২৫ মিনিটে নাজমুলকে কী বললেন মাইক হাসি

· Prothom Alo

প্যাট কামিন্সের সংবাদ সম্মেলন সেই কখন শেষ! তবু নাজমুল হোসেনের আসার কোনো নামগন্ধ নেই। ওদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া কর্মীদের বাড়ি যাওয়ার তাড়া। এই দেশে নিয়ম হলো দিন শেষের খেলার পর সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা প্রেসবক্স খোলা থাকবে। এরপর লাইট-এসি-দরজা বন্ধ।

তার আগে বন্ধ করতে হবে প্রেস কনফারেন্স রুমও। কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলন না করে যে সেটা করা যাচ্ছে না!

Visit esporist.org for more information.

দূর থেকে দেখা গেল নাজমুল ড্রেসিংরুমের সামনে ডাগআউটে বসে কোট-প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছেন। একটু দূরে দাঁড়ানো দলের মিডিয়া ম্যানেজার। বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি, ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে প্রেস কনফারেন্সে আসার পথেই নাজমুল কারও সঙ্গে জরুরি কথা বলতে থেমেছেন।

এদিকে জল্পনাকল্পনা, তিনি নিশ্চয়ই অস্ট্রেলিয়ার কোনো রেডিওকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। নাকি সিরিজ সম্প্রচারকদের কোনো আবদার মেটাচ্ছেন! কিন্তু সে রকম হলে তো ক্যামেরাম্যানও থাকত সেখানে। তা তো দেখা যাচ্ছে না! ব্যাপারটা তাহলে কী?

এই কৌতূহলের মধ্যেই কথা শেষ করে এসে সংবাদ সম্মেলন করে গেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। আসার পথে কার সঙ্গে কথা বলেছেন, সে নিয়ে অবশ্য কোনো আলোচনা হয়নি সংবাদ সম্মেলনে। তবে তার আগেই খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নাজমুল যাঁর সঙ্গে কথা বলে এসেছেন, তিনি মাইক হাসি।

তাঁদের লম্বা কথপোকথনের উদ্যোগটা নাজমুলের দিক থেকেই নেওয়া। পরে এ নিয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে নাজমুল জানিয়েছেন, ‘হাসি তো এখানে ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মাঠে দেখা হতো প্রতিদিন, আজ খেলা শেষে তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম, একটু কথা বলতে চাই। তারপর তিনি আমাকে ২৫ মিনিটের মতো সময় দিলেন।’

তা সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলেছেন তিনি? ‘এটা একদমই ব্যক্তিগত ব্যাপার’ বলে প্রসঙ্গটি এড়িয়েই গেছেন নাজমুল। স্বাভাবিকভাবেই বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি। শুধু বলেছেন, ‘আমার খেলা নিয়েই কথা বলেছি তাঁর সঙ্গে, কীভাবে আরও ভালো ক্রিকেটার হতে পারি, নিজের উন্নতির জন্য কী করতে পারি...তিনি তো দেখলেন খেলা আমার...এসবই। এর বাইরে কিছু নয়।’

অফিশিয়াল সম্প্রচারকারী ছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন এবং রেডিওর বিশেষজ্ঞ হয়ে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মাঠে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অনেক গ্রেট ক্রিকেটারই। মাইক হাসি ছাড়াও মার্ক ওয়াহ, মার্ভ হিউজ, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, জেসন গিলেস্পি, সাইমন ক্যাটিচদের মতো নাম ছিল সেখানে। এত লম্বা তালিকা থেকে নাজমুল কেন হাসিকেই পরামর্শদাতা হিসেবে বেছে নিলেন, সেটি অবশ্য না বোঝার কিছু নেই।

নাজমুল আগেও বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ব্যাটসম্যান ছোটবেলা থেকেই তাঁর অন্যতম আদর্শ। তাঁকে হাতের এত কাছে পেয়ে গেলে কি দরকারি আলোচনা না সেরে থাকা যায়! নাজমুলের কাছে মাইক হাসির অবস্থান কোথায়, সেটা শুনুন তাঁর মুখেই, ‘হাসি আমার অন্যতম ফেবারিট খেলোয়াড়। কয়েকজন ফেবারিট খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনি একজন এবং টপ লিস্টে, একদম ওপরের লিস্টে।’

কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর খেলাটা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ‘মি. ক্রিকেট’ নামে পরিচিত করে তুলেছিল হাসিকে। আর চাপ বলে তো কিছু তাঁর খেলার অভিধানেই ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭৯টি টেস্ট খেলে ৫১.৫২ গড়ে হাসি রান করেছেন ৬২৩৫। টেস্টে সেঞ্চুরিই আছে ১৯টি। ১৮৫ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে রান ৫৪৪২, গড় ৪৮.১৫। টি-টুয়েন্টি খেলেছেন মাত্র ৩৮টি। ৩৭.৯৪ গড়ে এই সংস্করণে হাসির রান ৭২১।

হাসির খেলা নাজমুলের ভালো লাগত মূলত দুটি কারণে—ধারাবাহিকতা আর গোছানো ব্যাটিং। এ ছাড়া যেকোনো কন্ডিশন ও ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে খেলতে পারার গুণটাও বিশেষভাবে টানত নাজমুলকে। সে কারণেই সুযোগ পেলে হাসির সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা ছিল। ম্যাকাই টেস্টের পর মিলে গেল সেই সুযোগটাই। হাসিও হাসিমুখে রাজি হয়ে গেলেন নাজমুলের সঙ্গে বসতে।

ম্যাকাইয়ে দুই দিনে টেস্ট হার এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে একটা দাগ হয়ে থাকবে বাংলাদেশ দলের জন্য। তবে অন্যভাবে যদি চিন্তা করলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার দিনের মধ্যে ৯ উইকেটে টেস্ট জয়, সিরিজ ড্র করা, পেসারদের পারফরম্যান্স-অর্জনের খাতাকে কি যথেষ্ট ভারী করে তুলবে না এসব? তার সঙ্গে নাজমুলের ‘বোনাস’ প্রাপ্তি হয়ে থাকল মাইক হাসির সাক্ষাৎ।

Read full story at source