শরীরের কোন কোন স্থানে ছত্রাক বেশি হয়, কারণ ও চিকিৎসা কী
· Prothom Alo

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের নানা সমস্যা বেড়ে যায়। এর মধ্যে দাদ অন্যতম। এটি ডার্মাটোফাইট নামের একধরনের ছত্রাকজনিত ছোঁয়াচে চর্মরোগ। এটি ত্বকে লালচে বা বাদামি রঙের গোলাকার, চাকতির মতো দাগ বা ফুসকুড়ি তৈরি করে। আক্রান্ত স্থানের কিনারা সাধারণত সামান্য উঁচু ও স্পষ্ট থাকে, আর মাঝের অংশ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক বা কম আক্রান্ত দেখা যেতে পারে।
Visit sportbet.reviews for more information.
শরীরের কোন কোন স্থানে ছত্রাক বেশি হয়
ছত্রাক সাধারণত উষ্ণ, আর্দ্র ও ঘামযুক্ত পরিবেশে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই কুঁচকি, ঊরুর ভাঁজ, বগল, স্তনের নিচের অংশ, হাত–পায়ের আঙুলের ফাঁক এবং শরীরের যেকোনো ত্বকের ভাঁজে সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।
কুঁচকির সংক্রমণকে সাধারণভাবে ‘জক ইচ’ এবং পায়ের সংক্রমণকে ‘অ্যাথলেটস ফুট’ বলা হয়। এ ছাড়া শিশুদের মাথার ত্বক ও চুল এবং যেকোনো বয়সে নখেও ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।
কেন হয় ছত্রাকের সংক্রমণ
ছত্রাক সংক্রমণের জন্য পরিবেশগত কারণ গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত ঘাম
দীর্ঘ সময় ভেজা পোশাক পরে থাকা
আঁটসাঁট পোশাক
ত্বকের ভাঁজে আর্দ্রতা ও ঘর্ষণ
অপরিচ্ছন্নতা
এসব কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, পোশাক, জুতা, বিছানার চাদর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী ব্যবহার করলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলেও কিছু ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড ব্যবহারের কারণেও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চামড়ার ব্যাগ ও জুতায় ছত্রাক জন্মে কেন, কীভাবে দূর করবেনউপসর্গ কেমন
ছত্রাক সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উপসর্গ চুলকানি। এর সঙ্গে আক্রান্ত স্থানে লালচে বা বাদামি দাগ, খসখসে ত্বক, চামড়া ওঠা, জ্বালাপোড়া কিংবা ফাটল দেখা দিতে পারে।
শরীরের দাদের ক্ষেত্রে দাগটি ধীরে ধীরে বাইরের দিকে বাড়তে পারে। নখে সংক্রমণ হলে নখ মোটা, বিবর্ণ, ভঙ্গুর বা ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
তবে একজিমা, অ্যালার্জি, সোরিয়াসিসসহ বিভিন্ন রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। ফলে শুধু উপসর্গ দেখে নিজে নিজে ছত্রাকের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়।
চিকিৎসা কী
ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসা নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন, স্থান ও বিস্তৃতির ওপর। ত্বকের সীমিত সংক্রমণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা হয়।
সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়লে, বারবার হলে অথবা মাথার ত্বক ও নখ আক্রান্ত হলে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম বা স্টেরয়েড-অ্যান্টিফাঙ্গাল মিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। এসব ক্রিমে সাময়িকভাবে চুলকানি কমলেও সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং রোগের প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়ে চিকিৎসা জটিল হতে পারে।
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, রেজিস্ট্রার, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা
গর্ভাবস্থায় চুলকানি হলে করণীয়