আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের তিন পদক

· Prothom Alo

আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ তিন পদক অর্জন করেছে। সবগুলোই ব্রোঞ্জপদক। এই অলিম্পিয়াডের পর্দা ওঠে ২ আগস্ট কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায়। ৭ আগস্ট সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার সম্মিলিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ১০৭ দেশের ৪৩৭ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নেয়।

Visit playerbros.org for more information.

বাংলাদেশের হয়ে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। দলের সঙ্গে চতুর্থ সদস্য হিসেবে ছিল মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির অনন্য যারিফ আকন্দ।

এ দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন।

আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী তিন শিক্ষার্থী

২ আগস্ট এই আসরের পর্দা ওঠার পর ৪ ও ৬ আগস্ট দুটি একক মেশিন লার্নিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিযোগীদের প্রতিদিন ছয় ঘণ্টায় তিনটি করে সমস্যার সমাধান করতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা মিলে দলগত বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশ নেয়।

১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের নিবন্ধন শুরু

প্রতিযোগিতা শেষে বাংলাদেশ দলের দলনেতা বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ‘এই আয়োজনের প্রথম আসর বুলগেরিয়াতে আমরা কোনো পদক পাইনি। গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আসরে আমরা দুটি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছিলাম। এবারে কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত আসরে আমরা তিনটি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছি। প্রতিনিয়ত আমাদের টিম উন্নতি করছে। দলের এই অর্জনে আমি খুব খুশি। তবে আমাদের আরও উন্নতি করার সুযোগ আছে। শিক্ষার্থীদের আরও পরিশ্রম করতে হবে, সঙ্গে তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সুযোগ সুবিধা আরও বাড়াতে হবে।’

আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দল এবং দলনেতা অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন

পদকজয়ী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ তার অনুভূতি ব্যাক্ত করে জানায়, ‘আমার জন্য একটি মেডেল জেতা মানে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেওয়া। যারা আমাদের পর বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করবে, তারা যেন আমাদের থেকে অনুপ্রেরনা পায়, এটিই ছিল আমার মূল লক্ষ্য। আমি আশা করি বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্ম এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখবে, যেমন রেখেছিল আমাদের পূর্ববর্তী অংশগ্রহণকারীরা, যেমন রেখেছি আমরা।’

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সরাসরি এবং রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বাকি অঞ্চলের জন্য আরও তিনটি অনলাইন ভেন্যুতে মে মাসে আয়োজিত হয় আঞ্চলিক পর্ব। ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এআই চ্যালেঞ্জের সবগুলো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় কাগল প্ল্যাটফর্মে। এরপর ২০–২৩ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পের মূল্যায়নের পর এপিওএআইয়ের জন্য আট জন এবং আইওএআইয়ের জন্য চার জনের জাতীয় দল চূড়ান্ত করা হয়।

প্রায় ২ মাস বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের তত্ত্বাবধানে তাদেরকে অনলাইনে মেন্টরিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এবারে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে ছিলেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সিআইএস ডিপার্টমেন্টের এসোসিয়েট প্রফেসর মোহাম্মদ আজম খান। পুরো অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কোঅর্ডিনেটর হিসেবে ছিলেন তাসনিম মাহফুজ নাফিস।

বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজিনেস অ্যান্ড টেকনলজি (বিইউবিটি)। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল রিভ চ্যাট। এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ব্রেইন স্টেশন ২৩, সিলভার স্পন্সর মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ ও ক্রিয়েটিভ আইটি, ব্রোঞ্জ স্পন্সর বিটনা এবং নলেজ পার্টনার হিসেবে সহযোগিতায় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট।

ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল কিশোর আলো এবং বিজ্ঞানচিন্তা। আয়োজনের টিভি পার্টনার হিসেবে ছিল দীপ্ত টিভি এবং অন্যান্য পার্টনার হিসেবে ছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি, রকমারি ডট কম ও জাদু পিসি।

তোমার রোবটও পৌঁছাতে পারে ভিয়েনায়

Read full story at source