কেব্ল কারে মাত্র ৮ মিনিটেই চলে যেতে পারবেন যেই দুই দেশে
· Prothom Alo
এক দেশের সীমান্ত থেকে আরেক দেশে কেব্ল কারে যেতে যদি সময় লাগে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট, তাহলে কেমন হবে?
Visit goldparty.lat for more information.
হেইলংজিয়াং নদীর ওপর দিয়েই চলবে রোপওয়ের কেবিনদীর্ঘ সড়কযাত্রা বা ফেরির জন্য অপেক্ষা না করে এবার আকাশপথে কেব্ল কারে চেপে পাড়ি দেওয়া যাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। চীন ও রাশিয়া এমনই একটি রোপওয়ে তৈরি করেছে। এটি চালু হলে উত্তর-পূর্ব চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের হেইহে শহর থেকে নদী পার হয়ে সরাসরি রাশিয়ার ব্লাগোভেশচেনস্ক শহরে যাওয়া যাবে। দুই শহরের মাঝখানে রয়েছে হেইলংজিয়াং নদী। এই নদীর ওপর দিয়েই চলবে রোপওয়ের কেবিন।
এতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট। এই রোপওয়ে কীভাবে কাজ করবে, একসঙ্গে কতজন যাত্রী বহন করতে পারবে এবং এটি চালু হলে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, চলুন সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।
‘মুসাফির ক্যাফে’র অন্দরটা দেখুন, চাইলে আপনিও থাকতে পারবেন এখানেএপারে চীন, ওপারে রাশিয়া
চীনের হেইহে ও রাশিয়ার ব্লাগোভেশচেনস্ক—দুটি শহরই হেইলুংচিয়াং নদীর দুই তীরে অবস্থিত। নদীর এক তীরে চীন, অন্য তীরে রাশিয়া। তাই এই নদীই দুই দেশের সীমান্ত হিসেবে কাজ করছে। তবে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই শহরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
এই যোগাযোগকে আরও সহজ করতে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় যাত্রীবাহী আন্তসীমান্ত রোপওয়ের নির্মাণকাজ। চীন (হেইলুংচিয়াং) পাইলট ফ্রি ট্রেড জোনের হেইহে অংশের ব্যবস্থাপনা কমিটির উপপরিচালক ঝাং ছিজুন জানিয়েছেন, পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হবে।
প্রকল্পটির চীনা অংশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেইহে-ভিত্তিক জিনলংগাং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছাও সিনহং জানান, রোপওয়ে চালু হলে নদী পেরিয়ে দুই সীমান্ত শহরের মধ্যে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট।
রোপওয়ে চালু হলে নদী পেরিয়ে দুই সীমান্ত শহরের মধ্যে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিট৯৭০ মিটার নদীর ওপর দুই কেবিন
রোপওয়েটি নদীর ওপর দিয়ে ৯৭০ মিটার পথ যাবে। এতে থাকবে দুটি কেবিন। প্রতিটি কেবিনে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১১০ জন যাত্রী যেতে পারবেন। রোপওয়েটি সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ১২ মিটার গতিতে চলবে।
বছরে এক পথ দিয়ে ২৬ লাখ যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে। অর্থাৎ এটি শুধু দুই শহরের মধ্যে দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম নয়, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্যও তৈরি করা হচ্ছে।
সেতু-ফেরির পর এবার রোপওয়ে
হেইহে ও ব্লাগোভেশচেনস্কের মধ্যে যোগাযোগের জন্য রোপওয়েই প্রথম নতুন ব্যবস্থা নয়। ২০২২ সালে দুই শহরের মধ্যে একটি মহাসড়ক সেতু চালু হয়। এটি ছিল চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নির্মিত প্রথম মহাসড়ক সেতু।
রোপওয়ে চালু হলে হেইহেতে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের তিনটি ব্যবস্থা থাকবে—মহাসড়ক সেতু, ফেরি ও রোপওয়ে। ঝাং ছিজুন বলেন, তিন ধরনের পরিবহনব্যবস্থা একসঙ্গে চালু থাকলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পর্যটন, বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন বাড়বে।
বাড়ছে সীমান্ত পারাপার
চীন ও রাশিয়ার মধ্যে মানুষের সীমান্ত পারাপারও বাড়ছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এবং দুই দেশের ভিসামুক্ত যাতায়াত চালুর কারণে এ সংখ্যা বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে হেইহে বন্দর দিয়ে ৫ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬০ শতাংশের বেশি।
সূত্র: সিনহুয়া
ভ্রমণের নতুন ট্রেন্ড স্লিপ ট্যুরিজম কী, কেন জনপ্রিয় হচ্ছে