নিলয়-হিমির ভিন্ন গল্প
· Prothom Alo
কখনো গৃহকর্মী হয়ে মালিকের মেয়ের সঙ্গে প্রেম, কখনো বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী হয়ে ভাড়াটের প্রেম, কখনো ঝগড়াটে স্বামী–স্ত্রী, আবার চেয়ারম্যান হয়ে প্রেমিকার মুখোমুখি—এমন নানা কমেডি ও রোমান্টিক চরিত্রে আলোচিত হয়েছেন নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। ছোট পর্দার সেই আলোচিত জুটিকে এবার কমেডি ও রোমান্টিক ধারার বাইরে ভিন্ন গল্পে দেখা যাবে। ‘পরানের পরান’ নাটকে বিয়ের পর নৌকা থেকে এক কনেকে উঠিয়ে নিয়ে যায় ডাকাত দল। সেই ডাকাত দলের এক সদস্য ও নববধূকে ঘিরে গল্প। এটি পরিচালনা করছেন রিয়াদ আশরাফ।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
নিলয় জানান, তাঁদের বেশির ভাগ নাটকের শুটিং ঢাকা, গাজীপুরের পুবাইল ও ঢাকার আশপাশেই হয়। তবে এবার নাটকের গল্পের প্রয়োজনে ছুটেছিলেন ভোলা জেলার চর কুকরি–মুকরি। সেখানেই পাঁচ দিন টানা শুটিং হয়েছে। পুরো রোদের মধ্যে শুটিং করতে হয়েছে। ছিল না কোনো মেকআপ রুম বা বিশ্রামের জন্য কোনো ব্যবস্থা।
নিলয় আলমগীরগত শনিবার প্রথম আলোকে নিলয় বলেন, ‘বাংলাদেশের একদম শেষ প্রান্তে, সাগরের পাড়ে জেগে ওঠা চরে শুটিং করেছি। ভোলা শহর থেকেও অনেক দূরে। আমাদের যাওয়া–আসার পথটাই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। আবার গল্পের জন্য একদম নিরিবিলি জায়গা দরকার ছিল। গল্পটি দেখে দর্শক ভিন্ন রকম বিনোদন পাবেন।’
চরে শুটিং নিয়ে হিমি বললেন, ‘ঢাকার বাইরে বরিশালসহ অনেক জায়গায় আমি ও নিলয় ভাইয়া শুটিং করেছি। সুন্দরভাবে সব শুটিং শেষ হয়েছে। কিন্তু এবার শুটিংয়ে গিয়ে মনে হয়েছে, কোনোমতে জীবন নিয়ে ফিরেছি, এতটাই ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে বঙ্গোপসাগরের দ্বীপের মাঝে কাজ করেছি। ঠিকমতো ঘুম নেই, খাওয়া নেই। টানা পাঁচ দিন রোদে পুড়ে শেষ। শুটিং করতে গিয়ে এবার গায়ের রংই পরিবর্তিত হয়ে গেছে।’
জান্নাতুল সুমাইয়া হিমিলোকেশন শুনেই কপালে ভাঁজ
লোকেশনে যেতে হবে ট্রলার, স্পিডবোট অথবা লঞ্চে, শুনেই নিলয় ও হিমির কপালে ভাঁজ পড়েছিল। নিলয় সাঁতার জানলেও হিমি জানেন না। প্রতিদিন চর কুকরি–মুকরিতে শুটিংয়ে যেতে হয়েছে। নিলয় ভয় না পেলেও হিমির কাছে এই যাত্রা ছিল আতঙ্কের নাম। তিনি বলেন, ‘স্পিডবোটে উঠে সবার আগে লাইফ জ্যাকেট পরে নিতাম। আর সবাইকে বলতাম, কিছু হলে যেন আমাকে রক্ষা করে। সবাই জানত আমি সাঁতার জানি না। ঢাকার বাইরে শুটিং হলে আম্মু সঙ্গে যায়। এবারও আম্মু সঙ্গে ছিল। ভাবতাম, কোনো সমস্যা হলে আর যা–ই হোক, আম্মু তো আমাকে খুঁজবেই। এমন ভাবনার মধ্য দিয়ে সমুদ্র পার হয়ে শুটিং লোকেশনে যেতে হতো। শুকরিয়া আমরা ভালোভাবে শুটিং করে ফিরতে পেরেছি।’
মেকআপ ছাড়া শুটিং
চরিত্রের প্রয়োজনে শুধু হিমিই নন, নিলয়েরও খুব একটা মেকআপ নিতে হয়নি। তিনি জানান, টানা পাঁচ দিন চরের মধ্যে শুটিং করতে করতে রোদে পুড়ে চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন ডাকাত দলের লোক। এই অভিনেতা জানালেন, কোনো চরিত্রের জন্য আগে কখনোই এমন কষ্ট করতে হয়নি। নিলয় বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এই শুটিংয়ে সবাই যে পরিমাণ কষ্ট করেছে, সাধারণত শুটিংয়ে এত কষ্ট হয় না।’
জুটির বয়স ১০
দেখতে দেখতে নিলয়–হিমি জুটির বয়স হয়ে গেল ১০ বছর। সেটা নিয়েও নাকি শুটিংয়ে বেশ মজা হয়েছে, বললেন হিমি, ‘আমি আর নিলয় ভাই অনেক দিন ধরেই কাজ করছি। ঘটনাক্রমে এবার আমাদের জুটির বয়স নিয়েই ভাবছিলাম। কারণ, আমাদের প্রথম নাটকে যে ছেলেটা সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিল, সে আমাদের নিয়ে নাটক নির্মাণ করছে। এটা নিয়ে নিলয় ভাইয়ের সঙ্গে বেশ মজা হলো। তখন আমি কত ছোট ছিলাম। সময়টা মনে হয় সেদিন। অথচ ১০ বছর। তখন আমি কলেজ থেকে কলেজের ড্রেস পরে শুটিং ইউনিটে চলে যেতাম। সেই দিনগুলোতে আমরা জুটি হিসেবে একটু একটু করে তৈরি হয়েছি। যে কারণেই হয়তো দর্শকদের এত ভালোবাসা পাই। এ জন্য নিলয় ভাইয়ের কাছেও কৃতজ্ঞতা। তিনি সব সময় সহায়তা করেন।’
সর্বাধিক দেখা নাটকের জুটি
সেই সময় নিলয় নিয়মিত কাজ করলেও হিমি ছিলেন একেবারেই নতুন। নিলয় জানান, তাঁদের জুটির প্রথম নাটক ‘জলে ভেজা রং’। তবে ‘বন্ধুর বউ’ নাটক দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন তাঁরা। পরে একে একে ‘গরিব’, ‘সংসার আমার ভাল্লাগে না’, ‘ব্রেকআপ কোনো ব্যাপার না’, ‘ভুতুড়ে প্রেম’, ‘হবু ঘরজামাই’, ‘বিপদে পড়ে বিয়ে’সহ অনেক নাটক দর্শকপ্রিয়তা পায়। ভক্তদের কাছে তাঁরা হয়ে যান জনপ্রিয় জুটি। বর্তমানে তাঁদের জুটির ‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’ নাটকটি ইউটিউবে সর্বাধিকবার দেখা বাংলা নাটক। শুধু এটিই নয়, ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি দেখা ১০ নাটকের ৫টিরই জুটি নিলয়–হিমি।