপের সব বড় ক্লাবই ব্যস্ত নিজেদের দল গোছাতে। সবাই চায়, কম দামে ভালো খেলোয়াড় পেতে। কেউ কেউ সুযোগ পেয়েও এমন রত্নদের হারিয়েছে হেলায়, যা পরবর্তী সময় বাড়িয়েছে দলগুলোর আক্ষেপও।

Visit casino-promo.biz for more information.

মিলানের হয়ে কাকা


২০০৯ সালের জানুয়ারি। সদ্য পেট্রোডলারে স্ফীত ম্যানচেস্টার সিটি ১০৮ মিলিয়ন পাউন্ডের তাক লাগানো এক প্রস্তাব দিল এসি মিলান থেকে কাকার জন্য, যা তৎকালীন বিশ্ব রেকর্ডের দ্বিগুণের বেশি। এক সিটি সমর্থক তো এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে বুকে খোদাই করিয়ে ফেলেছিলেন কাকার নাম। কিন্তু ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী কাকা শেষমেশ বললেন, সময়টা ঠিক নয়। ৬ মাস পর অবশ্য ৫৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশ্ব রেকর্ড গড়েই রিয়াল মাদ্রিদে গেলেন কাকা। স্প্যানিশ কাপ, লা লিগা জিতে আবার ফিরলেন মিলানে। এরপর তিন বছর কাটালেন এমএলএসের অরল্যান্ডো সিটিতে, শেষটা করলেন জন্মভূমির সাও পাওলোতে।

সাবেক বার্সেলোনা ও ব্রাজিল ফুটবলার রিভালদো


২০০৪ সালে ইংলিশ ক্লাব বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের চোখেও ছিল ইউরোপের স্বপ্ন। ক্লাবের ম্যানেজার স্যাম অ্যালারডাইস চাইলেন বড় দাঁও মারতে। তাঁর লক্ষ্য ৩২ বছর বয়সী ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী রিভালদো, যিনি তখন এসি মিলানে কোণঠাসা। রিভালদো নিজেই বলেছিলেন, বোল্টনকে প্রথমবার ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জটা তিনি নিতে চান। শেষ মুহূর্তে মন বদলে গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসে চলে গেলেন রিভালদো। অথচ সেই মৌসুমেই বোল্টন লিভারপুলের সমান পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ হয়ে উয়েফা কাপে জায়গা করে নিয়েছিল, পৌঁছেছিল শেষ বত্রিশে।


১৯৯৫ সালে প্রিমিয়ার লিগ জয়ী ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স প্রত্যাখ্যান করেছিল বোর্দোর তরুণ মিডফিল্ডার জিনেদিন জিদানকে। ক্লাবের কোচিং স্টাফ মালিক জ্যাক ওয়াকারকে অনুরোধ করেছিলেন জিদান আর ক্রিস্তফ দুগারিকে কেনার জন্য। ওয়াকারের জবাব ইতিহাসে চিরস্মরণীয়—‘টিম শেরউড থাকতে জিদান কেন লাগবে?’ জিদান-দুগারি তখন ইংল্যান্ডে গিয়ে কথাও বলে এসেছিলেন ক্লাবের সঙ্গে, কিন্তু চুক্তি হয়নি। তিন বছর পর জিদান বিশ্বকাপ জিতলেন ফ্রান্সের হয়ে, দুই বছর পর ইউরো। ব্ল্যাকবার্ন কী রত্ন হারিয়েছে, সেটা তারা নিশ্চয় বুঝেছে!

২০০৫ সাল। এসি মিলানের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কিছুদিন পরই লিভারপুল সমর্থকদের মন ভেঙে দিয়ে স্টিভেন জেরার্ড জানিয়ে দিলেন, তিনি ক্লাব ছাড়তে চান। জোসে মরিনিওর চেলসি আগ্রহী ছিল ৩২ মিলিয়ন পাউন্ডে তাঁকে কিনতে।

স্টিভেন জেরার্ড

কিন্তু ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত থেকে গেলেন জেরার্ড, লিভারপুলের হয়ে খেললেন ৭০০–এর বেশি ম্যাচ, নিয়ে গেলেন ২০০৭ সালের ফাইনালে—যদিও সেবার প্রতিশোধ নিয়েছিল মিলানই। ১০ বছর পর মরিনিও নিজেই স্বীকার করেছিলেন, জেরার্ডকে না পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপগুলোর একটি।


২০১৭ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পে তখনো মোনাকোয়, লিভারপুলও আগ্রহী হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। এমবাপ্পে নিজেই বলেছেন, তার মায়ের প্রিয় ক্লাব লিভারপুল বলে তিনিও আগ্রহী ছিলেন। ইয়ুর্গেন ক্লপ পরে জানিয়েছিলেন, এমবাপ্পে ও তাঁর পরিবারের জন্য প্রাইভেট জেট আর খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে গেলেন পিএসজিতে। বাকিটা এরপর ইতিহাস!


২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ে ছিল ফুলহাম। রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে আঁতোয়া গ্রিজমানের জন্য ১২ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়ে চেয়েছিল। শেষমেশ গ্রিজমানকে সেই টাকায় না কিনে তারা কিনল অলিম্পিয়াকোসের কস্তাস মিত্রোগলুকে, যিনি মাত্র তিন ম্যাচ খেলে কোনো গোল ছাড়াই দেখলেন দলের অবনমন। আর গ্রিজমান? স্পেনেই থেকে গেলেন—জিতলেন একের পর এক শিরোপা।


এই গল্পগুলো একসূত্রে বাঁধা এক সত্য—ফুটবল কখনো নিশ্চয়তার খেলা নয়। একটি মুহূর্তের সিদ্ধান্তে বদলে যায় ইতিহাসের গতিপথ। কারও জন্য সেই অসমাপ্ত অধ্যায় হয়ে ওঠে আক্ষেপের নাম, কারও জন্য নিয়তির অন্য এক দরজা।

Read full story at source