আমি প্রেমে পড়েছি, প্রেমও করেছি—শেষে হেনাকে সুখে থাকার সুযোগ করে দিয়েছি —বাপ্পারাজ

· Prothom Alo

চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ, দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমায় অভিনয় করছেন। তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আলোচনা। বুধবার রাতে তিনি মুখোমুখি হলেন রস+আলোর। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের।

Visit mwafrika.life for more information.

একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে চাই আপনার কাছে, হেনা আসলে কোথায়?

হেনা (শাবনাজ) তো নাইমের ছিল, নাইমের কাছেই সুখে আছে। আমি তো আর সুখের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াইনি! আমি প্রেমে পড়েছি, প্রেমও করেছি—শেষে হেনাকে সুখে থাকার সুযোগ করে দিয়েছি।

এত বছর অভিনয় করেও হেনার সন্ধান পেলেন না—এটা কি অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা?

আরে...ব্যর্থতা হবে কেন! এটাই আমার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা! আমি তো দিলদরিয়া মানুষ—চাইলেই দিয়ে দিই! আমি মানুষকে ধরে রাখি না, ছেড়ে দিয়ে ইতিহাস তৈরি করি!

‘মানুষ মূলত বাপ্পারাজ’—এই কথা কি সত্যি?

একদমই তাই! মানুষ তাঁর ছায়ায় আমাকে দেখে। উনি ছায়া দিলে আমি তাতেই রোদ পোহাই!

সবাই সুখে থাকলে আপনার বুকে আগুন জ্বলে কেন?

কারণ আমি অন্য কাউকে জ্বলতে দিই না। আমি নিজেই প্রদীপের মতো জ্বলি, চারপাশে আলো বিলাই। পার্থক্য একটাই—প্রদীপে তেল লাগে, আর আমার লাগে প্রেমের কষ্ট!

অন্যের সুখ দেখে বুকে আগুন জ্বলে, নাকি নিজের পুরোনো প্রেমের কথা মনে পড়ে?

অন্যের সুখ দেখে আমার বুকে আগুন জ্বলে না, বরং খুশি হই। যাকে ভালোবাসি, তার সুখটাই তো আসল—সে আমার সঙ্গে সুখী থাকলে ভালো কথা; কিন্তু আপনার সঙ্গে সুখী হলে আমি কী করব? সুখে থাকাটাই মেইন কনসার্ন! শুধু আমার কাছে না থাকলেই যে তার সুখ নিষিদ্ধ—এমন কোনো আইন তো নাই!

নায়ক–চাবুক দুটোই বদলাতে পারে, কিন্তু ওমর সানী বদলায় না —ওমর সানীআপনি কত পার্সেন্ট বাঙালিশাহবাগ ব্লকেড

আপনাকে নিয়ে যে এত মিম বানানো হয়, কেমন লাগে?

খুব মজা লাগে! মানুষ এত বছরেও আমাকে ভোলেনি—মিম বানাচ্ছে! তার মানে আমি মানুষের মাথায়ও আছি, মনেও আছি। আসলে বাপ্পারাজকে মানুষ শুধু সিনেমায় দেখে নাই, মনের মধ্যেও জমা করে রেখেছে! 

কখনো কি মনে হয়েছে, আপনার অভিনয়ের চেয়ে মিমেই মানুষ আপনাকে বেশি মনে রাখছে?

অভিনয়টা করতে পেরেছি বলেই তো মিম হয়! আগে বাপ্পারাজ হয়েছে, তারপর মিম হয়েছে। বাপ ছিল বলেই তো বাচ্চা হয়েছে—বাপ না থাকলে বাচ্চা পেত কীভাবে!

এমন কোনো মিম আছে, যেটা দেখে মনে হয়েছে—‘আরে, এই কথাটা তো আমি নিজেও জানতাম না!’

এ রকম কিছু মনে হয় না। সবই তো আমার চোখের সামনেই ঘটছে! মিম দেখে বরং মনে হয়—আরে, এসব তো আমিই করছি! মানুষ মিম বানাচ্ছে, আর আমি বসে বসে নিজেরই জীবনের হাইলাইটস দেখছি।

‘প্রেমের সমাধি ভেঙে’ গানের মতো প্রেমিকার জন্য সত্যি সত্যি কখনো মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে কেঁদেছেন?

প্রেমিকার জন্য আমি কোনো দিন গড়াগড়ি খাইনি। বরং আমার জন্য প্রেমিকা গড়াগড়ি খেয়ে আমার কাছে এসেছে! 

আমার চিন্তা— রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো! মিশা সওদাগরহরেক রকম মিঁয়াও

বাংলা সিনেমায় সব সময় আপনিই ধোঁকা খান কেন?

ওটা আসলে ধোঁকা না, আমি হলাম স্যাক্রিফাইস ক্যারেক্টার। আমি ছেড়ে দিই বলেই ওরা পায়। আমাকে এটাও বলা যেতে পারে, আমি প্রেমের সমাজসেবক!

বাস্তব জীবনেও কি প্রেমে ধোঁকা খাওয়ার কোনো ‘অভিজ্ঞতা’ আছে, নাকি সবই পরিচালকের কৃতিত্ব?

একদমই না! বাস্তব জীবনে আমি এসব খাই না। প্রেমে ধোঁকা খাওয়ানোর কারসাজিটা পরিচালকের—ক্যামেরা, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আর একটা ‘কাট’ বললেই সব শেষ!

স্যাড হিরো বাপ্পারাজ নাকি ভিলেন বাপ্পারাজ—কাকে দশে দশ দেবেন?

দশে দশ তো দূরের কথা, নাম্বারই দেব না। দুজনই আমার নিজের—একজনকে বেশি দিলে আরেকজন অভিমান করবে!

[এই সাক্ষাৎকার কাল্পনিক নয়!]

Read full story at source