বেশির ভাগ অপরাধের মূলে রয়েছে মাদক–জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
· Prothom Alo

সমাজে সংঘটিত বেশির ভাগ ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়া মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শুধু অপরাধীকে সাজা দিলেই হবে না। কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনা গেলে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব।
সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন অপরাধ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা জরুরি।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অপরাধের মূল কারণ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ একটি বাহ্যিক উপসর্গ। এর মূল কারণ অনুসন্ধান করে গোড়ায় আঘাত করতে হবে। অপরাধ দমনে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।
অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ, অপরাধী, অপরাধবিজ্ঞান, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—সবকিছু গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ কারণে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তথ্য দেওয়া এবং পরামর্শের জন্য ক্র্যাবের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৩১৮ পেশাদার সদস্য নিয়ে ৪৩ বছরের যাত্রায় ক্র্যাব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। ক্রাইম রিপোর্টারদের পেশাগত ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব ক্রাইম রিপোর্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হন, তাঁদের সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
পেশাগত শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করলে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। রাষ্ট্র যা চায় এবং সমাজ যা আশা করে, তা বাস্তবায়নে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
অ্যাসিড অপরাধ দমনের উদাহরণ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে অ্যাসিড নিক্ষেপ রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কঠোর আইন, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা ও সামাজিক সচেতনতার সম্মিলিত প্রয়াসে দেশে অ্যাসিড–সম্পর্কিত অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূলেও সাংবাদিক, রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনি কাঠামো সংস্কারের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো আইন আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। ১৮৬৭ সালের গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট পরিবর্তন করে ডিজিটাল স্পেসে অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
দুর্বল আইনের ফাঁক গলে যাতে অপরাধীরা পার পেতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।
পরে কেক কেটে ক্র্যাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।