হরমুজে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের জাহাজের অগ্রাধিকার চায় ঢাকা
· Prothom Alo

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের পণ্য ও কনটেইনার জাহাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ইরানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি এদিন সকালে ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
বাংলাদেশের কিছু জাহাজ এবং জ্বালানি তেলবাহী পরিবহন বর্তমানে আটকা পড়েছে, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বর্তমানে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বের বহু দেশের বাণিজ্য জাহাজই ওই অঞ্চলে আটকা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের মূল স্বার্থ নিয়ে আমরা তেহরানের সঙ্গে স্পষ্ট কথা বলেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি—হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে আমাদের পণ্য ও কনটেইনার জাহাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পায়। যেহেতু ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, আমরা আশা করি ইরান সরকার আমাদের এই অনুরোধটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিবেচনা করবে।’
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর (ডি-এসক্যালেশন) আমাদের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘এটি শুরু থেকেই আমাদের একটি ধারাবাহিক ও স্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান—যাতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত প্রশমিত হয়।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বহু প্রবাসী ভাইবোন অবস্থান করছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আনুমানিক ৮০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। তাঁদের সার্বিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক একটি বিষয়। কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সব পক্ষকেই জোর আহ্বান জানানো হয়েছে—তারা যেন আলোচনায় বসে এবং অত্যন্ত শান্ত ও কূটনৈতিক উপায়ে এই সংঘাত সমাধান করে একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
যুদ্ধের মধ্যে তেহরানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইরান সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এর পাশাপাশি কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। যেমন সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের অধীন নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক জোটে বাংলাদেশের যে সম্পৃক্ততা রয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে সমুদ্রপথের সুরক্ষায় বাংলাদেশ বহু বছর ধরে তাদের পাশে থেকে কাজ করছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই পদক্ষেপ আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ, সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদের রক্ষক (কাস্টোডিয়ান)। তাই সেখানে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ইরানও আমাদের অবস্থানটি খুব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও যেভাবে বলেছি—এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা, আগ্রাসন বা সামরিক পদক্ষেপে বাংলাদেশের কোনো সমর্থন, সম্পৃক্ততা কিংবা আহ্বান নেই। হুতিদের সৃষ্ট নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই মূলত সৌদি আরবকে আমরা সহায়তামূলক উদ্যোগ দিয়ে যাচ্ছি এবং তারা যেন সেই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারে, আমরা শুধু সেই চেষ্টাই করছি।’
বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে ইরানের কোনো আপত্তি নেই। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার বিষয়টি বা সেখানে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, তা তারা ইচ্ছা করে করছে না। বরং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মুক্ত ও উন্মুক্ত রাখা কেবল একটি নির্দিষ্ট পক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। এই অঞ্চলে বিরাজমান সংঘাতের সঙ্গে বেশ কিছু জটিল বিষয় জড়িয়ে রয়েছে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একাধিক পক্ষ এতে সম্পৃক্ত।
‘তাই বিষয়টি এমন নয় যে কেবল একটি দেশকে পৃথক বা বিচ্ছিন্ন করে সম্পূর্ণ দায় চাপিয়ে দেওয়া যাবে—যে এককভাবে কেউ এটি খোলা রাখা বা বন্ধ রাখার ক্ষমতা রাখে। তাই আমরা বারবার কূটনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছি, যাতে ডি-এসক্যালেশন কাঠামোর আওতায় সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যার একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধান বের করা যায়,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মক্কা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত