আলাওল হলের প্রাধ্যক্ষকে ভেতরে রেখে কক্ষে তালা, অবাঞ্ছিত ঘোষণা হল সংসদের
· Prothom Alo

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে তাঁর কক্ষ ও হল অফিসে তালা দেন হল সংসদের নেতা ও শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে তালা দেওয়ার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা প্রাধ্যক্ষ তাঁর কক্ষেই অবস্থান করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়। এরপর প্রক্টরের গাড়িতে হল থেকে বের হয়ে যান প্রাধ্যক্ষ।
হল সংসদের নেতারা বলেন, হলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়া, আবাসনসহ বিভিন্ন সংকটের সমাধান না করা এবং শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে প্রাধ্যক্ষের খারাপ আচরণের অভিযোগে তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১৭৮ শিক্ষার্থী ও ৩৭ কর্মকর্তা–কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
Visit playerbros.org for more information.
হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, হলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সংকট সমাধানে প্রাধ্যক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেননি। এ ছাড়া শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত, অপমান ও অপদস্থ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাওল হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জামালুল আকবর চৌধুরী। শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হলে তা সমাধানের চেষ্টা করতাম।’
প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর হলের আবাসনসংকট, ডাইনিং, খেলাধুলা ও সংস্কারকাজে আমি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করায় আমার বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
কক্ষে তালা দেওয়ার বিষয়ে জামালুল আকবর চৌধুরী বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজে হলে আসার পর আমাকে কক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়েছে। কারও অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। অভিযোগের সমাধানের সুযোগ না দিয়ে এভাবে আটকে রাখাকে আমি “মব কালচার” বলে মনে করি। এটি আইনসংগত ও ন্যায়সংগত নয়।’
প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে দেন শিক্ষার্থীরা
বেলা একটার দিকে তালা দেওয়ার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা কক্ষে অবস্থান করেন প্রাধ্যক্ষ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে।
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থী ও হল স্টাফদের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর দুটি দাবিনামা জমা দেওয়া হয়। তারপর প্রশাসন দুই আবাসিক শিক্ষকের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সাধ্যের মধ্যে থাকা তাঁদের সব যৌক্তিক দাবি অতি দ্রুত মেনে নেওয়া হবে। উপাচার্যের এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ ও অফিস কক্ষের তালা খুলে দেন। এর ফলে অবরুদ্ধ প্রাধ্যক্ষ মুক্ত হন।
হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি এখানে এসেছিল। স্যাররা আমাদের বুঝিয়েছেন। আমাদের দাবিগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’