যে সিনেমায় কার্টুন আর বাস্তব চরিত্র একসঙ্গে
· Prothom Alo

আমরা হয়তো ‘কয়োটি ভার্সাস অ্যাকমি’ মুভিটি দেখতেই পেতাম না। এমনটা হলে সেটা বেশ দুঃখের বিষয় হতো। প্রায় এক শ বছর ধরে ‘লুনি টিউনস’ কার্টুনের মালিকানা আছে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের কাছে। তারা ২০২৩ সালে জানায়, এই মুভি সিনেমা হলে মুক্তি পাবে না। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর ইন্টারনেটে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ‘কেচাপ এন্টারটেইনমেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মুভিটি বড় পর্দায় আনার দায়িত্ব নেয়। তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলেই দর্শকেরা এমন দারুণ ও মজার একটি মুভি দেখার সুযোগ পেল।
Visit h-doctor.club for more information.
মুভির মুক্তি নিয়ে এত ঝামেলার কারণে মজা করে ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে বেশ কিছু খোঁচা দিয়েছে কেচাপ এন্টারটেইনমেন্ট। মুভিটির শুরুতেই পর্দায় লেখা ওঠে, ওয়ার্নার অ্যানিমেশন গ্রুপ আসলে ‘অ্যাকমি করপোরেশন’–এরই একটি শাখা কোম্পানি।
অ্যাকমি করপোরেশন হলো লুনি টিউনস–জগতের সেই রহস্যময় কাল্পনিক কোম্পানি, যারা অদ্ভুত সব জিনিস বানিয়ে থাকে। ১৯৪৯ সালে রোড রানার কার্টুনে ওয়াইলি ই কয়োটি প্রথমবার এই কোম্পানির তৈরি রকেট লাগানো রোলার স্কেট, ত্রুটিপূর্ণ বিস্ফোরক ও রকেটচালিত পোগো স্টিক ব্যবহার করে। অ্যাকমির তৈরি এসব বাজে জিনিস ব্যবহার করতে গিয়ে বেচারা কয়োটি প্রতিবারই নিজে বড় বিপদে পড়েছে। আসলে অ্যাকমি এমন এক নির্দয় কোম্পানি, যাদের তৈরি কোনো পণ্যই ঠিকমতো কাজ করে না। আর তারা নিজেদের দোষও কখনো স্বীকার করতে চায় না।
বিড়ালপ্রেমীদের যে ৭ মুভি দেখা উচিতএটিই মুভিটির মূল কাহিনি। ১৯৯০ সালে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় কলামের ওপর ভিত্তি করে মুভিটি তৈরি করা হয়েছে। সত্য চরিত্র আর কার্টুন অ্যানিমেশনের দারুণ এক সংমিশ্রণ এই মুভি। এখানে ফুটিয়ে তোলা গল্পটিতে দেখা যায়, অ্যাকমি কোম্পানির বাজে জিনিসের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াইলি ই কয়োটি। নিজের পক্ষে লড়াই করার জন্য সে কেভিন অ্যাভেরি নামের সাধারণ এক উকিলকে নিয়োগ দেয়।
অ্যাভেরি আলবুকার্কির এক ছোট আইনি ফার্মের অংশীদার। মজার ব্যাপার হলো, এই আইনি ফার্মটির নাম রাখা হয়েছে ‘লুনি টিউনস’ কার্টুনের মূল তিন স্রষ্টা টেক অ্যাভেরি, চাক জোন্স ও মাইকেল মাল্টিজের নামে। উকিল অ্যাভেরির অবস্থা এতটাই খারাপ যে শুরুতে সে এই জটিল মামলা লড়তেই চায়নি। কিন্তু তার মেধা ও সাহসী ইন্টার্নের বুদ্ধিতে সে শেষ পর্যন্ত আদালতে যেতে রাজি হয়। আদালতে তাদের মুখোমুখি দাঁড়ায় অ্যাকমি কোম্পানির ধনী আইনজীবী বাডি ক্রেন, যাকে নিয়ে কোর্টে লড়াই করা মোটেও সহজ নয়।
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে দেখে নিতে পারো সেরা ৫ মুভিএকনজরে
মুভির নাম: কয়োটি ভার্সাস অ্যাকমি (Coyote vs. Acme)
পরিচালক: ডেভ গ্রিন
লেখক: স্যামি বার্চ, জেমস গান, জেরেমি স্লেটার, ইয়ান ফ্রেজিয়ার
তারকা চরিত্র: উইল ফোর্ট, লানা কন্ডর, জন সিনা, টোন বেল, মার্থা কেলি
রেটিং: ৭.৬
দৈর্ঘ্য: ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট
ধরন: অ্যানিমেশন, অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, পারিবারিক, ফ্যান্টাসি
পুরো মুভিতে লুনি টিউনসের নানা জনপ্রিয় চরিত্র বাগস বানি, টুইটি, ড্যাফি ডাক কিংবা এলমার ফাডকে হুটহাট হাজির হতে দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই কার্টুনটির মূল ধাঁচ বজায় রেখে গল্পে নানান বিদঘুটে ও মজার সব কাণ্ড ঘটেছে। তবে এই হাসির মধ্যে এখানে দেখানো হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী আমেরিকার করপোরেট–সংস্কৃতি ও সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার অভাব।
ডেভ গ্রিন পরিচালিত এই মুভির স্ক্রিপ্টটি বেশ দারুণভাবে সাজানো। এটি তৈরি করেছেন স্যামি বার্চ, জেরেমি স্লেটার ও জেমস গান। মুভিটি দেখলেই বোঝা যায়, ‘লুনি টিউনস’ কার্টুন সবার কত প্রিয়। তবে পুরোনো গল্পকে শুধু সস্তা না করে, তারা এতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মুভিতে বারবার সিসিফাসের সেই গ্রিক রূপকথার অভিশাপের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। রূপকথার সেই চরিত্র যেমন এক বিশাল পাথর পাহাড়ের চূড়ায় তোলার চেষ্টা করে, আর পাথরটি গড়িয়ে নিচে পড়ে যায়। কয়োটির অবস্থাও ঠিক তা–ই। মুভির একদম শেষে নির্মাতারা সেসব দর্শককে ধন্যবাদ জানিয়েছে, যাদের জন্য মুভিটা মুক্তি পেল।
মার্ভেলের নতুন মুভি স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে